১০:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
প্রদেশ নয়, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণই পাকিস্তানের প্রকৃত সংস্কার টাইটানিকের শতাধিক নিদর্শন নিলাম বন্ধ করলেন মার্কিন বিচারক আমদানি নীতিতে বড় পরিবর্তন, এলসি ছাড়াই সীমাহীন মূল্যের চুক্তিতে পণ্য আমদানির সুযোগ মহেশখালীর সাগরে নিউজিল্যান্ডের পরিবারের নৌকাডুবি, নিখোঁজ কিশোর চীনের জে-১০ সিই কিনছে বাংলাদেশ ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ৯০৭; মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৮ বুধবার বাংলাদেশে পালিত হবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী, দেশজুড়ে নানা আয়োজন ঢাকা-যশোর রুটে আবার ইউএস-বাংলার ফ্লাইট, ৯ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিদিন দুই ট্রিপ মেঘনা ব্যাংকের ৪০০ কোটি টাকার সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড অনুমোদন, মূলধন শক্তিশালী হবে প্রিন্স হ্যারি–মেগানের নতুন ব্রিটেনযাত্রা, পেছনে পড়ে থাকবে আর্চির প্রিয় ‘মুরগির বাড়ি’

তেলের দামে ঝাঁকুনি, সুদের হার বাড়ানোর চাপ—চাপে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ বাড়তে শুরু করায় আবারও সুদের হার বাড়ানোর চাপে পড়েছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হলেও পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে, আর এই পরিবর্তনের মূল চালিকা শক্তি এখন তেলের বাজার।

তেলের দাম যদি ১৩০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থানে স্থির থাকে, তাহলে চলতি বছরের বাকি সময়ে মুদ্রাস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে যেখানে মূল্যস্ফীতি ৩.৩ শতাংশ, সেখানে তা ৬ শতাংশের বেশি ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সুদের হার আবার ৫.২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে, যা ২০২৪ সালের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সমান।

সুদের হার বাড়ার ইঙ্গিত

জ্বালানি তেলের নতুন দাম আজ থেকে কার্যকর, কোনটির ল...

ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের নীতিনির্ধারকরা ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, জুন মাসে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি এক ধাক্কায় ০.৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক কম বৃদ্ধি—০.২৫ শতাংশ—হবে বলে আশা করছিলেন।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও বাজার

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সংঘাত পরিস্থিতি, তেলের বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর ফলে জ্বালানি ও বন্ড বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

এই প্রভাব সরাসরি যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতেও পড়ছে। দেশটির ১০ বছরের সরকারি বন্ডের সুদের হার বেড়ে ৫.০৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আর্থিক সংকট-পরবর্তী সর্বোচ্চ। একই প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানেও দেখা যাচ্ছে।

বাজারই করছে কড়াকড়ি

ডলারের দাম বেড়ে ৯২ টাকা

অর্থনীতিবিদদের মতে, আর্থিক বাজার নিজেই অনেকটা কড়াকড়ি করে ফেলেছে। ঋণের খরচ বেড়ে যাওয়া এবং মর্টগেজের সুদ বাড়ায় ইতোমধ্যে আর্থিক পরিবেশ কঠিন হয়েছে, যা কার্যত একাধিকবার সুদের হার বাড়ানোর সমতুল্য প্রভাব ফেলছে।

তবে শুধুমাত্র বাজারের ওপর নির্ভর করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে মানুষের মধ্যে মূল্যস্ফীতি বাড়ার প্রত্যাশা আরও বেড়ে যেতে পারে।

২০২২ সালের সংকটের সঙ্গে পার্থক্য

বর্তমান পরিস্থিতি ২০২২ সালের জ্বালানি সংকটের মতো নয়। তখন গ্যাসের বাজারে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, কিন্তু এখন মূল চাপ তেলের বাজারে। পাশাপাশি শ্রমবাজারও আগের মতো শক্তিশালী নয়। বেকারত্ব বাড়ছে, কর্মীর সরবরাহ বাড়ছে, ফলে মজুরি বাড়ানোর চাপও কমেছে।

Bank of England holds rates at 3.75% but says 'ready to act'

খাদ্যদামে নতুন চাপ

ব্যাংকের আশঙ্কা, জ্বালানির খরচ বাড়লে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সেই খরচ ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেবে। বিশেষ করে সুপারমার্কেটগুলোতে এর প্রভাব বেশি পড়বে এবং খাদ্যদাম আরও বাড়তে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ

এমনকি আশাবাদী পরিস্থিতিতেও ২০২৮ সালের আগে মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশ লক্ষ্যে নামবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থাৎ টানা ছয় বছর এই লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ থাকবে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড।

এই বাস্তবতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ২ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি লক্ষ্যের কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রদেশ নয়, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণই পাকিস্তানের প্রকৃত সংস্কার

তেলের দামে ঝাঁকুনি, সুদের হার বাড়ানোর চাপ—চাপে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড

১২:৩৭:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ বাড়তে শুরু করায় আবারও সুদের হার বাড়ানোর চাপে পড়েছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হলেও পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে, আর এই পরিবর্তনের মূল চালিকা শক্তি এখন তেলের বাজার।

তেলের দাম যদি ১৩০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থানে স্থির থাকে, তাহলে চলতি বছরের বাকি সময়ে মুদ্রাস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে যেখানে মূল্যস্ফীতি ৩.৩ শতাংশ, সেখানে তা ৬ শতাংশের বেশি ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সুদের হার আবার ৫.২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে, যা ২০২৪ সালের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সমান।

সুদের হার বাড়ার ইঙ্গিত

জ্বালানি তেলের নতুন দাম আজ থেকে কার্যকর, কোনটির ল...

ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের নীতিনির্ধারকরা ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, জুন মাসে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি এক ধাক্কায় ০.৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক কম বৃদ্ধি—০.২৫ শতাংশ—হবে বলে আশা করছিলেন।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও বাজার

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সংঘাত পরিস্থিতি, তেলের বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর ফলে জ্বালানি ও বন্ড বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

এই প্রভাব সরাসরি যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতেও পড়ছে। দেশটির ১০ বছরের সরকারি বন্ডের সুদের হার বেড়ে ৫.০৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আর্থিক সংকট-পরবর্তী সর্বোচ্চ। একই প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানেও দেখা যাচ্ছে।

বাজারই করছে কড়াকড়ি

ডলারের দাম বেড়ে ৯২ টাকা

অর্থনীতিবিদদের মতে, আর্থিক বাজার নিজেই অনেকটা কড়াকড়ি করে ফেলেছে। ঋণের খরচ বেড়ে যাওয়া এবং মর্টগেজের সুদ বাড়ায় ইতোমধ্যে আর্থিক পরিবেশ কঠিন হয়েছে, যা কার্যত একাধিকবার সুদের হার বাড়ানোর সমতুল্য প্রভাব ফেলছে।

তবে শুধুমাত্র বাজারের ওপর নির্ভর করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে মানুষের মধ্যে মূল্যস্ফীতি বাড়ার প্রত্যাশা আরও বেড়ে যেতে পারে।

২০২২ সালের সংকটের সঙ্গে পার্থক্য

বর্তমান পরিস্থিতি ২০২২ সালের জ্বালানি সংকটের মতো নয়। তখন গ্যাসের বাজারে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, কিন্তু এখন মূল চাপ তেলের বাজারে। পাশাপাশি শ্রমবাজারও আগের মতো শক্তিশালী নয়। বেকারত্ব বাড়ছে, কর্মীর সরবরাহ বাড়ছে, ফলে মজুরি বাড়ানোর চাপও কমেছে।

Bank of England holds rates at 3.75% but says 'ready to act'

খাদ্যদামে নতুন চাপ

ব্যাংকের আশঙ্কা, জ্বালানির খরচ বাড়লে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সেই খরচ ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেবে। বিশেষ করে সুপারমার্কেটগুলোতে এর প্রভাব বেশি পড়বে এবং খাদ্যদাম আরও বাড়তে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ

এমনকি আশাবাদী পরিস্থিতিতেও ২০২৮ সালের আগে মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশ লক্ষ্যে নামবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থাৎ টানা ছয় বছর এই লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ থাকবে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড।

এই বাস্তবতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ২ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি লক্ষ্যের কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।