বাংলাদেশের গণমাধ্যম স্বাধীনতা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ বৈশ্বিক সূচকে দেশের অবস্থান আরও পিছিয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে গণমাধ্যম পরিবেশের অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। সারাক্ষণ রিপোর্ট
তিন ধাপ অবনতি, অবস্থান ১৫২তম
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যম স্বাধীনতার চিত্র তুলে ধরা সাম্প্রতিক সূচকে বাংলাদেশ তিন ধাপ পিছিয়ে এখন ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৫২তম স্থানে অবস্থান করছে। আগের বছর দেশের অবস্থান ছিল ১৪৯তম। এই পরিবর্তনটি একদিকে সামান্য মনে হলেও ধারাবাহিক প্রবণতা হিসেবে তা উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
‘খুবই গুরুতর’ শ্রেণিতে বাংলাদেশ

স্কোরের ভিত্তিতে দেশগুলোকে বিভিন্ন স্তরে ভাগ করা হয়, যেখানে বাংলাদেশ এবার ‘খুবই গুরুতর’ শ্রেণিতে স্থান পেয়েছে। এর মানে হলো গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও কার্যক্রমের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বাধা ও চাপ বিদ্যমান রয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধাক্কা
সূচকের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাংলাদেশের অবস্থান অবনতির প্রধান কারণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের স্কোর পতন। গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ, রাষ্ট্র বা রাজনৈতিক শক্তির চাপ, এবং ভিন্নমত প্রকাশের পরিবেশ—এই বিষয়গুলোতে নেতিবাচক পরিবর্তন স্পষ্ট হয়েছে।
একই সঙ্গে জনস্বার্থে ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে গণমাধ্যম কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে, সেটিও এই সূচকে গুরুত্বপূর্ণভাবে বিবেচিত হয়েছে।
প্রতিবেশী দেশের তুলনায় মিশ্র অবস্থান
অঞ্চলভিত্তিক তুলনায় বাংলাদেশ কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেও সামগ্রিকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। পাকিস্তানের তুলনায় এক ধাপ এবং ভারতের তুলনায় পাঁচ ধাপ এগিয়ে থাকলেও নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভুটানের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে আছে।
বিশেষ করে নেপাল বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে অবস্থান করছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার ভেতরে বৈচিত্র্যময় চিত্র তুলে ধরে।

বিশ্বজুড়ে অবনতি, উদ্বেগ বাড়ছে
গণমাধ্যম স্বাধীনতার এই সূচক শুধু বাংলাদেশের নয়, বৈশ্বিক একটি বড় প্রবণতাও তুলে ধরেছে। বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের ১০০টির বেশি দেশে সাংবাদিকতার পরিবেশ খারাপ হয়েছে।
গত কয়েক দশকের মধ্যে এবারই বৈশ্বিক গড় স্কোর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগকে আরও জোরালো করেছে।
উন্নত দেশেও চাপ বাড়ছে
যেসব দেশ ঐতিহ্যগতভাবে গণমাধ্যম স্বাধীনতায় এগিয়ে, সেখানেও চাপ বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে। কিছু উন্নত দেশেও অবস্থানের অবনতি দেখা গেছে, যা প্রমাণ করে এই সংকট এখন বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত।
এই প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞদের মতে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সাংবাদিকদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















