১২:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
মেলনের বৈশ্বিক কে-পপ তালিকায় আলোচনায় রাইজ ও বয় নেক্সট ডোর হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্টকে অপসারণে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ, রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে ট্রাম্পের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের রায়, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরানোর পথ খুলল রাশিয়ার যুব ফুটবল দলের ফেরার ইঙ্গিত, নতুন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের পথ খুলছে ফিফা ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক পদ বাতিল, বেতন-ভাতা ফেরতের নির্দেশ সিরাজগঞ্জে যমুনার স্রোতে ভেসে প্রাণ গেল দুই মাদ্রাসাছাত্রের খেলাপি ঋণের চাপে ‘মোট শকে’ ব্যাংকিং খাত, সংসদে রেজা কিবরিয়ার কঠোর সমালোচনা ৪৩তম বিসিএসের নন-ক্যাডার মেধাতালিকা ৬০ দিনের মধ্যে প্রকাশের নির্দেশ হাইকোর্টের চুয়াডাঙ্গায় বাড়ির গ্রিলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু খাগড়াছড়িতে অস্ত্র-গুলিসহ আটক ৩ ইউপিডিএফ কর্মী

ট্রাম্পের ছায়ায় ফেড: কেভিন ওয়ারশ কি বদলে দেবেন আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক?

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সাধারণত রাজনীতির সরাসরি চাপের বাইরে থাকে। কিন্তু নতুন বাস্তবতায় সেই চিত্র দ্রুত বদলাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা, আইনি চাপ ও রাজনৈতিক অবস্থান এখন ফেডকে ঘিরে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে কেভিন ওয়ারশের সম্ভাব্য আগমন নিয়ে শুরু হয়েছে বড় আলোচনা—তিনি কি ফেডকে আরও রাজনৈতিক করে তুলবেন, নাকি ভারসাম্য রক্ষা করবেন?

ফেডের ওপর ট্রাম্পের চাপ

দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প সুদের হার কমানোর পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, উচ্চ সুদের হার অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ কারণে তিনি ফেডের বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এমনকি ফেড চেয়ারম্যানকে নিয়ে তদন্তের মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

এই চাপের মধ্যেই কেভিন ওয়ারশকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে সামনে আনা হয়েছে। তার অবস্থান অনেকটাই হোয়াইট হাউসের সঙ্গে মিল রেখে গড়ে উঠেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Will Kevin Warsh Trumpify the Federal Reserve?

ওয়ারশের অবস্থান: পরিবর্তন নাকি সমন্বয়

ওয়ারশ অতীতে কঠোর মুদ্রানীতির পক্ষে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তার অবস্থানে পরিবর্তন দেখা গেছে। তিনি এখন তুলনামূলক নমনীয় নীতির কথা বলছেন, যা সুদের হার কমানোর পক্ষে যেতে পারে। তবে তার প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এগুলোর অনেকটাই সীমিত প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি “নীতিগত পরিবর্তন”-এর কথা বললেও ফেডের কর্মীদের বড় ধরনের রদবদলের পক্ষে নন। এটি অনেকের উদ্বেগ কমিয়েছে, কারণ ফেডের আঞ্চলিক নেতৃত্ব বদলে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর আশঙ্কা ছিল।

নীতিগত সংস্কারের দুই বড় দিক

ওয়ারশের মূল দুটি প্রস্তাবের একটি হলো ফেডের বিশাল ব্যালান্স শিট দ্রুত কমানো। বর্তমানে এটি বিপুল আকার ধারণ করেছে, যা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তবে দ্রুত কমানোর ফলে বন্ডের দাম কমে যেতে পারে এবং সুদের হার বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

How Kevin Warsh could save the Federal Reserve

দ্বিতীয়ত, তিনি “ফরওয়ার্ড গাইডেন্স” বা ভবিষ্যৎ নীতির আগাম ইঙ্গিত দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে সন্দিহান। তার মতে, এটি অনেক সময় নীতিনির্ধারকদের ভুল সিদ্ধান্তে আটকে রাখে। যদিও বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এই পদ্ধতি বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা

যদিও চেয়ারম্যান হিসেবে ওয়ারশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন, তবুও তিনি একা ফেডের নীতি নির্ধারণ করতে পারবেন না। সিদ্ধান্ত নিতে বোর্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন প্রয়োজন হয়। ফলে তার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে হলে অন্য সদস্যদের সমর্থন জরুরি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সুদের হার স্থির থাকার সম্ভাবনাই বেশি। বৈশ্বিক সংঘাত ও জ্বালানি-খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ আবার বাড়তে পারে, যা নীতিনির্ধারণকে আরও জটিল করে তুলছে।

UN ESCAP Warns Asia-Pacific Inflation to Hit 4.6% in 2026 as West Asia  Conflict Drives Energy and Food Costs Higher

ফেডের রাজনীতিকরণ নিয়ে শঙ্কা

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, ফেডের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বাড়তে পারে। ওয়ারশ নিজেও অতীতে ফেডের নীতিকে “দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা” বলে মন্তব্য করেছেন। যদি তিনি প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হন, তবে দোষ অন্যদের ওপর চাপানোর প্রবণতা দেখা যেতে পারে।

এতে একদিকে প্রেসিডেন্ট, অন্যদিকে ফেড চেয়ারম্যান—দুজনেরই প্রকাশ্য সমালোচনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এমন পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

শেষ পর্যন্ত, কেভিন ওয়ারশ ফেডকে পুরোপুরি বদলে ফেলবেন—এমন সম্ভাবনা কম। তবে তার নেতৃত্বে ফেডের ভেতরে এবং বাইরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়বে, এতে সন্দেহ নেই।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মেলনের বৈশ্বিক কে-পপ তালিকায় আলোচনায় রাইজ ও বয় নেক্সট ডোর

ট্রাম্পের ছায়ায় ফেড: কেভিন ওয়ারশ কি বদলে দেবেন আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক?

০২:১৮:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সাধারণত রাজনীতির সরাসরি চাপের বাইরে থাকে। কিন্তু নতুন বাস্তবতায় সেই চিত্র দ্রুত বদলাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা, আইনি চাপ ও রাজনৈতিক অবস্থান এখন ফেডকে ঘিরে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে কেভিন ওয়ারশের সম্ভাব্য আগমন নিয়ে শুরু হয়েছে বড় আলোচনা—তিনি কি ফেডকে আরও রাজনৈতিক করে তুলবেন, নাকি ভারসাম্য রক্ষা করবেন?

ফেডের ওপর ট্রাম্পের চাপ

দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প সুদের হার কমানোর পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, উচ্চ সুদের হার অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ কারণে তিনি ফেডের বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এমনকি ফেড চেয়ারম্যানকে নিয়ে তদন্তের মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

এই চাপের মধ্যেই কেভিন ওয়ারশকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে সামনে আনা হয়েছে। তার অবস্থান অনেকটাই হোয়াইট হাউসের সঙ্গে মিল রেখে গড়ে উঠেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Will Kevin Warsh Trumpify the Federal Reserve?

ওয়ারশের অবস্থান: পরিবর্তন নাকি সমন্বয়

ওয়ারশ অতীতে কঠোর মুদ্রানীতির পক্ষে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তার অবস্থানে পরিবর্তন দেখা গেছে। তিনি এখন তুলনামূলক নমনীয় নীতির কথা বলছেন, যা সুদের হার কমানোর পক্ষে যেতে পারে। তবে তার প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এগুলোর অনেকটাই সীমিত প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি “নীতিগত পরিবর্তন”-এর কথা বললেও ফেডের কর্মীদের বড় ধরনের রদবদলের পক্ষে নন। এটি অনেকের উদ্বেগ কমিয়েছে, কারণ ফেডের আঞ্চলিক নেতৃত্ব বদলে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর আশঙ্কা ছিল।

নীতিগত সংস্কারের দুই বড় দিক

ওয়ারশের মূল দুটি প্রস্তাবের একটি হলো ফেডের বিশাল ব্যালান্স শিট দ্রুত কমানো। বর্তমানে এটি বিপুল আকার ধারণ করেছে, যা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তবে দ্রুত কমানোর ফলে বন্ডের দাম কমে যেতে পারে এবং সুদের হার বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

How Kevin Warsh could save the Federal Reserve

দ্বিতীয়ত, তিনি “ফরওয়ার্ড গাইডেন্স” বা ভবিষ্যৎ নীতির আগাম ইঙ্গিত দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে সন্দিহান। তার মতে, এটি অনেক সময় নীতিনির্ধারকদের ভুল সিদ্ধান্তে আটকে রাখে। যদিও বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এই পদ্ধতি বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা

যদিও চেয়ারম্যান হিসেবে ওয়ারশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন, তবুও তিনি একা ফেডের নীতি নির্ধারণ করতে পারবেন না। সিদ্ধান্ত নিতে বোর্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন প্রয়োজন হয়। ফলে তার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে হলে অন্য সদস্যদের সমর্থন জরুরি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সুদের হার স্থির থাকার সম্ভাবনাই বেশি। বৈশ্বিক সংঘাত ও জ্বালানি-খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ আবার বাড়তে পারে, যা নীতিনির্ধারণকে আরও জটিল করে তুলছে।

UN ESCAP Warns Asia-Pacific Inflation to Hit 4.6% in 2026 as West Asia  Conflict Drives Energy and Food Costs Higher

ফেডের রাজনীতিকরণ নিয়ে শঙ্কা

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, ফেডের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বাড়তে পারে। ওয়ারশ নিজেও অতীতে ফেডের নীতিকে “দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা” বলে মন্তব্য করেছেন। যদি তিনি প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হন, তবে দোষ অন্যদের ওপর চাপানোর প্রবণতা দেখা যেতে পারে।

এতে একদিকে প্রেসিডেন্ট, অন্যদিকে ফেড চেয়ারম্যান—দুজনেরই প্রকাশ্য সমালোচনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এমন পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

শেষ পর্যন্ত, কেভিন ওয়ারশ ফেডকে পুরোপুরি বদলে ফেলবেন—এমন সম্ভাবনা কম। তবে তার নেতৃত্বে ফেডের ভেতরে এবং বাইরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়বে, এতে সন্দেহ নেই।