০৭:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬
রিচার্ড গ্যাডের নতুন সিরিজ ‘হাফ ম্যান’: অন্ধকার, সম্পর্ক আর মানসিক দ্বন্দ্বের নির্মম গল্প শিল্প, অহংকার আর মানবিকতার মেলবন্ধন: বছরের অন্যতম সেরা ছবি ‘দ্য ক্রিস্টোফার্স’ কিশোরীর শক্তি, ভেতর থেকে বিদ্রোহ আর ‘দ্য টেস্টামেন্টস’: এক লেখকের চোখে ক্ষমতা ও প্রতিরোধের গল্প স্প্যানিশ পপের বিশ্বজয়: রোসালিয়া থেকে ব্যাড বানি—কীভাবে বদলে গেল গানের মানচিত্র তিন দিন পর আরিয়াল খাঁ নদীতে মিলল নিখোঁজ জেলের মরদেহ পাঁচবারের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা মোসলেম উদ্দিন আর নেই, আজ জানাজা শেষে দাফন নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় মাত্র ৩% সাজা, ৭০% মামলায় খালাস—গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র এশিয়ার জেন জি প্রজম্ম কি ভবিষ্যত গড়ার আগেই হারিয়ে যাবে? একসঙ্গে বেশি সময় কাটানোই কি দাম্পত্যের জন্য বিপদ? নীরবে ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে ‘অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা’ কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ ‘অর্থনীতির জন্য আত্মঘাতী’—বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় সতর্কবার্তা

হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণে তেলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন অস্থিরতার সংকেত

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা যত বাড়ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে একটি কঠিন বাস্তবতা—বিশ্ব জ্বালানি বাজার এখন দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার দিকে এগোচ্ছে। ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি শুধু তেলের দাম নয়, পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতিকেই নতুন ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ। এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাত দেখিয়ে দিয়েছে, এই পথ আর আগের মতো নিশ্চিন্ত নয়। ইরান যখনই চাইছে, তখনই এই প্রণালীতে প্রভাব ফেলতে পারছে—যা বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

অস্থিরতার নতুন যুগ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন আর তেলের দাম শুধু সরবরাহ ও চাহিদার ওপর নির্ভর করছে না। রাজনৈতিক উত্তেজনা, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং নেতাদের বক্তব্য পর্যন্ত বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা তৈরি করছে। একদিন দাম কমছে, পরদিনই আবার বাড়ছে—এই ওঠানামাই এখন নতুন স্বাভাবিক বাস্তবতা।

এই অস্থিরতা শুধু স্বল্পমেয়াদি নয়। দীর্ঘমেয়াদেও এটি বাজারকে প্রভাবিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, হরমুজ প্রণালী যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে—এই আশঙ্কাই বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

বাজার নিয়ন্ত্রণের সংকট
অতীতে তেলের বাজারে একটি স্থিতিশীলতা ছিল। কখনো যুক্তরাষ্ট্রের নীতিমালা, আবার কখনো তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সমন্বয় বাজারকে নিয়ন্ত্রণে রাখত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে, হরমুজ প্রণালীতে সমস্যা তৈরি হলে বড় তেল উৎপাদক দেশগুলো তাদের পণ্য সহজে বাজারে পাঠাতে পারে না। এতে করে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে যায় এবং দাম অস্থির হয়ে ওঠে।

Strait Of Hormuz Closure Impact On Global Oil Prices 2026 | What will  happen to the world and Bangladesh if the Strait of Hormuz gets shut down?  | The Daily Star

বিনিয়োগে প্রভাব
এই অনিশ্চয়তার আরেকটি বড় প্রভাব পড়ছে বিনিয়োগে। অর্থনীতিবিদদের মতে, যখন বাজারে ঝুঁকি বাড়ে, তখন ব্যবসায়ীরা বড় বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করে। ফলে শিল্প উৎপাদন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়।

তবে এর একটি ভিন্ন দিকও রয়েছে। তেলের দামের অস্থিরতা অনেক বিনিয়োগকারীকে বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকতে উৎসাহিত করছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরশক্তি ও অন্যান্য পরিষ্কার প্রযুক্তি এখন নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে প্রভাব
এই সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যেই বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যাচ্ছে। কোথাও রান্নার জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, কোথাও বিমান জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে পরিবহন ব্যয়ও বাড়ছে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে যেতে পারে। অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক ঝুঁকি বাড়ছে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।

ভবিষ্যতের চিত্র
বর্তমান পরিস্থিতি একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—বিশ্ব জ্বালানি বাজার আর আগের মতো স্থিতিশীল থাকবে না। রাজনৈতিক ঝুঁকি, যুদ্ধ এবং কৌশলগত জলপথের নিয়ন্ত্রণ এখন থেকে তেলের দামের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।

এই বাস্তবতায় দেশগুলোকে বিকল্প জ্বালানির দিকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে এবং অর্থনীতিকে এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে অস্থিরতার ধাক্কা সামলানো যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

রিচার্ড গ্যাডের নতুন সিরিজ ‘হাফ ম্যান’: অন্ধকার, সম্পর্ক আর মানসিক দ্বন্দ্বের নির্মম গল্প

হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণে তেলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন অস্থিরতার সংকেত

০৫:৩৫:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা যত বাড়ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে একটি কঠিন বাস্তবতা—বিশ্ব জ্বালানি বাজার এখন দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার দিকে এগোচ্ছে। ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি শুধু তেলের দাম নয়, পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতিকেই নতুন ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ। এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাত দেখিয়ে দিয়েছে, এই পথ আর আগের মতো নিশ্চিন্ত নয়। ইরান যখনই চাইছে, তখনই এই প্রণালীতে প্রভাব ফেলতে পারছে—যা বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

অস্থিরতার নতুন যুগ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন আর তেলের দাম শুধু সরবরাহ ও চাহিদার ওপর নির্ভর করছে না। রাজনৈতিক উত্তেজনা, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং নেতাদের বক্তব্য পর্যন্ত বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা তৈরি করছে। একদিন দাম কমছে, পরদিনই আবার বাড়ছে—এই ওঠানামাই এখন নতুন স্বাভাবিক বাস্তবতা।

এই অস্থিরতা শুধু স্বল্পমেয়াদি নয়। দীর্ঘমেয়াদেও এটি বাজারকে প্রভাবিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, হরমুজ প্রণালী যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে—এই আশঙ্কাই বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

বাজার নিয়ন্ত্রণের সংকট
অতীতে তেলের বাজারে একটি স্থিতিশীলতা ছিল। কখনো যুক্তরাষ্ট্রের নীতিমালা, আবার কখনো তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সমন্বয় বাজারকে নিয়ন্ত্রণে রাখত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে, হরমুজ প্রণালীতে সমস্যা তৈরি হলে বড় তেল উৎপাদক দেশগুলো তাদের পণ্য সহজে বাজারে পাঠাতে পারে না। এতে করে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে যায় এবং দাম অস্থির হয়ে ওঠে।

Strait Of Hormuz Closure Impact On Global Oil Prices 2026 | What will  happen to the world and Bangladesh if the Strait of Hormuz gets shut down?  | The Daily Star

বিনিয়োগে প্রভাব
এই অনিশ্চয়তার আরেকটি বড় প্রভাব পড়ছে বিনিয়োগে। অর্থনীতিবিদদের মতে, যখন বাজারে ঝুঁকি বাড়ে, তখন ব্যবসায়ীরা বড় বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করে। ফলে শিল্প উৎপাদন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়।

তবে এর একটি ভিন্ন দিকও রয়েছে। তেলের দামের অস্থিরতা অনেক বিনিয়োগকারীকে বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকতে উৎসাহিত করছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরশক্তি ও অন্যান্য পরিষ্কার প্রযুক্তি এখন নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে প্রভাব
এই সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যেই বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যাচ্ছে। কোথাও রান্নার জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, কোথাও বিমান জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে পরিবহন ব্যয়ও বাড়ছে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে যেতে পারে। অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক ঝুঁকি বাড়ছে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।

ভবিষ্যতের চিত্র
বর্তমান পরিস্থিতি একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—বিশ্ব জ্বালানি বাজার আর আগের মতো স্থিতিশীল থাকবে না। রাজনৈতিক ঝুঁকি, যুদ্ধ এবং কৌশলগত জলপথের নিয়ন্ত্রণ এখন থেকে তেলের দামের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।

এই বাস্তবতায় দেশগুলোকে বিকল্প জ্বালানির দিকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে এবং অর্থনীতিকে এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে অস্থিরতার ধাক্কা সামলানো যায়।