১২:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
মেলনের বৈশ্বিক কে-পপ তালিকায় আলোচনায় রাইজ ও বয় নেক্সট ডোর হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্টকে অপসারণে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ, রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে ট্রাম্পের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের রায়, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরানোর পথ খুলল রাশিয়ার যুব ফুটবল দলের ফেরার ইঙ্গিত, নতুন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের পথ খুলছে ফিফা ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক পদ বাতিল, বেতন-ভাতা ফেরতের নির্দেশ সিরাজগঞ্জে যমুনার স্রোতে ভেসে প্রাণ গেল দুই মাদ্রাসাছাত্রের খেলাপি ঋণের চাপে ‘মোট শকে’ ব্যাংকিং খাত, সংসদে রেজা কিবরিয়ার কঠোর সমালোচনা ৪৩তম বিসিএসের নন-ক্যাডার মেধাতালিকা ৬০ দিনের মধ্যে প্রকাশের নির্দেশ হাইকোর্টের চুয়াডাঙ্গায় বাড়ির গ্রিলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু খাগড়াছড়িতে অস্ত্র-গুলিসহ আটক ৩ ইউপিডিএফ কর্মী

সিটি ব্যাংকের মুনাফায় ১৬২% উল্লম্ফন, ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে নতুন শঙ্কা

২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকেই শক্তিশালী আর্থিক পারফরম্যান্স দেখিয়ে আলোচনায় এসেছে সিটি ব্যাংক। বছরের শুরুতেই ব্যাংকটির নিট মুনাফা বেড়েছে ১৬২ শতাংশ, যা ব্যাংকিং খাতে ইতিবাচক বার্তা দিলেও একই সঙ্গে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার বিষয়টি নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

মুনাফায় চমকপ্রদ উত্থান

জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসে সিটি ব্যাংকের কর-পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২৪১ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল মাত্র ৯২ কোটি টাকা। অল্প সময়ের ব্যবধানে এমন বড় উল্লম্ফন ব্যাংকটির আয় বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয়ও বেড়ে হয়েছে ১.৬ টাকা, যা আগের বছরের ০.৬ টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বেড়েছে।

আয়ের চালিকাশক্তি কোথায়

ঈদে আসছে নতুন নোট, পাওয়া যাবে ৩১ মার্চ থেকে

এই প্রবৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে মূল ব্যাংকিং কার্যক্রম। ঋণ থেকে সুদ আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৩০৬ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি।

এর পাশাপাশি বিনিয়োগ খাত থেকেও আয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ৬০৩ কোটি টাকা থেকে তা বেড়ে হয়েছে ১,০১৪ কোটি টাকা, যা মোট পরিচালন আয়ের বড় একটি অংশ।

ফি ও কমিশন আয়ে গতি

বিদেশি মুদ্রা লেনদেন, কার্ড ব্যবহার এবং বাণিজ্যিক কমিশন থেকে আয় বাড়ায় ফি ও কমিশন খাতেও ২৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এসেছে। সব মিলিয়ে প্রান্তিক শেষে ব্যাংকটির মোট পরিচালন আয় দাঁড়িয়েছে ১,৩৩৮ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৮ শতাংশ বেশি।

খরচ নিয়ন্ত্রণে দক্ষতা

শুধু আয় বাড়ানো নয়, ব্যয় ব্যবস্থাপনাতেও উন্নতি করেছে ব্যাংকটি। কস্ট-টু-ইনকাম অনুপাত ৫২ শতাংশ থেকে কমে ৪৪ শতাংশে নেমে এসেছে।
এছাড়া সম্পদের মান উন্নত হওয়ায় প্রভিশনিংয়ের প্রয়োজন কমেছে, যা সরাসরি মুনাফা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।

সাময়িক বন্ধ থাকবে সিটি ব্যাংক

পরিচালন মুনাফায় জোরালো বৃদ্ধি

ব্যাংকের পরিচালন মুনাফাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ৪৬১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে তা দাঁড়িয়েছে ৭৪৩ কোটি টাকায়। এটি ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনায় দক্ষতা ও স্থিতিশীলতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ঋণ প্রবৃদ্ধি নিয়ে বাড়ছে দুশ্চিন্তা

সব ইতিবাচক সূচকের মধ্যেও একটি বিষয় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে—ঋণ প্রবৃদ্ধির ধীরগতি। ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঋণের চাহিদা কমে যাওয়া পুরো ব্যাংকিং খাতের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

প্রচলিত ঋণনির্ভর ব্যবসা কাঠামোর ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে ব্যাংকগুলোর জন্য বিকল্প আয়ের উৎস ও নতুন কৌশল খুঁজে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।

সামগ্রিকভাবে, সিটি ব্যাংকের শক্তিশালী মুনাফা প্রবৃদ্ধি যেমন আশাবাদ তৈরি করেছে, তেমনি ঋণ খাতে স্থবিরতা ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মেলনের বৈশ্বিক কে-পপ তালিকায় আলোচনায় রাইজ ও বয় নেক্সট ডোর

সিটি ব্যাংকের মুনাফায় ১৬২% উল্লম্ফন, ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে নতুন শঙ্কা

০১:২৪:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকেই শক্তিশালী আর্থিক পারফরম্যান্স দেখিয়ে আলোচনায় এসেছে সিটি ব্যাংক। বছরের শুরুতেই ব্যাংকটির নিট মুনাফা বেড়েছে ১৬২ শতাংশ, যা ব্যাংকিং খাতে ইতিবাচক বার্তা দিলেও একই সঙ্গে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার বিষয়টি নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

মুনাফায় চমকপ্রদ উত্থান

জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসে সিটি ব্যাংকের কর-পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২৪১ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল মাত্র ৯২ কোটি টাকা। অল্প সময়ের ব্যবধানে এমন বড় উল্লম্ফন ব্যাংকটির আয় বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয়ও বেড়ে হয়েছে ১.৬ টাকা, যা আগের বছরের ০.৬ টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বেড়েছে।

আয়ের চালিকাশক্তি কোথায়

ঈদে আসছে নতুন নোট, পাওয়া যাবে ৩১ মার্চ থেকে

এই প্রবৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে মূল ব্যাংকিং কার্যক্রম। ঋণ থেকে সুদ আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৩০৬ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি।

এর পাশাপাশি বিনিয়োগ খাত থেকেও আয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ৬০৩ কোটি টাকা থেকে তা বেড়ে হয়েছে ১,০১৪ কোটি টাকা, যা মোট পরিচালন আয়ের বড় একটি অংশ।

ফি ও কমিশন আয়ে গতি

বিদেশি মুদ্রা লেনদেন, কার্ড ব্যবহার এবং বাণিজ্যিক কমিশন থেকে আয় বাড়ায় ফি ও কমিশন খাতেও ২৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এসেছে। সব মিলিয়ে প্রান্তিক শেষে ব্যাংকটির মোট পরিচালন আয় দাঁড়িয়েছে ১,৩৩৮ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৮ শতাংশ বেশি।

খরচ নিয়ন্ত্রণে দক্ষতা

শুধু আয় বাড়ানো নয়, ব্যয় ব্যবস্থাপনাতেও উন্নতি করেছে ব্যাংকটি। কস্ট-টু-ইনকাম অনুপাত ৫২ শতাংশ থেকে কমে ৪৪ শতাংশে নেমে এসেছে।
এছাড়া সম্পদের মান উন্নত হওয়ায় প্রভিশনিংয়ের প্রয়োজন কমেছে, যা সরাসরি মুনাফা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।

সাময়িক বন্ধ থাকবে সিটি ব্যাংক

পরিচালন মুনাফায় জোরালো বৃদ্ধি

ব্যাংকের পরিচালন মুনাফাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ৪৬১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে তা দাঁড়িয়েছে ৭৪৩ কোটি টাকায়। এটি ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনায় দক্ষতা ও স্থিতিশীলতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ঋণ প্রবৃদ্ধি নিয়ে বাড়ছে দুশ্চিন্তা

সব ইতিবাচক সূচকের মধ্যেও একটি বিষয় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে—ঋণ প্রবৃদ্ধির ধীরগতি। ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঋণের চাহিদা কমে যাওয়া পুরো ব্যাংকিং খাতের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

প্রচলিত ঋণনির্ভর ব্যবসা কাঠামোর ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে ব্যাংকগুলোর জন্য বিকল্প আয়ের উৎস ও নতুন কৌশল খুঁজে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।

সামগ্রিকভাবে, সিটি ব্যাংকের শক্তিশালী মুনাফা প্রবৃদ্ধি যেমন আশাবাদ তৈরি করেছে, তেমনি ঋণ খাতে স্থবিরতা ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।