লিড
বলিউডে কাজ করার সময় নিজের চেহারা নিয়ে বারবার চাপে পড়তে হয়েছে—এমনই অভিজ্ঞতার কথা খোলাখুলি জানিয়েছেন অভিনেত্রী সামীরা রেড্ডি। ফর্সা দেখানোর জন্য বাধ্য হয়ে মেকআপ করা থেকে শুরু করে শরীর নিয়ে অপমান—সবই উঠে এসেছে তাঁর সাম্প্রতিক কথায়।
মাতৃত্বের পর মানসিক লড়াই
মা হওয়ার পর সময়টা সহজ ছিল না সামীরার জন্য। সন্তান জন্মের পর ওজন বেড়ে যাওয়া তাঁর আত্মবিশ্বাসে বড় আঘাত করে। তিনি জানান, সেই সময় নিজেকে খুব একা মনে হতো। চারপাশে বিচার-বিশ্লেষণ আর মন্তব্য তাঁকে আরও ভেঙে দেয়।
তবে সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, অন্য কেউ যেন এমন পরিস্থিতিতে একা না পড়ে—সে জন্য পাশে দাঁড়াতে চান তিনি।

ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সৌন্দর্য চাপ
ক্যারিয়ারের শুরুতেই সৌন্দর্য নিয়ে কঠোর মানদণ্ডের মুখোমুখি হন সামীরা। তিনি জানান, তাঁকে নিয়মিত ফর্সা দেখানোর জন্য শরীরেও মেকআপ করতে বাধ্য করা হতো। শুধু তাই নয়, তাঁকে বারবার বোঝানো হতো তিনি যথেষ্ট রোগা নন।
নিজের উচ্চতা নিয়েও কটাক্ষের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। তাঁর কথায়, অভিনয় বা প্রতিভার বদলে তাঁর শরীরের গঠন নিয়েই বেশি আলোচনা হতো—যা তাঁর মনে দীর্ঘদিন প্রভাব ফেলেছে।
ট্রলিং ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া
সামাজিক মাধ্যমে ফেরার পরও সমালোচনা থামেনি। স্বাভাবিক চেহারা গ্রহণ করায় তাঁকে নানা মন্তব্যের মুখে পড়তে হয়। অনেকে বলেছিলেন, মা হওয়ার পর আগের জায়গায় ফেরা সম্ভব নয়।

তবে সময়ের সঙ্গে এসব মন্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া বন্ধ করেছেন তিনি। এখন নিজের মতো করে জায়গা তৈরি করেছেন, যেখানে ইতিবাচক মানুষেরাই থাকেন।
ক্যারিয়ার নিয়ে দ্বিধা
মা হওয়ার পর সিনেমা থেকে দূরে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঝেমধ্যে প্রশ্ন জাগে তাঁর মনে। তবুও তিনি মেনে নিয়েছেন, জীবনের এই পথটাই তাঁর জন্য ঠিক ছিল।
শিল্পের বদল দরকার
অতীতের অভিজ্ঞতার দিকে তাকিয়ে সামীরা মনে করেন, বলিউডে সৌন্দর্যের সংজ্ঞা বদলানো জরুরি। শুধুমাত্র চেহারা নয়, প্রতিভা ও ব্যক্তিত্বকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















