মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে উৎপাদন খাতে। কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়া, সরবরাহে বিঘ্ন এবং ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এপ্রিল মাসে আবারও সংকোচনে ঢুকে পড়েছে উৎপাদন খাত।
পিএমআই সূচকে পতন
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের জরিপ অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে উৎপাদন খাতের পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) নেমে এসেছে ৪৯.১-এ, যা মার্চে ছিল ৫০.১। ৫০-এর নিচে নামা মানেই খাতটি সংকোচনের দিকে যাচ্ছে। গত নয় মাসে এই প্রথম এমন পতন দেখা গেল, যা শিল্পখাতের ওপর বাড়তে থাকা চাপের স্পষ্ট ইঙ্গিত।
উৎপাদন কমার গতি বেড়েছে
এপ্রিল মাসে উৎপাদন কমেছে প্রায় এক বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে। টানা দ্বিতীয় মাসে উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি এই কমার হার মে ২০২৫-এর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ সংকট এবং দুর্বল চাহিদা—এই তিনটি কারণই তাদের উৎপাদন কমাতে বাধ্য করছে।
চাহিদায় দুর্বলতা, আগাম কেনাকাটার প্রবণতা
যদিও নতুন অর্ডার সামান্য বেড়েছে, তবে তা মূলত আগাম কেনাকাটার কারণে। ক্রেতারা ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়তে পারে বা সরবরাহে সমস্যা হতে পারে—এই আশঙ্কায় আগেভাগেই পণ্য কিনছেন। কিন্তু সামগ্রিকভাবে বাজারে চাহিদা দুর্বলই রয়ে গেছে।
ব্যবসায়িক আস্থায় ধস
শিল্পখাতে ব্যবসায়িক আস্থা কমে পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। যুদ্ধ কতদিন চলবে, পরিস্থিতি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে—এই অনিশ্চয়তাই উদ্যোক্তাদের আশাবাদে ভাটা ফেলেছে।
কর্মসংস্থানে চাপ
উৎপাদন কমার প্রভাব পড়েছে শ্রমবাজারেও। এপ্রিল মাসে কারখানাগুলো গত ১০ মাসের মধ্যে দ্রুততম হারে কর্মী ছাঁটাই করেছে, যদিও তা তুলনামূলকভাবে সীমিত পর্যায়ে রয়েছে।

খরচ বাড়ছে, দামও বাড়ছে
কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির চাপ এপ্রিল মাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা এপ্রিল ২০২২-এর পর সবচেয়ে বেশি। ফলে উৎপাদকরা তাদের পণ্যের বিক্রয়মূল্যও গত ১২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত হারে বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।
সরবরাহে বিঘ্ন ও লজিস্টিক সমস্যা
টানা সপ্তম মাসের মতো সরবরাহে বিলম্ব হয়েছে। লজিস্টিক সমস্যার পাশাপাশি কাঁচামালের সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের কারণে এই সমস্যা তীব্র হয়েছে।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা
হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কার্যক্রমের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় দুই মাস ধরে বেশিরভাগ জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এটি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
উপখাতেও সংকোচন
শিল্প মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে খাদ্য ও পানীয়, বস্ত্র এবং কাঠজাত পণ্যসহ সাতটি উৎপাদন উপখাত সংকোচনের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে শিল্প আস্থা সূচকও কিছুটা কমে ৫১.৭৫-এ নেমে এসেছে।
পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহে সংকট
বিশেষ করে পেট্রোকেমিক্যাল কাঁচামালের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বস্ত্র ও প্লাস্টিক শিল্প বড় ধরনের চাপে পড়েছে। ফলে এই খাতগুলোতে উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















