০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
নতুন এশিয়ার ভ্রমণ মানচিত্র: বালির গল্পে দেখা যাচ্ছে আঞ্চলিক অর্থনীতির নতুন শক্তি বার্নিং ম্যান উৎসবের ইতিহাস নিয়ে আসছে এইচবিও ডকুসিরিজ সিনেমা হলকে নতুনভাবে সাজাচ্ছে সাংহাই মেলনের বৈশ্বিক কে-পপ তালিকায় আলোচনায় রাইজ ও বয় নেক্সট ডোর হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্টকে অপসারণে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ, রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে ট্রাম্পের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের রায়, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরানোর পথ খুলল রাশিয়ার যুব ফুটবল দলের ফেরার ইঙ্গিত, নতুন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের পথ খুলছে ফিফা ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক পদ বাতিল, বেতন-ভাতা ফেরতের নির্দেশ সিরাজগঞ্জে যমুনার স্রোতে ভেসে প্রাণ গেল দুই মাদ্রাসাছাত্রের খেলাপি ঋণের চাপে ‘মোট শকে’ ব্যাংকিং খাত, সংসদে রেজা কিবরিয়ার কঠোর সমালোচনা

গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে আবারও পিছিয়েছে বাংলাদেশ, ‘খুবই গুরুতর’ অবস্থার সতর্কবার্তা

বাংলাদেশের গণমাধ্যম স্বাধীনতা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ বৈশ্বিক সূচকে দেশের অবস্থান আরও পিছিয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে গণমাধ্যম পরিবেশের অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। সারাক্ষণ রিপোর্ট

তিন ধাপ অবনতি, অবস্থান ১৫২তম

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যম স্বাধীনতার চিত্র তুলে ধরা সাম্প্রতিক সূচকে বাংলাদেশ তিন ধাপ পিছিয়ে এখন ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৫২তম স্থানে অবস্থান করছে। আগের বছর দেশের অবস্থান ছিল ১৪৯তম। এই পরিবর্তনটি একদিকে সামান্য মনে হলেও ধারাবাহিক প্রবণতা হিসেবে তা উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

‘খুবই গুরুতর’ শ্রেণিতে বাংলাদেশ

মুক্ত গণমাধ্যম সূচকঃ নিপীড়নমূলক আইন আর রাজনীতির কারণে শেষ কুড়িতে বাংলাদেশ

স্কোরের ভিত্তিতে দেশগুলোকে বিভিন্ন স্তরে ভাগ করা হয়, যেখানে বাংলাদেশ এবার ‘খুবই গুরুতর’ শ্রেণিতে স্থান পেয়েছে। এর মানে হলো গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও কার্যক্রমের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বাধা ও চাপ বিদ্যমান রয়েছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধাক্কা

সূচকের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাংলাদেশের অবস্থান অবনতির প্রধান কারণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের স্কোর পতন। গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ, রাষ্ট্র বা রাজনৈতিক শক্তির চাপ, এবং ভিন্নমত প্রকাশের পরিবেশ—এই বিষয়গুলোতে নেতিবাচক পরিবর্তন স্পষ্ট হয়েছে।

একই সঙ্গে জনস্বার্থে ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে গণমাধ্যম কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে, সেটিও এই সূচকে গুরুত্বপূর্ণভাবে বিবেচিত হয়েছে।

প্রতিবেশী দেশের তুলনায় মিশ্র অবস্থান

অঞ্চলভিত্তিক তুলনায় বাংলাদেশ কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেও সামগ্রিকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। পাকিস্তানের তুলনায় এক ধাপ এবং ভারতের তুলনায় পাঁচ ধাপ এগিয়ে থাকলেও নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভুটানের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে আছে।

বিশেষ করে নেপাল বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে অবস্থান করছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার ভেতরে বৈচিত্র্যময় চিত্র তুলে ধরে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা '২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে নিচে', বাংলাদেশ তিন ধাপ পিছিয়েছে - BBC News বাংলা

বিশ্বজুড়ে অবনতি, উদ্বেগ বাড়ছে

গণমাধ্যম স্বাধীনতার এই সূচক শুধু বাংলাদেশের নয়, বৈশ্বিক একটি বড় প্রবণতাও তুলে ধরেছে। বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের ১০০টির বেশি দেশে সাংবাদিকতার পরিবেশ খারাপ হয়েছে।

গত কয়েক দশকের মধ্যে এবারই বৈশ্বিক গড় স্কোর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগকে আরও জোরালো করেছে।

উন্নত দেশেও চাপ বাড়ছে

যেসব দেশ ঐতিহ্যগতভাবে গণমাধ্যম স্বাধীনতায় এগিয়ে, সেখানেও চাপ বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে। কিছু উন্নত দেশেও অবস্থানের অবনতি দেখা গেছে, যা প্রমাণ করে এই সংকট এখন বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত।

এই প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞদের মতে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সাংবাদিকদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন এশিয়ার ভ্রমণ মানচিত্র: বালির গল্পে দেখা যাচ্ছে আঞ্চলিক অর্থনীতির নতুন শক্তি

গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে আবারও পিছিয়েছে বাংলাদেশ, ‘খুবই গুরুতর’ অবস্থার সতর্কবার্তা

১২:১৫:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

বাংলাদেশের গণমাধ্যম স্বাধীনতা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ বৈশ্বিক সূচকে দেশের অবস্থান আরও পিছিয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে গণমাধ্যম পরিবেশের অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। সারাক্ষণ রিপোর্ট

তিন ধাপ অবনতি, অবস্থান ১৫২তম

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যম স্বাধীনতার চিত্র তুলে ধরা সাম্প্রতিক সূচকে বাংলাদেশ তিন ধাপ পিছিয়ে এখন ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৫২তম স্থানে অবস্থান করছে। আগের বছর দেশের অবস্থান ছিল ১৪৯তম। এই পরিবর্তনটি একদিকে সামান্য মনে হলেও ধারাবাহিক প্রবণতা হিসেবে তা উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

‘খুবই গুরুতর’ শ্রেণিতে বাংলাদেশ

মুক্ত গণমাধ্যম সূচকঃ নিপীড়নমূলক আইন আর রাজনীতির কারণে শেষ কুড়িতে বাংলাদেশ

স্কোরের ভিত্তিতে দেশগুলোকে বিভিন্ন স্তরে ভাগ করা হয়, যেখানে বাংলাদেশ এবার ‘খুবই গুরুতর’ শ্রেণিতে স্থান পেয়েছে। এর মানে হলো গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও কার্যক্রমের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বাধা ও চাপ বিদ্যমান রয়েছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধাক্কা

সূচকের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাংলাদেশের অবস্থান অবনতির প্রধান কারণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের স্কোর পতন। গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ, রাষ্ট্র বা রাজনৈতিক শক্তির চাপ, এবং ভিন্নমত প্রকাশের পরিবেশ—এই বিষয়গুলোতে নেতিবাচক পরিবর্তন স্পষ্ট হয়েছে।

একই সঙ্গে জনস্বার্থে ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে গণমাধ্যম কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে, সেটিও এই সূচকে গুরুত্বপূর্ণভাবে বিবেচিত হয়েছে।

প্রতিবেশী দেশের তুলনায় মিশ্র অবস্থান

অঞ্চলভিত্তিক তুলনায় বাংলাদেশ কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেও সামগ্রিকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। পাকিস্তানের তুলনায় এক ধাপ এবং ভারতের তুলনায় পাঁচ ধাপ এগিয়ে থাকলেও নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভুটানের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে আছে।

বিশেষ করে নেপাল বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে অবস্থান করছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার ভেতরে বৈচিত্র্যময় চিত্র তুলে ধরে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা '২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে নিচে', বাংলাদেশ তিন ধাপ পিছিয়েছে - BBC News বাংলা

বিশ্বজুড়ে অবনতি, উদ্বেগ বাড়ছে

গণমাধ্যম স্বাধীনতার এই সূচক শুধু বাংলাদেশের নয়, বৈশ্বিক একটি বড় প্রবণতাও তুলে ধরেছে। বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের ১০০টির বেশি দেশে সাংবাদিকতার পরিবেশ খারাপ হয়েছে।

গত কয়েক দশকের মধ্যে এবারই বৈশ্বিক গড় স্কোর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগকে আরও জোরালো করেছে।

উন্নত দেশেও চাপ বাড়ছে

যেসব দেশ ঐতিহ্যগতভাবে গণমাধ্যম স্বাধীনতায় এগিয়ে, সেখানেও চাপ বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে। কিছু উন্নত দেশেও অবস্থানের অবনতি দেখা গেছে, যা প্রমাণ করে এই সংকট এখন বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত।

এই প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞদের মতে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সাংবাদিকদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।