১২:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬
ফেরারির বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘লুচে’ ঘিরে বিতর্ক, ভক্তদের ক্ষোভে চাপে কিংবদন্তি ব্র্যান্ড ইলন মাস্কের রাজনীতি নিয়ে বিতর্ক, প্রযুক্তির নায়ক নাকি বিভাজনের মুখ? ট্রাম্পের শরণার্থী নীতিতে অগ্রাধিকার আফ্রিকানারদের, বাদ পড়ছেন অন্যরা ম্যানাম্বেরি সেতু: মাদাগাস্কারের ভ্যানিলা অর্থনীতির নীরব জীবনরেখা কানাডার নতুন নাগরিকত্ব আইনে আগ্রহ বাড়ছে মার্কিনদের, আবেদন অনুমোদনে বড় উল্লম্ফন শাংরি-লা সংলাপে চীনের অনুপস্থিতি ঘিরে প্রশ্ন, এশিয়ার নিরাপত্তা আলোচনায় নতুন বিতর্ক চীনের ‘নতুন সামরিকীকরণ’ অভিযোগ উড়িয়ে দিল জাপান, পাল্টা দ্রুত অস্ত্র সম্প্রসারণের অভিযোগ বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্যাটুশিল্পীদের দীর্ঘ লড়াইয়ের জয়, তিন দশকের নিষেধাজ্ঞার অবসান অকাস জোটের নতুন পদক্ষেপ: সমুদ্রতলের ড্রোন প্রযুক্তি আনছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া ডিজিটাল যুগে ভারতের জনশুমারি: ডাকটিকিট থেকে স্মার্টফোনে দীর্ঘ যাত্রা

সিজন ৩ আসছে, তবু ‘ইউফোরিয়া’ সিজন ৪-এর পরিকল্পনা নেই—এতে আজকের প্রেস্টিজ টিভির বাস্তবতাই স্পষ্ট

সাফল্য মানেই দীর্ঘায়ু নয়

৮ এপ্রিল রোলিং স্টোনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “Euphoria” নির্মাতা স্যাম লেভিনসনের বর্তমানে চতুর্থ সিজনের কোনো পরিকল্পনা নেই, যদিও সিরিজটির তৃতীয় সিজন ১২ এপ্রিল মুক্তি পাওয়ার কথা। কয়েক বছর আগেও এমন খবর অদ্ভুত শোনাত। একটি বহুল আলোচিত এইচবিও সিরিজ, যার বৈশ্বিক দর্শক আছে, দৃশ্যমান সাংস্কৃতিক প্রভাব আছে, এবং তরুণ দর্শকের মধ্যে শক্ত উপস্থিতি আছে—এমন শো সাধারণত যত দিন আগ্রহ থাকে, তত দিন এগিয়ে যাবে বলেই ধরা হতো। এখন সেই নিশ্চয়তা আর নেই।

ইউফোরিয়ার অবস্থান বোঝার জন্য বর্তমান টেলিভিশন শিল্পের বদলটা দেখতে হয়। বড় সিরিজ এখনো গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেগুলোকে আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহু সিজন চালিয়ে নেওয়ার মতো প্রকল্প হিসেবে দেখা হয় না। প্রযোজনার বিলম্ব, বড় বাজেট, তারকাদের সময়সূচি, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের কৌশল বদল, দর্শকের মনোযোগের খণ্ডিত হয়ে যাওয়া—সব মিলিয়ে এখন একটি হিট শোর ভবিষ্যৎও অনেক বেশি অনিশ্চিত। অর্থাৎ, জনপ্রিয়তা থাকলেই ধারাবাহিকতা নিশ্চিত হয় না।

ইউফোরিয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি কেবল একটি টিন ড্রামা নয়। সিরিজটি ফ্যাশন, সোশ্যাল মিডিয়া, তরুণদের মানসিক অস্থিরতা, সম্পর্ক, অতিরিক্ততার সংস্কৃতি—এসব নিয়ে বড় আলোচনা তৈরি করেছে। এটি এক অর্থে স্ক্রিনের বাইরেও বেঁচে থাকা একটি সাংস্কৃতিক পণ্য। এমন শোগুলোকে প্রায়ই স্থায়ী বলে মনে হয়, কারণ এগুলো নেটওয়ার্কের বাইরে গিয়ে জনআলোচনার অংশ হয়ে ওঠে। কিন্তু সাংস্কৃতিক দৃশ্যমানতা অনেক সময় প্রযোজনাগত বাস্তবতা ঢেকে রাখে।

HBO Boss Gets Real About Euphoria' Having 'Legitimate Movie Stars' While  Weighing In On The Possibility Of Season 4 | Cinemablend

লেভিনসনের মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন নতুন সিজন আসার আগে দর্শকের আগ্রহ আবার বাড়ছে। দীর্ঘ বিরতির পর একটি সিরিজ ফিরলে সাধারণত মানুষ ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবতে শুরু করে। ফলে “সিজন ৪-এর পরিকল্পনা নেই” ধরনের বক্তব্য সহজেই দুইভাবে পড়া যায়। কেউ এটিকে স্বাভাবিক সাবধানতা হিসেবে নেবে। আবার কেউ ভাববে, হয়তো শোটি ধীরে ধীরে শেষ অধ্যায়ের দিকেই যাচ্ছে। এই অনিশ্চয়তাই এখন বড় টিভি প্রযোজনার নতুন বাস্তবতা।

এটি শুধু ইউফোরিয়ার গল্প নয়

বড় ছবিতে এই খবরটি প্রেস্টিজ টিভির বর্তমান অবস্থা নিয়ে অনেক কিছু বলে। এখন প্ল্যাটফর্মগুলো বড় বাজেটের শো চালিয়ে যেতে আগের চেয়ে বেশি হিসাব করছে। স্রষ্টারাও ভাবছেন, গল্প আরও এগোবে কি না, নাকি সবচেয়ে ভালো অবস্থাতেই থামা উচিত। দর্শকও আগের মতো ধৈর্যশীল নয়। ফলে আজকের প্রশ্ন শুধু ‘শোটি জনপ্রিয় কি না’—এতে সীমাবদ্ধ থাকে না। প্রশ্ন হলো, সেটিকে আরও চালিয়ে নেওয়া শিল্পগত, অর্থনৈতিক এবং লজিস্টিক অর্থে যুক্তিসঙ্গত কি না।

Euphoria Review: You Who Cannot See, Think of Those Who Can (Season 2  Episode 4)

এর একটি ইতিবাচক দিকও আছে। অনেক জনপ্রিয় সিরিজ এমন পর্যায়ে গিয়ে দুর্বল হয়েছে, যখন আসলে তাদের থেমে যাওয়া উচিত ছিল। সেই দিক থেকে অনিশ্চয়তা কখনো কখনো অতিরিক্ত দীর্ঘায়ু ঠেকায়। তবে বিপরীত দিকও আছে। দর্শক যখন কোনো সিরিজে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করে, তখন অনির্ধারিত অবস্থাও হতাশা তৈরি করে। খুব দেরিতে শেষ করাও ক্ষতিকর, আবার অনেক দিন ঝুলিয়ে রাখাও ক্ষতিকর। আজকের টিভি বাজারে এই দুই বিপদই একসঙ্গে আছে।

এই কারণে ৮ এপ্রিলের আপডেটটি নিছক তারকা-খবর নয়। এটি দেখায়, প্রেস্টিজ ড্রামা এখনো সাংস্কৃতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে পারে, কিন্তু সেখান থেকেও তার ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হয় না। স্ট্রিমিং যুগে বড় শোগুলোকেও এখন আগের চেয়ে বেশি কঠিন অর্থনীতি, বেশি কৌশলগত সাবধানতা এবং বেশি সৃজনশীল দ্বিধার মধ্যে দিয়ে চলতে হয়। ইউফোরিয়ার অনিশ্চয়তা তাই ব্যতিক্রম নয়; সম্ভবত এটাই নতুন নিয়ম।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেরারির বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘লুচে’ ঘিরে বিতর্ক, ভক্তদের ক্ষোভে চাপে কিংবদন্তি ব্র্যান্ড

সিজন ৩ আসছে, তবু ‘ইউফোরিয়া’ সিজন ৪-এর পরিকল্পনা নেই—এতে আজকের প্রেস্টিজ টিভির বাস্তবতাই স্পষ্ট

০২:৩০:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

সাফল্য মানেই দীর্ঘায়ু নয়

৮ এপ্রিল রোলিং স্টোনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “Euphoria” নির্মাতা স্যাম লেভিনসনের বর্তমানে চতুর্থ সিজনের কোনো পরিকল্পনা নেই, যদিও সিরিজটির তৃতীয় সিজন ১২ এপ্রিল মুক্তি পাওয়ার কথা। কয়েক বছর আগেও এমন খবর অদ্ভুত শোনাত। একটি বহুল আলোচিত এইচবিও সিরিজ, যার বৈশ্বিক দর্শক আছে, দৃশ্যমান সাংস্কৃতিক প্রভাব আছে, এবং তরুণ দর্শকের মধ্যে শক্ত উপস্থিতি আছে—এমন শো সাধারণত যত দিন আগ্রহ থাকে, তত দিন এগিয়ে যাবে বলেই ধরা হতো। এখন সেই নিশ্চয়তা আর নেই।

ইউফোরিয়ার অবস্থান বোঝার জন্য বর্তমান টেলিভিশন শিল্পের বদলটা দেখতে হয়। বড় সিরিজ এখনো গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেগুলোকে আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহু সিজন চালিয়ে নেওয়ার মতো প্রকল্প হিসেবে দেখা হয় না। প্রযোজনার বিলম্ব, বড় বাজেট, তারকাদের সময়সূচি, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের কৌশল বদল, দর্শকের মনোযোগের খণ্ডিত হয়ে যাওয়া—সব মিলিয়ে এখন একটি হিট শোর ভবিষ্যৎও অনেক বেশি অনিশ্চিত। অর্থাৎ, জনপ্রিয়তা থাকলেই ধারাবাহিকতা নিশ্চিত হয় না।

ইউফোরিয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি কেবল একটি টিন ড্রামা নয়। সিরিজটি ফ্যাশন, সোশ্যাল মিডিয়া, তরুণদের মানসিক অস্থিরতা, সম্পর্ক, অতিরিক্ততার সংস্কৃতি—এসব নিয়ে বড় আলোচনা তৈরি করেছে। এটি এক অর্থে স্ক্রিনের বাইরেও বেঁচে থাকা একটি সাংস্কৃতিক পণ্য। এমন শোগুলোকে প্রায়ই স্থায়ী বলে মনে হয়, কারণ এগুলো নেটওয়ার্কের বাইরে গিয়ে জনআলোচনার অংশ হয়ে ওঠে। কিন্তু সাংস্কৃতিক দৃশ্যমানতা অনেক সময় প্রযোজনাগত বাস্তবতা ঢেকে রাখে।

HBO Boss Gets Real About Euphoria' Having 'Legitimate Movie Stars' While  Weighing In On The Possibility Of Season 4 | Cinemablend

লেভিনসনের মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন নতুন সিজন আসার আগে দর্শকের আগ্রহ আবার বাড়ছে। দীর্ঘ বিরতির পর একটি সিরিজ ফিরলে সাধারণত মানুষ ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবতে শুরু করে। ফলে “সিজন ৪-এর পরিকল্পনা নেই” ধরনের বক্তব্য সহজেই দুইভাবে পড়া যায়। কেউ এটিকে স্বাভাবিক সাবধানতা হিসেবে নেবে। আবার কেউ ভাববে, হয়তো শোটি ধীরে ধীরে শেষ অধ্যায়ের দিকেই যাচ্ছে। এই অনিশ্চয়তাই এখন বড় টিভি প্রযোজনার নতুন বাস্তবতা।

এটি শুধু ইউফোরিয়ার গল্প নয়

বড় ছবিতে এই খবরটি প্রেস্টিজ টিভির বর্তমান অবস্থা নিয়ে অনেক কিছু বলে। এখন প্ল্যাটফর্মগুলো বড় বাজেটের শো চালিয়ে যেতে আগের চেয়ে বেশি হিসাব করছে। স্রষ্টারাও ভাবছেন, গল্প আরও এগোবে কি না, নাকি সবচেয়ে ভালো অবস্থাতেই থামা উচিত। দর্শকও আগের মতো ধৈর্যশীল নয়। ফলে আজকের প্রশ্ন শুধু ‘শোটি জনপ্রিয় কি না’—এতে সীমাবদ্ধ থাকে না। প্রশ্ন হলো, সেটিকে আরও চালিয়ে নেওয়া শিল্পগত, অর্থনৈতিক এবং লজিস্টিক অর্থে যুক্তিসঙ্গত কি না।

Euphoria Review: You Who Cannot See, Think of Those Who Can (Season 2  Episode 4)

এর একটি ইতিবাচক দিকও আছে। অনেক জনপ্রিয় সিরিজ এমন পর্যায়ে গিয়ে দুর্বল হয়েছে, যখন আসলে তাদের থেমে যাওয়া উচিত ছিল। সেই দিক থেকে অনিশ্চয়তা কখনো কখনো অতিরিক্ত দীর্ঘায়ু ঠেকায়। তবে বিপরীত দিকও আছে। দর্শক যখন কোনো সিরিজে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করে, তখন অনির্ধারিত অবস্থাও হতাশা তৈরি করে। খুব দেরিতে শেষ করাও ক্ষতিকর, আবার অনেক দিন ঝুলিয়ে রাখাও ক্ষতিকর। আজকের টিভি বাজারে এই দুই বিপদই একসঙ্গে আছে।

এই কারণে ৮ এপ্রিলের আপডেটটি নিছক তারকা-খবর নয়। এটি দেখায়, প্রেস্টিজ ড্রামা এখনো সাংস্কৃতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে পারে, কিন্তু সেখান থেকেও তার ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হয় না। স্ট্রিমিং যুগে বড় শোগুলোকেও এখন আগের চেয়ে বেশি কঠিন অর্থনীতি, বেশি কৌশলগত সাবধানতা এবং বেশি সৃজনশীল দ্বিধার মধ্যে দিয়ে চলতে হয়। ইউফোরিয়ার অনিশ্চয়তা তাই ব্যতিক্রম নয়; সম্ভবত এটাই নতুন নিয়ম।