১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
তেলের ধাক্কা শুধু যুদ্ধের নয়, নীতিহীনতারও মূল্য রঘু রাইয়ের ক্যামেরা ছিল শুধু ছবি তোলার যন্ত্র নয়, এক ধরনের জীবনদর্শন ট্রাম্পের কঠোর আশ্রয়নীতি কি স্থায়ী রূপ নিচ্ছে? যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সন্ত্রাসবিরোধী কৌশল ঘিরে বিতর্ক, সমালোচনায় রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ নিউইয়র্কে আবাসন নির্মাণে বড় বাধা কমছে, বদলে যেতে পারে শহরের ভবিষ্যৎ ট্রাম্পের প্রতিশোধ রাজনীতি নিয়ে চাপে রিপাবলিকানরা ট্রাম্প-শি বৈঠকে বাণিজ্যের হাসি, আড়ালে তাইওয়ান-ইউক্রেন-ইরান উত্তেজনা ব্রিটিশ রাজনীতির নেতৃত্ব সংকট: জনপ্রিয়তার লড়াই নয়, বাস্তবতার পরীক্ষা লন্ডনে টমি রবিনসন ঘিরে উত্তেজনা, ফিলিস্তিনপন্থী পাল্টা বিক্ষোভে কড়া নিরাপত্তা জাকার্তার ‘সামতামা ভিলেজ’: বর্জ্য আলাদা করেই কমছে ল্যান্ডফিলে চাপ

সবুজ নীতির নামে কাদের ওপর চাপ?

  • রড লিডল
  • ০৮:৪৭:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
  • 65

জলবায়ু পরিবর্তন বাস্তব—এ নিয়ে তর্কের খুব বেশি অবকাশ নেই। কিন্তু এই বাস্তবতার মোকাবিলায় যে নীতিগুলো নেওয়া হচ্ছে, সেগুলো কতটা কার্যকর, আর কতটা সামাজিকভাবে ন্যায়সঙ্গত—এই প্রশ্নটিই এখন কেন্দ্রে আসছে। পরিবেশবান্ধব হওয়ার দোহাই দিয়ে একের পর এক গৃহস্থালি যন্ত্র নিষিদ্ধ করার প্রবণতা যেন নীতির চেয়ে বেশি প্রতীকী পদক্ষেপে পরিণত হচ্ছে।

ধরা যাক, কাপড় শুকানোর যন্ত্র ব্যবহার কমানোর কথা। যুক্তি হচ্ছে, এতে কার্বন নির্গমন কমবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এমন একটি পদক্ষেপ মোট নির্গমনের খুবই সামান্য অংশে প্রভাব ফেলে। বৈশ্বিক পরিসরে এর প্রভাব প্রায় অদৃশ্যের মতোই ক্ষুদ্র। অথচ এই সিদ্ধান্ত মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে—বিশেষ করে তাদের জন্য, যাদের সময়ই সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।

নীতির এই বৈপরীত্য এখানেই। একদিকে উন্নত দেশগুলো নিজেদের নাগরিকদের জীবনযাত্রায় সীমাবদ্ধতা আরোপ করছে, অন্যদিকে উন্নয়নশীল বিশ্ব দ্রুত শিল্পায়নের পথে এগোচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, কিছু বড় অর্থনীতি আগামী কয়েক দশকে তাদের কার্বন নির্গমন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ফলে এক দেশের ক্ষুদ্র সাশ্রয় অন্য দেশের দ্রুত বৃদ্ধির সামনে কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়ে।

সমস্যার আরেকটি দিক হলো, এই তথাকথিত ‘সবুজ’ নীতিগুলো সমানভাবে সবাইকে প্রভাবিত করে না। বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি ধনী ও দরিদ্রের ব্যবধানকে আরও বাড়িয়ে দেয়। উন্নত প্রযুক্তির গরমের পাম্প বা বৈদ্যুতিক গাড়ি—এসব সুবিধা মূলত তাদের জন্য, যাদের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ ও অবকাঠামো আছে। উচ্চ আয়ের মানুষ সরকারি প্রণোদনা পেয়ে সহজেই এসব প্রযুক্তি গ্রহণ করতে পারেন। বিপরীতে, কম আয়ের মানুষকে বাধ্য করা হয় ব্যয়বহুল বিকল্প গ্রহণ করতে বা পুরোনো ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে।

The Science of Climate Change Explained: Facts, Evidence and Proof - The New York Times

এই অবস্থায় একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে—জলবায়ু নীতি কি সত্যিই পরিবেশ রক্ষার জন্য, নাকি এটি একটি সামাজিক পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠছে? অনেক ক্ষেত্রে এটি এমন এক ‘নৈতিক বিলাসিতা’ হিসেবে দেখা দেয়, যা কেবল সচ্ছলদের জন্যই সহজলভ্য। তারা পরিবেশবান্ধব সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেদের সন্তুষ্ট রাখতে পারেন, কিন্তু এর আর্থিক ও সময়গত চাপ বহন করতে হয় অন্যদের।

বিশ্বের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দিকে তাকালে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। তারা এখনও উন্নত জীবনযাত্রার স্বপ্ন দেখে—যেখানে আধুনিক প্রযুক্তি তাদের দৈনন্দিন শ্রম কমাবে। অথচ উন্নত বিশ্বের দরিদ্রদের সামনে সেই প্রযুক্তিগত সুবিধাগুলোই ধীরে ধীরে সীমিত হয়ে যাচ্ছে।

এতে করে নীতির উদ্দেশ্য ও ফলাফলের মধ্যে এক ধরনের ফাঁক তৈরি হয়। পরিবেশ রক্ষার নামে গৃহীত পদক্ষেপগুলো যদি বাস্তবে মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তোলে এবং বৈশ্বিক নির্গমনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না আনে, তাহলে সেই নীতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলাই স্বাভাবিক।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই অবশ্যই জরুরি। কিন্তু সেই লড়াই যদি বাস্তবতা বিবর্জিত, প্রতীকী পদক্ষেপে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তা কেবল মানুষের আস্থা কমাবে। কার্যকর নীতি হতে হবে এমন, যা বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটকে বিবেচনায় নেয় এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের ওপর এর প্রভাব সমানভাবে মূল্যায়ন করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তেলের ধাক্কা শুধু যুদ্ধের নয়, নীতিহীনতারও মূল্য

সবুজ নীতির নামে কাদের ওপর চাপ?

০৮:৪৭:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তন বাস্তব—এ নিয়ে তর্কের খুব বেশি অবকাশ নেই। কিন্তু এই বাস্তবতার মোকাবিলায় যে নীতিগুলো নেওয়া হচ্ছে, সেগুলো কতটা কার্যকর, আর কতটা সামাজিকভাবে ন্যায়সঙ্গত—এই প্রশ্নটিই এখন কেন্দ্রে আসছে। পরিবেশবান্ধব হওয়ার দোহাই দিয়ে একের পর এক গৃহস্থালি যন্ত্র নিষিদ্ধ করার প্রবণতা যেন নীতির চেয়ে বেশি প্রতীকী পদক্ষেপে পরিণত হচ্ছে।

ধরা যাক, কাপড় শুকানোর যন্ত্র ব্যবহার কমানোর কথা। যুক্তি হচ্ছে, এতে কার্বন নির্গমন কমবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এমন একটি পদক্ষেপ মোট নির্গমনের খুবই সামান্য অংশে প্রভাব ফেলে। বৈশ্বিক পরিসরে এর প্রভাব প্রায় অদৃশ্যের মতোই ক্ষুদ্র। অথচ এই সিদ্ধান্ত মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে—বিশেষ করে তাদের জন্য, যাদের সময়ই সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।

নীতির এই বৈপরীত্য এখানেই। একদিকে উন্নত দেশগুলো নিজেদের নাগরিকদের জীবনযাত্রায় সীমাবদ্ধতা আরোপ করছে, অন্যদিকে উন্নয়নশীল বিশ্ব দ্রুত শিল্পায়নের পথে এগোচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, কিছু বড় অর্থনীতি আগামী কয়েক দশকে তাদের কার্বন নির্গমন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ফলে এক দেশের ক্ষুদ্র সাশ্রয় অন্য দেশের দ্রুত বৃদ্ধির সামনে কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়ে।

সমস্যার আরেকটি দিক হলো, এই তথাকথিত ‘সবুজ’ নীতিগুলো সমানভাবে সবাইকে প্রভাবিত করে না। বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি ধনী ও দরিদ্রের ব্যবধানকে আরও বাড়িয়ে দেয়। উন্নত প্রযুক্তির গরমের পাম্প বা বৈদ্যুতিক গাড়ি—এসব সুবিধা মূলত তাদের জন্য, যাদের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ ও অবকাঠামো আছে। উচ্চ আয়ের মানুষ সরকারি প্রণোদনা পেয়ে সহজেই এসব প্রযুক্তি গ্রহণ করতে পারেন। বিপরীতে, কম আয়ের মানুষকে বাধ্য করা হয় ব্যয়বহুল বিকল্প গ্রহণ করতে বা পুরোনো ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে।

The Science of Climate Change Explained: Facts, Evidence and Proof - The New York Times

এই অবস্থায় একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে—জলবায়ু নীতি কি সত্যিই পরিবেশ রক্ষার জন্য, নাকি এটি একটি সামাজিক পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠছে? অনেক ক্ষেত্রে এটি এমন এক ‘নৈতিক বিলাসিতা’ হিসেবে দেখা দেয়, যা কেবল সচ্ছলদের জন্যই সহজলভ্য। তারা পরিবেশবান্ধব সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেদের সন্তুষ্ট রাখতে পারেন, কিন্তু এর আর্থিক ও সময়গত চাপ বহন করতে হয় অন্যদের।

বিশ্বের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দিকে তাকালে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। তারা এখনও উন্নত জীবনযাত্রার স্বপ্ন দেখে—যেখানে আধুনিক প্রযুক্তি তাদের দৈনন্দিন শ্রম কমাবে। অথচ উন্নত বিশ্বের দরিদ্রদের সামনে সেই প্রযুক্তিগত সুবিধাগুলোই ধীরে ধীরে সীমিত হয়ে যাচ্ছে।

এতে করে নীতির উদ্দেশ্য ও ফলাফলের মধ্যে এক ধরনের ফাঁক তৈরি হয়। পরিবেশ রক্ষার নামে গৃহীত পদক্ষেপগুলো যদি বাস্তবে মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তোলে এবং বৈশ্বিক নির্গমনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না আনে, তাহলে সেই নীতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলাই স্বাভাবিক।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই অবশ্যই জরুরি। কিন্তু সেই লড়াই যদি বাস্তবতা বিবর্জিত, প্রতীকী পদক্ষেপে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তা কেবল মানুষের আস্থা কমাবে। কার্যকর নীতি হতে হবে এমন, যা বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটকে বিবেচনায় নেয় এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের ওপর এর প্রভাব সমানভাবে মূল্যায়ন করে।