পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা ঘিরে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, রাজ্যের প্রায় ১০০টির মতো কেন্দ্রে ভোট গণনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে যেসব কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে সেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে গণনা থামিয়ে রাখা হচ্ছে এবং ফল প্রকাশ করা হচ্ছে না।
গণনা ঘিরে অভিযোগ ও উত্তেজনা

ভিডিও বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, শুরু থেকেই পরিকল্পিতভাবে প্রথম কয়েক দফার গণনায় বিজেপিকে এগিয়ে দেখানো হচ্ছে। এরপর বহু জায়গায় গণনা স্থগিত রাখা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ১০০টি আসনে তৃণমূল এগিয়ে থাকলেও সেই তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সংস্থা, নির্বাচন কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ প্রশাসন একযোগে কাজ করছে। তাঁর দাবি, বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, এমনকি দলীয় অফিস ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটছে। ‘এসআইআর’-এর নামে ভোট লুটপাটের অভিযোগও তোলেন তিনি।
কর্মীদের প্রতি বার্তা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় কর্মী ও গণনা এজেন্টদের উদ্দেশে স্পষ্ট নির্দেশ দেন, কোনওভাবেই গণনা কেন্দ্র বা স্ট্রং রুম এলাকা ছেড়ে যাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করতে হবে এবং ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। তাঁর ভাষায়, এটি একটি পরিকল্পনার অংশ এবং তা মোকাবিলায় সতর্ক থাকা জরুরি।
সংখ্যার হিসাবে এগিয়ে বিজেপি

নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত প্রবণতা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বিজেপি বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি প্রায় ১৮২টি আসনে এগিয়ে, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস রয়েছে ৯১টি আসনে। ইতোমধ্যেই সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা অতিক্রম করেছে বিজেপি।
তবে ভবানীপুর কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল টানটান। সেখানে শুরুতে পিছিয়ে থাকলেও পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এগিয়ে যান এবং ১৭ হাজারের বেশি ভোটে লিড পান।
বৃহত্তর প্রেক্ষাপট
পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও তামিলনাড়ু, অসম, কেরালা ও পুদুচেরির বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনাও একই দিনে চলছে। পাশাপাশি সাতটি উপনির্বাচনের ফলও প্রকাশ করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের ভোট গণনা নিয়ে ওঠা অভিযোগ নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। গণনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধী পক্ষ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















