মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের আধিপত্যে বিভক্ত এক বিশ্বব্যবস্থায় জাপানের সামনে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ হলো—জোটকে আরও গভীর করা, অর্থনৈতিক সম্পর্ককে বৈচিত্র্যময় করা এবং এশিয়ায় নমনীয়, বাস্তববাদী কূটনীতি ধরে রাখা। জাপানের কৌশল কোনো পূর্ণ স্বাধীন সামরিক অবস্থান নয়, চীনের সঙ্গে সর্বাত্মক সংঘাতও নয়; বরং দ্বিমেরু বিশ্বে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ মধ্যম শক্তি হিসেবে টিকে থাকার পথ।
বহুমেরু বিশ্বের কথা যতই বলা হোক, জাপানের জন্য বাস্তবতা এখনো অনেক সরল। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা প্রধানত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে কেন্দ্র করেই গঠিত। জেনিফার লিন্ড, যিনি “Autocracy 2.0: How China’s Rise Reinvented Tyranny” বইয়ের লেখক, যুক্তি দিয়েছেন—পূর্ণাঙ্গ মহাশক্তি হওয়ার মতো অর্থনৈতিক, সামরিক, প্রযুক্তিগত ও কূটনৈতিক পরিসর এখন কেবল ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়েরই আছে। ২০২৫ সালের এশিয়া পাওয়ার ইনডেক্সও প্রায় একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। ভারত উঠছে, রাশিয়া পারমাণবিক শক্তি হিসেবে ঝুঁকি তৈরি করছে, ইউরোপ অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু সব মাত্রায় পূর্ণ শক্তি আছে কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের।
এই বাস্তবতা টোকিওর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাপান এখনো বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি, যার আকার প্রায় ৪ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার। কিন্তু তা চীনের প্রায় ১৮ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির মাত্র ২২ শতাংশ। এমনকি ভারতের প্রায় ৩ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির সঙ্গে জাপানের অর্থনীতি যোগ করলেও মোট পরিমাণ দাঁড়ায় চীনের অর্থনীতির মাত্র ৪৪ শতাংশ।
প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রেও একই সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট। জাপানের প্রতিরক্ষা ব্যয় প্রায় ৫৫ বিলিয়ন ডলার এবং তা বাড়ছে। জাপান যদি মোট দেশজ উৎপাদনের ৩ শতাংশও প্রতিরক্ষায় ব্যয় করে, তবু সেটি দাঁড়াবে প্রায় ১২৩ বিলিয়ন ডলারে। কিন্তু চীনের সামরিক ব্যয় স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হিসাবে প্রায় ২৯২ বিলিয়ন থেকে ৩১৪ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে। জনবলেও ব্যবধান বড়। চীনের সক্রিয় সামরিক সদস্য প্রায় ২৩ লাখ ৫০ হাজার, আর জাপানের প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার।
অতএব, জাপান আরও সক্ষম ও স্থিতিস্থাপক হতে পারে, কিন্তু কৌশলগতভাবে পুরোপুরি স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে না।
এই কারণেই যুক্তরাষ্ট্র-জাপান জোট টোকিওর জন্য অপরিহার্য। চীনের নৌ ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে। চীনের নৌবহরে প্রায় ৩৭০টি জাহাজ রয়েছে, যেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ সংখ্যা প্রায় ২৯৫। পূর্ব চীন সাগর ও তাইওয়ান ঘিরে প্রতিরোধ কৌশলকে এটি আরও জটিল করে তুলেছে। চীনের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বর্তমানে চীনের পারমাণবিক ওয়ারহেড প্রায় ৫০০ বলে ধারণা করা হয় এবং মার্কিন মূল্যায়নে ২০৩০ সালের মধ্যে তা ১ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এতে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রসারিত প্রতিরোধ ব্যবস্থাও আরও জটিল হয়ে উঠছে।
এই প্রেক্ষাপটে জাপানের প্রতিরক্ষা ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের ২ শতাংশের দিকে নেওয়া সামরিকতাবাদ নয়। বরং এটি দীর্ঘদিনের প্রয়োজনীয় দায়িত্ব ভাগাভাগির অংশ, যেখানে আঞ্চলিক প্রতিরোধের সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তি এখনো যুক্তরাষ্ট্র-জাপান জোট।

তবে শুধু জোটের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না। ট্রাম্প যুগের একটি বড় শিক্ষা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি এখনো বিপুল হলেও তার নীতির পূর্বানুমানযোগ্যতা দুর্বল হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি প্রায় ২৮ ট্রিলিয়ন ডলারের, ২০২৫ সালে প্রতিরক্ষায় ব্যয় ছিল প্রায় ৯১৬ বিলিয়ন ডলার এবং ডলার ব্যবস্থার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের প্রায় ৮৮ শতাংশে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখে। কিন্তু একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ঋণ মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১২৩ শতাংশ, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মেরুকরণ গভীর এবং মিত্রদের বিরুদ্ধেও শুল্ক ও অর্থনৈতিক চাপ ব্যবহারের প্রবণতা দেখা গেছে।
জাপানের জন্য এর অর্থ হলো—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোটকে শুধু ধরে রাখলেই হবে না, তাকে আরও গভীর ও বিস্তৃত করতে হবে। সামরিক জরুরি পরিস্থিতির বাইরে প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা—এসব ক্ষেত্রেও সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে হবে।
এখানেই জাপানের নীরব কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কৌশল—নির্বাচিত বৈচিত্র্যকরণ। চীন এখনো অঞ্চলের বেশিরভাগ দেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার এবং বৈশ্বিক উৎপাদন নেটওয়ার্কের কেন্দ্র। জাপান এই বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে না। তবে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে “চীনে তৈরি করে বিশ্বে বিক্রি” মডেল থেকে সরে এসে “চীনে, চীনাদের মাধ্যমে, চীনা বাজারের জন্য উৎপাদন” মডেলের দিকে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সরবরাহ শৃঙ্খলের কিছু অংশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ায় সরিয়ে নিচ্ছে।
এটি আদর্শগত বিচ্ছিন্নতা নয়; এটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা।
আঞ্চলিক ধারণায় চীনের প্রতি অবিশ্বাস এখনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে ২০২৬ সালের আইএসইএএস-ইউসুফ ইশাক ইনস্টিটিউটের স্টেট অব সাউথইস্ট এশিয়া জরিপে দেখা যায়, চীনের প্রতি আস্থার হার বেড়ে ৩৯ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০১৯ সালের পর প্রথমবারের মতো অবিশ্বাসের হার ৩৫ দশমিক ২ শতাংশকে ছাড়িয়েছে। কিন্তু এই পরিবর্তন শুধু বেইজিং সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণার কারণে হয়নি; ওয়াশিংটনের অনিশ্চয়তা নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে।
জাপানের জনমত অবশ্য চীন সম্পর্কে অনেক বেশি সতর্ক ও হতাশাবাদী, যদিও অর্থনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বকে তারা অস্বীকার করে না। পুরো অঞ্চলজুড়েই সরকারগুলো এখন একদিকে অর্থনৈতিক যোগাযোগ চালু রাখতে চাইছে, অন্যদিকে কৌশলগত দুর্বলতা কমাতে চাইছে।
এই উদ্বেগ কেবল তাত্ত্বিক নয়। অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউট ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ২৭টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর চীনা চাপের ১৫২টি ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। অস্ট্রেলিয়ার ওপর রাজনৈতিক বিরোধের পর বার্লিতে ৮০ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত এবং ওয়াইনে ২১৮ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। হুয়াওয়ের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ও বোর্ডের উপপ্রধান মেং ওয়ানঝুর গ্রেপ্তারের পর কানাডার নাগরিক মাইকেল কোভরিগ ও মাইকেল স্পাভরকে ১ হাজার দিনের বেশি আটক রাখা হয়েছিল। লিথুয়ানিয়া তাইওয়ানের প্রতিনিধি কার্যালয়ে “তাইওয়ান” নাম ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পর শুধু দ্বিপক্ষীয় চাপ নয়, বিস্তৃত সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্নেরও মুখে পড়ে।
জাপানের জন্য এসব ঘটনা একটি মৌলিক সত্য তুলে ধরে—স্থিতিস্থাপকতা ছাড়া অর্থনৈতিক আন্তঃনির্ভরতা কৌশলগত দুর্বলতায় পরিণত হতে পারে।
তবে টোকিওর এটিও ধরে নেওয়া উচিত নয় যে চীনের দুর্বলতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাপানের সুবিধায় পরিণত হবে। চীন গুরুতর কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মুখে আছে। দেশটির আবাসন খাত মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৩০ শতাংশ। স্থানীয় সরকারের ঋণ প্রায় ৮ ট্রিলিয়ন থেকে ১৩ ট্রিলিয়ন ডলারের মধ্যে বলে ধারণা করা হয়। চীনের অভ্যন্তরীণ ভোগ মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৫৪ শতাংশ, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে তা প্রায় ৬৮ শতাংশ। ২০৫০ সালের মধ্যে চীনের কর্মক্ষম বয়সী জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটি কমে যেতে পারে।
দুর্বল সফট পাওয়ার, ভোগ প্রবৃদ্ধির ধীরগতি এবং অদক্ষ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এই চাপকে আরও বাড়াচ্ছে। কিন্তু একটি দুর্বল বা ভঙ্গুর চীন জাপানকে অবশ্যই নিরাপদ করবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং তা বিদেশে আরও ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ, বেশি চাপ প্রয়োগ বা এমন এক অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে, যার ওপর জাপান এখনো নির্ভরশীল।
এই কারণেই জাপানের বিস্তৃত কূটনীতি গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে টোকিওর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ১৯৭৭ সালের ফুকুদা ডকট্রিন থেকে শুরু, যা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তাকেও ফুকুদার ভাষণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল। পরে তা “মূল্যভিত্তিক কূটনীতি”র মাধ্যমে নতুনভাবে রূপ পায়। এই ধারাবাহিকতা জাপানকে আঞ্চলিক আস্থা অর্জনে সহায়তা করেছে, যা চীন পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি।
কিছু চীনা বিশ্লেষকের মতে, জাপানের এই কৌশল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার ওপর জোর দিয়ে চীনের প্রতি আস্থা কমানোর চেষ্টা করে। এর মধ্যে কিছু সত্য থাকতে পারে। কারণ আঞ্চলিক দেশগুলো যখন জাপানকে বেশি পূর্বানুমানযোগ্য ও কম চাপ প্রয়োগকারী অংশীদার হিসেবে দেখে, তখন টোকিও লাভবান হয়।
তবে জাপানকে সতর্ক থাকতে হবে। যদি মূল্যভিত্তিক কূটনীতি চীনের বিরুদ্ধে আদর্শগত প্রচারণা হিসেবে দেখা যায়, তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সেই দেশগুলো দূরে সরে যেতে পারে, যারা স্বায়ত্তশাসন ও কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখতে চায়।
এর বদলে জাপান যদি বাস্তব সুবিধার ওপর জোর দেয়—উন্নয়ন সহায়তা, অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য সহযোগিতা এবং পূর্বানুমানযোগ্য নিয়ম—তাহলে আঞ্চলিক দেশগুলোর কাছে তা আকর্ষণীয় থাকবে, তাদের বাধ্যতামূলকভাবে কোনো এক পক্ষ বেছে নিতে হবে না।
জাপানের জন্য কৌশলগত উত্তর তাই জোট থেকে স্বাধীনতা নয়, চীনের সঙ্গে সর্বোচ্চ মাত্রার সংঘাত নয়, আবার মহাশক্তির প্রতিযোগিতা থেকে বহুমেরু পালানোর কল্পনাও নয়। বরং এটি দ্বিমেরু বিশ্বে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ মধ্যম শক্তির কৌশল।

এই কৌশলের চারটি দিক আছে।
প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র-জাপান জোটকে আধুনিক করতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে জাপানকে আরও গভীরভাবে যুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে জাপানের নিজস্ব মোতায়েনযোগ্য সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।
দ্বিতীয়ত, সরবরাহ শৃঙ্খলের নির্বাচিত বৈচিত্র্যকরণ দ্রুত করতে হবে। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়া কতটা বড় মাত্রার উৎপাদন স্থানান্তর গ্রহণ করতে পারবে, সেই সীমাবদ্ধতাও বুঝতে হবে।
তৃতীয়ত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মূল্যভিত্তিক কূটনীতি চালিয়ে যেতে হবে, কিন্তু তা হতে হবে বাস্তবমুখী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং আসিয়ানের পছন্দ ও সংবেদনশীলতার প্রতি সম্মানশীল।
চতুর্থত, জাপানকে শুধু শক্তিশালী চীনের জন্য নয়, আরও ভঙ্গুর চীনের জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে। কারণ দুই পরিস্থিতিই অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
জাপান তার ভূগোল বা ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা থেকে পালাতে পারবে না। কিন্তু এসব সীমাবদ্ধতা তার ভবিষ্যৎকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা সে নিজেই কিছুটা গঠন করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্ধারিত এই বিশ্বে টোকিওর কাজ বিভ্রম ও অনিবার্যতার মধ্যে বেছে নেওয়া নয়। বরং তার কাজ হলো স্থিতিস্থাপকতা গড়ে তোলা, কৌশলগত ক্ষমতা ধরে রাখা এবং নিয়ম মানতে বাধ্য হওয়া রাষ্ট্র নয়—বরং নিয়ম তৈরিতে ভূমিকা রাখা রাষ্ট্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা।
স্টিফেন আর. নাগি 













