০৪:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রো-প্যালেস্টাইন মিছিল নিয়ে কড়া বার্তা: প্রয়োজন হলে নিষিদ্ধ করার ইঙ্গিত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের সামনে কঠিন দুই বছর: প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য, চাকরি ও খাদ্যনিরাপত্তায় বড় চাপ ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ১৬ মার্কিন ঘাটি ধ্বংস মাকালু জয় করে ইতিহাস: প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে পাঁচ ‘আট হাজারি’ শৃঙ্গ স্পর্শ বাবর আলীর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জোরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে আমেরিকার অর্থনীতি স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্যের অদৃশ্য দেয়াল: আবাসিক বিভাজনে পিছিয়ে পড়ছে প্রান্তিক মানুষ ক্যারিয়ারে বিরতি শুধু নারীদের নয়, সবার জন্য—সমতার নতুন বার্তা ওজন কমালেও খাবারের আনন্দ হারানোর শঙ্কা, নতুন আলোচনায় জনপ্রিয় ওষুধ জাপানি কারুশিল্পের বিশ্বজয়: ৩০০ বছরের ঐতিহ্য পেরিয়ে নতুন প্রজন্মের দখলে ধনীদের ব্যঙ্গ এখন বাস্তবেই: টিভি সিরিজকে হার মানাচ্ছে রিয়েলিটি শো

চীনের প্রভাব বাড়ছে ইন্টারপোলে, হংকং সভা ঘিরে বিতর্ক ও উদ্বেগ

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ইন্টারপোলের বার্ষিক সাধারণ সভা হংকংয়ে আয়োজনের সিদ্ধান্ত ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। অনেক আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং সংস্থাটির নিরপেক্ষতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

বিশ্বজুড়ে ১৯৬টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা আগামী নভেম্বরের শেষ দিকে হংকংয়ে জড়ো হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু সমালোচকদের মতে, এই আয়োজন এমন এক জায়গায় হচ্ছে যেখানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে।

হংকং নির্বাচন নিয়ে কেন বিতর্ক

একসময় স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত হংকং এখন অনেকের কাছে চীনের কঠোর নিয়ন্ত্রণের উদাহরণ। বিশেষ করে ২০১৯ সালের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের পর ব্যাপক গ্রেপ্তার ও কঠোর জাতীয় নিরাপত্তা আইন চালুর কারণে এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

অধিকারকর্মীদের মতে, এমন একটি পরিবেশে আন্তর্জাতিক আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সভা আয়োজন করলে সাংবাদিক ও বেসরকারি সংগঠনের অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, সেখানে গেলে গ্রেপ্তার বা হয়রানির ঝুঁকিও থাকতে পারে।

Opinion | How national security and 'one country, two systems' go hand in  hand | South China Morning Post

‘রেড নোটিস’ ব্যবস্থার অপব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন

ইন্টারপোলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ারগুলোর একটি হলো ‘রেড নোটিস’, যার মাধ্যমে কোনো দেশ আন্তর্জাতিকভাবে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার আবেদন জানায়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে, কিছু দেশ এই ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা ভিন্নমতাবলম্বীদের টার্গেট করতে ব্যবহার করে।

চীনকে এমন দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। তাদের দাবি, রেড নোটিসের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, তবে এর একটি অংশ মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে বাতিলও হচ্ছে।

২০২৫ সালে প্রায় ১৯ হাজারের বেশি রেড নোটিস জারি করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। একই সঙ্গে কয়েক হাজার আবেদন বাতিল করা হয়েছে, যার একটি অংশ সংস্থার নীতিমালা লঙ্ঘনের কারণে।

চীনের বৈশ্বিক নিরাপত্তা প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, চীন তার বৈশ্বিক নিরাপত্তা উদ্যোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইনপ্রয়োগ ব্যবস্থায় প্রভাব বাড়াতে চাইছে। দেশটির জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয় শুধু পুলিশি কাজই নয়, গোয়েন্দা কার্যক্রমেও সক্রিয় এবং দেশ-বিদেশে ভিন্নমতাবলম্বীদের নজরদারির অভিযোগ রয়েছে।

Interpol arrests 219 criminals in human trafficking operation

এছাড়া ‘ফক্সহান্ট’ ও ‘স্কাইনেট’ নামের অভিযানের মাধ্যমে চীন বিদেশে থাকা সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সমালোচকদের মতে, ইন্টারপোলের নোটিস ব্যবস্থার সঙ্গে এই উদ্যোগগুলো যুক্ত হলে তা আরও শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

ইন্টারপোলের অবস্থান

তবে ইন্টারপোল বলছে, তাদের ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতি বছর হাজারো অপরাধী গ্রেপ্তার হয় এবং মানবপাচার, সন্ত্রাসবাদ ও সাইবার অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হয়।

সংস্থাটি দাবি করেছে, রেড নোটিসের অপব্যবহার ঠেকাতে তাদের নজরদারি ও যাচাই প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা উন্নত করা হবে।

সামনে কী

বিশ্লেষকরা বলছেন, হংকংয়ে এই আয়োজন শুধু একটি সভা নয়, বরং এটি বৈশ্বিক আইনপ্রয়োগ ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনারও একটি পরীক্ষা। এতে একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার হতে পারে, অন্যদিকে সংস্থাটির নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠতে পারে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রো-প্যালেস্টাইন মিছিল নিয়ে কড়া বার্তা: প্রয়োজন হলে নিষিদ্ধ করার ইঙ্গিত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর

চীনের প্রভাব বাড়ছে ইন্টারপোলে, হংকং সভা ঘিরে বিতর্ক ও উদ্বেগ

০২:৫৪:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ইন্টারপোলের বার্ষিক সাধারণ সভা হংকংয়ে আয়োজনের সিদ্ধান্ত ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। অনেক আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং সংস্থাটির নিরপেক্ষতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

বিশ্বজুড়ে ১৯৬টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা আগামী নভেম্বরের শেষ দিকে হংকংয়ে জড়ো হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু সমালোচকদের মতে, এই আয়োজন এমন এক জায়গায় হচ্ছে যেখানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে।

হংকং নির্বাচন নিয়ে কেন বিতর্ক

একসময় স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত হংকং এখন অনেকের কাছে চীনের কঠোর নিয়ন্ত্রণের উদাহরণ। বিশেষ করে ২০১৯ সালের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের পর ব্যাপক গ্রেপ্তার ও কঠোর জাতীয় নিরাপত্তা আইন চালুর কারণে এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

অধিকারকর্মীদের মতে, এমন একটি পরিবেশে আন্তর্জাতিক আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সভা আয়োজন করলে সাংবাদিক ও বেসরকারি সংগঠনের অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, সেখানে গেলে গ্রেপ্তার বা হয়রানির ঝুঁকিও থাকতে পারে।

Opinion | How national security and 'one country, two systems' go hand in  hand | South China Morning Post

‘রেড নোটিস’ ব্যবস্থার অপব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন

ইন্টারপোলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ারগুলোর একটি হলো ‘রেড নোটিস’, যার মাধ্যমে কোনো দেশ আন্তর্জাতিকভাবে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার আবেদন জানায়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে, কিছু দেশ এই ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা ভিন্নমতাবলম্বীদের টার্গেট করতে ব্যবহার করে।

চীনকে এমন দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। তাদের দাবি, রেড নোটিসের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, তবে এর একটি অংশ মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে বাতিলও হচ্ছে।

২০২৫ সালে প্রায় ১৯ হাজারের বেশি রেড নোটিস জারি করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। একই সঙ্গে কয়েক হাজার আবেদন বাতিল করা হয়েছে, যার একটি অংশ সংস্থার নীতিমালা লঙ্ঘনের কারণে।

চীনের বৈশ্বিক নিরাপত্তা প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, চীন তার বৈশ্বিক নিরাপত্তা উদ্যোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইনপ্রয়োগ ব্যবস্থায় প্রভাব বাড়াতে চাইছে। দেশটির জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয় শুধু পুলিশি কাজই নয়, গোয়েন্দা কার্যক্রমেও সক্রিয় এবং দেশ-বিদেশে ভিন্নমতাবলম্বীদের নজরদারির অভিযোগ রয়েছে।

Interpol arrests 219 criminals in human trafficking operation

এছাড়া ‘ফক্সহান্ট’ ও ‘স্কাইনেট’ নামের অভিযানের মাধ্যমে চীন বিদেশে থাকা সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সমালোচকদের মতে, ইন্টারপোলের নোটিস ব্যবস্থার সঙ্গে এই উদ্যোগগুলো যুক্ত হলে তা আরও শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

ইন্টারপোলের অবস্থান

তবে ইন্টারপোল বলছে, তাদের ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতি বছর হাজারো অপরাধী গ্রেপ্তার হয় এবং মানবপাচার, সন্ত্রাসবাদ ও সাইবার অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হয়।

সংস্থাটি দাবি করেছে, রেড নোটিসের অপব্যবহার ঠেকাতে তাদের নজরদারি ও যাচাই প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা উন্নত করা হবে।

সামনে কী

বিশ্লেষকরা বলছেন, হংকংয়ে এই আয়োজন শুধু একটি সভা নয়, বরং এটি বৈশ্বিক আইনপ্রয়োগ ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনারও একটি পরীক্ষা। এতে একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার হতে পারে, অন্যদিকে সংস্থাটির নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠতে পারে।