ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এখন সবচেয়ে জরুরি—এমনই জোরালো বার্তা দিয়েছে চীন। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী দ্রুত খুলে দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে দেশটি, কারণ এই জলপথ বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
জাতিসংঘে চীনের রাষ্ট্রদূত ফু কং স্পষ্ট করে বলেছেন, যুদ্ধবিরতি শুধু ঘোষণা দিলেই হবে না, তা দীর্ঘস্থায়ী করতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধবিরতিকে অস্থায়ী বলে উল্লেখ করা এবং আবার হামলা শুরুর ইঙ্গিত—এসব বিষয় নিয়ে চীন গভীর উদ্বেগে রয়েছে।
তার মতে, এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো দুই পক্ষের মধ্যে আন্তরিক আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা, যাতে উত্তেজনা আর না বাড়ে।
হরমুজ প্রণালী খুলতে জোর
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী দ্রুত খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চীন। ফু কং বলেন, ইরানকে এই প্রণালীতে আরোপ করা সীমাবদ্ধতা তুলে নিতে হবে, আর যুক্তরাষ্ট্রকেও তার নৌ অবরোধ সরাতে হবে।
এই পথ বন্ধ থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, যার প্রভাব পড়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতেও।
আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান
চীনের মতে, যুদ্ধ পুনরায় শুরু ঠেকাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। সব দেশকে একসঙ্গে অবস্থান নিয়ে যুদ্ধবিরতির পক্ষে জোরালো অবস্থান নিতে হবে।
ফু কং বলেন, সংঘাত আবার শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে, যা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক সংকট তৈরি করবে।
ট্রাম্পের চীন সফর ও কূটনৈতিক গুরুত্ব
এই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের প্রসঙ্গও সামনে এসেছে। চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সফরের সময় যদি হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকে, তাহলে এটি দ্বিপক্ষীয় আলোচনার অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সফর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সামরিক সহযোগিতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান
চীন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে তাদের সামরিক সহযোগিতা নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা ভিত্তিহীন। এই ধরনের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেও সতর্ক করেছে দেশটি।
জাতিসংঘে সক্রিয় ভূমিকা
চলতি মাসে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিত্ব করছে চীন। এই সময়ের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার ওপর জোর দেওয়া হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পষ্ট—যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা এবং হরমুজ প্রণালী সচল রাখা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















