০৪:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
কলকাতাজুড়ে মিশ্র জনমত, গণনার দিনে এগিয়ে বিজেপি—তবু এলাকায় এলাকায় ভিন্ন চিত্র ইরানের হুশিয়ারি, হরমুজ প্রণালীতে কোন বিদেশী বাহিনী এলেই হামলা চালানো হবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে উৎপাদনে ধস, এপ্রিলেই সংকোচনে শিল্পখাত আল কাদসিয়ার ধাক্কায় থামল আল নাসরের জয়ের ধারা, শিরোপা দৌড়ে অনিশ্চয়তা রোনালদোর দুঃসাহসিক অভিযাত্রীদের জন্য এক দ্বীপ: সেন্ট হেলেনা আবিষ্কার পাঁচ রাজ্যের ভোটে নাটকীয় পালাবদল: বাংলায় বিজেপির ঝড়, তামিলনাড়ুতে বিজয়ের চমক, কেরালায় কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তন টোকিওর লক্ষ্য: এআইকে কাজে লাগিয়ে স্টার্টআপ শক্তিতে বিশ্বনেতা হওয়ার দৌড় ১০০ কেন্দ্রে ভোট গণনা বন্ধের অভিযোগ, কর্মীদের কেন্দ্রে থাকার আহ্বান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসছে মূল্যস্ফীতির নতুন ঢেউ গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্তদের অবস্থান কর্মসূচী: পেনশন পুনঃস্থাপনসহ ভাতার দাবিতে ঢাকায় সমাবেশ

ঈদের আগে রাত ১১টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার দাবি, সরকারের কাছে চিঠি ব্যবসায়ীদের

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দোকানপাট খোলা রাখার সময়সীমা বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। সমিতির পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে আগামী ১০ মে থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত মার্কেট ও বিপণি বিতান খোলা রাখার অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

চিঠিতে সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন এবং মহাসচিব মো. জহিরুল হক ভূঁইয়া বর্তমান ব্যবসায়িক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেছেন। তারা উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের স্বার্থে ব্যবসায়ীরা সময়সীমা কমিয়ে দোকান পরিচালনা করছেন, যার ফলে বিক্রি মারাত্মকভাবে কমে গেছে এবং ব্যবসায়ীরা আর্থিক চাপে পড়েছেন।

বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও সময়সীমা কমানোর প্রেক্ষাপট

ঈদ উপলক্ষে মার্কেট-শপিং মল রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি

চিঠিতে বলা হয়, গত ৪ এপ্রিল বিদ্যুৎ অধিদপ্তরে বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় প্রাথমিকভাবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়, যদিও ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

পরবর্তীতে ৫ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সহযোগিতা করতে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দেশের সব মার্কেট ও বিপণি বিতান বন্ধ করে আসছেন। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ব্যবসায়ীরা সহযোগিতা করলেও এর প্রভাব তাদের বিক্রিতে পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের চাপ ও অসন্তোষ

সমিতির দাবি, বর্তমান সময়সীমার কারণে বিক্রি প্রায় নেই বললেই চলে। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন। আর্থিক চাপ বাড়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া ঈদুল আজহার আগে দোকান খোলা রাখার সময় বাড়ানোর বিষয়ে পূর্বে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলেও সমিতি মনে করিয়ে দিয়েছে।

শপিংমল রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখতে চান ব্যবসায়ীরা

মেলা বন্ধ না হওয়ায় ক্ষতির অভিযোগ

চিঠিতে আরও বলা হয়, বিভিন্ন জেলায় অপরিকল্পিত বাণিজ্য মেলা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও বরিশালসহ কয়েকটি জেলায় এখনো এসব মেলা চালু রয়েছে। এসব মেলায় নিম্নমানের পণ্য বিক্রির অভিযোগ তুলে ব্যবসায়ীরা জানান, এতে তারা আরও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

ঈদকে ঘিরে প্রত্যাশা ও প্রস্তাব

সমিতির নেতারা বলেন, ঈদুল আজহাকে ঘিরে সাধারণত কেনাবেচা বাড়ে। তাই এই সময় দোকান খোলা রাখার সময় বাড়ানো হলে ব্যবসায়ীরা কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন। তারা জানান, বর্তমানে বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

এই প্রেক্ষাপটে আগামী ১০ মে থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ঈদের পরবর্তী সাত দিন তারা স্বেচ্ছায় মার্কেট ও বিপণি বিতান বন্ধ রাখবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

কলকাতাজুড়ে মিশ্র জনমত, গণনার দিনে এগিয়ে বিজেপি—তবু এলাকায় এলাকায় ভিন্ন চিত্র

ঈদের আগে রাত ১১টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার দাবি, সরকারের কাছে চিঠি ব্যবসায়ীদের

০৩:০৫:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দোকানপাট খোলা রাখার সময়সীমা বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। সমিতির পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে আগামী ১০ মে থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত মার্কেট ও বিপণি বিতান খোলা রাখার অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

চিঠিতে সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন এবং মহাসচিব মো. জহিরুল হক ভূঁইয়া বর্তমান ব্যবসায়িক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেছেন। তারা উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের স্বার্থে ব্যবসায়ীরা সময়সীমা কমিয়ে দোকান পরিচালনা করছেন, যার ফলে বিক্রি মারাত্মকভাবে কমে গেছে এবং ব্যবসায়ীরা আর্থিক চাপে পড়েছেন।

বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও সময়সীমা কমানোর প্রেক্ষাপট

ঈদ উপলক্ষে মার্কেট-শপিং মল রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি

চিঠিতে বলা হয়, গত ৪ এপ্রিল বিদ্যুৎ অধিদপ্তরে বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় প্রাথমিকভাবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়, যদিও ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

পরবর্তীতে ৫ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সহযোগিতা করতে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দেশের সব মার্কেট ও বিপণি বিতান বন্ধ করে আসছেন। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ব্যবসায়ীরা সহযোগিতা করলেও এর প্রভাব তাদের বিক্রিতে পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের চাপ ও অসন্তোষ

সমিতির দাবি, বর্তমান সময়সীমার কারণে বিক্রি প্রায় নেই বললেই চলে। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন। আর্থিক চাপ বাড়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া ঈদুল আজহার আগে দোকান খোলা রাখার সময় বাড়ানোর বিষয়ে পূর্বে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলেও সমিতি মনে করিয়ে দিয়েছে।

শপিংমল রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখতে চান ব্যবসায়ীরা

মেলা বন্ধ না হওয়ায় ক্ষতির অভিযোগ

চিঠিতে আরও বলা হয়, বিভিন্ন জেলায় অপরিকল্পিত বাণিজ্য মেলা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও বরিশালসহ কয়েকটি জেলায় এখনো এসব মেলা চালু রয়েছে। এসব মেলায় নিম্নমানের পণ্য বিক্রির অভিযোগ তুলে ব্যবসায়ীরা জানান, এতে তারা আরও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

ঈদকে ঘিরে প্রত্যাশা ও প্রস্তাব

সমিতির নেতারা বলেন, ঈদুল আজহাকে ঘিরে সাধারণত কেনাবেচা বাড়ে। তাই এই সময় দোকান খোলা রাখার সময় বাড়ানো হলে ব্যবসায়ীরা কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন। তারা জানান, বর্তমানে বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

এই প্রেক্ষাপটে আগামী ১০ মে থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ঈদের পরবর্তী সাত দিন তারা স্বেচ্ছায় মার্কেট ও বিপণি বিতান বন্ধ রাখবেন।