কান চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক লাইনআপ প্রকাশের পরই পরিষ্কার হয়েছে, এ বছর উৎসবটি বড় স্টুডিওনির্ভর হলিউডের চেয়ে আন্তর্জাতিক আর্টহাউস সিনেমার দিকেই বেশি ঝুঁকছে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার স্টুডিওগুলো এখন এক ধরনের রূপান্তরপর্বের মধ্যে আছে। ফলে আগের তুলনায় তাদের উপস্থিতি কম, কিন্তু সেই শূন্যতা পূরণ করছে ইউরোপ, এশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলের নামী নির্মাতারা।
এবারের প্রতিযোগিতা বিভাগে ২১টি চলচ্চিত্র জায়গা পেয়েছে। তালিকায় আছেন পেদ্রো আলমোদোভার, হিরোকাজু কোরে-এদা, ক্রিস্টিয়ান মুঙ্গিউ এবং পাওয়েল পাভলিকোভস্কির মতো প্রতিষ্ঠিত নির্মাতারা। পাঁচটি চলচ্চিত্র নারী নির্মাতাদের, যা প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নেও আলোচনায় এসেছে। জুরির সভাপতির দায়িত্বে থাকছেন দক্ষিণ কোরিয়ার নির্মাতা পার্ক চান-উক। সব মিলিয়ে, এ বছরের কান শুধু চলচ্চিত্র উৎসব নয়, বৈশ্বিক মর্যাদাপূর্ণ সিনেমার শক্তির মানচিত্রও তুলে ধরছে।

বিশ্ব সিনেমার দিকে ঝোঁক
উৎসবের এই নির্বাচন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আন্তর্জাতিক বাজারে গম্ভীর, নির্মাতা-কেন্দ্রিক সিনেমার চাহিদা এখনও শক্তিশালী। যখন হলিউড বক্স অফিস অনিশ্চয়তা, স্ট্রিমিং রদবদল এবং বিনিয়োগ-সতর্কতার মধ্যে আছে, তখন কান আবারও নিজেকে বিশ্ব আর্টহাউস সিনেমার সবচেয়ে বড় প্রদর্শনীমঞ্চ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছে।
পুরস্কার মৌসুমেরও ইঙ্গিত
কানের লাইনআপ সাধারণত পরবর্তী কয়েক মাসের পুরস্কার-দৌড়, আন্তর্জাতিক বিক্রি এবং সমালোচনামূলক আলোচনার দিকনির্দেশ দেয়। তাই এই তালিকা প্রকাশকে শুধু উৎসব-সংবাদ হিসেবে নয়, বৈশ্বিক চলচ্চিত্র অর্থনীতি ও রুচির প্রবণতা বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ধরা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















