১২:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
মেলনের বৈশ্বিক কে-পপ তালিকায় আলোচনায় রাইজ ও বয় নেক্সট ডোর হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্টকে অপসারণে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ, রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে ট্রাম্পের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের রায়, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরানোর পথ খুলল রাশিয়ার যুব ফুটবল দলের ফেরার ইঙ্গিত, নতুন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের পথ খুলছে ফিফা ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক পদ বাতিল, বেতন-ভাতা ফেরতের নির্দেশ সিরাজগঞ্জে যমুনার স্রোতে ভেসে প্রাণ গেল দুই মাদ্রাসাছাত্রের খেলাপি ঋণের চাপে ‘মোট শকে’ ব্যাংকিং খাত, সংসদে রেজা কিবরিয়ার কঠোর সমালোচনা ৪৩তম বিসিএসের নন-ক্যাডার মেধাতালিকা ৬০ দিনের মধ্যে প্রকাশের নির্দেশ হাইকোর্টের চুয়াডাঙ্গায় বাড়ির গ্রিলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু খাগড়াছড়িতে অস্ত্র-গুলিসহ আটক ৩ ইউপিডিএফ কর্মী

৮ মাস পরে এপ্রিলে রফতানি কিছুটা বাড়লো

টানা আট মাসের নিম্নমুখী প্রবণতার পর অবশেষে এপ্রিলে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিল দেশের রপ্তানি খাত। সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের এপ্রিলে রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

সাম্প্রতিক বাণিজ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এপ্রিলে রপ্তানি আয় ৪.০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যেখানে ২০২৫ সালের একই সময়ে এই আয় ছিল ৩.০১ বিলিয়ন ডলার। ফলে বছরওয়ারি হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩২.৯২ শতাংশ। এই প্রবৃদ্ধিকে বৈশ্বিক চাহিদা পুনরুদ্ধার এবং দেশের উৎপাদন খাতের স্থিতিশীলতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পোশাক খাতের দৃঢ় ভূমিকা
দেশের রপ্তানি খাতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে তৈরি পোশাক শিল্প। এপ্রিল মাসে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ৩.১৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের ২.৩৯ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৩১.২১ শতাংশ বেশি।

এই খাতের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং বাড়তি চাহিদা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা বজায় রেখেছে।

পশ্চিমা বাজারে বাড়তি চাহিদা
এপ্রিলের এই পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে প্রধান পশ্চিমা বাজারগুলো। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বেড়েছে ৪৩.০১ শতাংশ, আর যুক্তরাজ্যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৩.৪৬ শতাংশ।

একই সঙ্গে দেশের শীর্ষ ২০টি রপ্তানি গন্তব্যেই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে একাধিক বাজারে একসঙ্গে চাহিদা বাড়ছে এবং রপ্তানি বাজারে বৈচিত্র্যও বাড়ছে।

মাসওয়ারি উন্নতির ধারা
শুধু বছরওয়ারি নয়, মাসওয়ারিতেও রপ্তানিতে উন্নতি হয়েছে। মার্চের ৩.৪৮ বিলিয়ন ডলার থেকে এপ্রিলের আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.০ বিলিয়ন ডলারে, যা প্রায় ১৫.২০ শতাংশ বৃদ্ধি।

তবে সামগ্রিক হিসাবে এখনও কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৯.৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২.০২ শতাংশ কম। তবে সাম্প্রতিক প্রবৃদ্ধি এই ব্যবধান কমিয়ে আনতে সহায়তা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাণিজ্যে নতুন আশার ইঙ্গিত
বিশ্লেষকদের মতে, এপ্রিলে রপ্তানির এই উন্নতি দেশের বাণিজ্য খাতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। প্রচলিত বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি এবং তৈরি পোশাক খাতের শক্ত অবস্থান—এই দুইয়ের সমন্বয়ে অর্থবছরের শেষভাগে আরও ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এপ্রিলের এই অগ্রগতি তাই শুধু একটি মাসিক উন্নতি নয়, বরং সামগ্রিকভাবে রপ্তানি খাতের পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মেলনের বৈশ্বিক কে-পপ তালিকায় আলোচনায় রাইজ ও বয় নেক্সট ডোর

৮ মাস পরে এপ্রিলে রফতানি কিছুটা বাড়লো

০৮:৫৮:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

টানা আট মাসের নিম্নমুখী প্রবণতার পর অবশেষে এপ্রিলে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিল দেশের রপ্তানি খাত। সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের এপ্রিলে রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

সাম্প্রতিক বাণিজ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এপ্রিলে রপ্তানি আয় ৪.০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যেখানে ২০২৫ সালের একই সময়ে এই আয় ছিল ৩.০১ বিলিয়ন ডলার। ফলে বছরওয়ারি হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩২.৯২ শতাংশ। এই প্রবৃদ্ধিকে বৈশ্বিক চাহিদা পুনরুদ্ধার এবং দেশের উৎপাদন খাতের স্থিতিশীলতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পোশাক খাতের দৃঢ় ভূমিকা
দেশের রপ্তানি খাতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে তৈরি পোশাক শিল্প। এপ্রিল মাসে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ৩.১৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের ২.৩৯ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৩১.২১ শতাংশ বেশি।

এই খাতের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং বাড়তি চাহিদা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা বজায় রেখেছে।

পশ্চিমা বাজারে বাড়তি চাহিদা
এপ্রিলের এই পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে প্রধান পশ্চিমা বাজারগুলো। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বেড়েছে ৪৩.০১ শতাংশ, আর যুক্তরাজ্যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৩.৪৬ শতাংশ।

একই সঙ্গে দেশের শীর্ষ ২০টি রপ্তানি গন্তব্যেই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে একাধিক বাজারে একসঙ্গে চাহিদা বাড়ছে এবং রপ্তানি বাজারে বৈচিত্র্যও বাড়ছে।

মাসওয়ারি উন্নতির ধারা
শুধু বছরওয়ারি নয়, মাসওয়ারিতেও রপ্তানিতে উন্নতি হয়েছে। মার্চের ৩.৪৮ বিলিয়ন ডলার থেকে এপ্রিলের আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.০ বিলিয়ন ডলারে, যা প্রায় ১৫.২০ শতাংশ বৃদ্ধি।

তবে সামগ্রিক হিসাবে এখনও কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৯.৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২.০২ শতাংশ কম। তবে সাম্প্রতিক প্রবৃদ্ধি এই ব্যবধান কমিয়ে আনতে সহায়তা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাণিজ্যে নতুন আশার ইঙ্গিত
বিশ্লেষকদের মতে, এপ্রিলে রপ্তানির এই উন্নতি দেশের বাণিজ্য খাতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। প্রচলিত বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি এবং তৈরি পোশাক খাতের শক্ত অবস্থান—এই দুইয়ের সমন্বয়ে অর্থবছরের শেষভাগে আরও ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এপ্রিলের এই অগ্রগতি তাই শুধু একটি মাসিক উন্নতি নয়, বরং সামগ্রিকভাবে রপ্তানি খাতের পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।