০৪:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
কলকাতাজুড়ে মিশ্র জনমত, গণনার দিনে এগিয়ে বিজেপি—তবু এলাকায় এলাকায় ভিন্ন চিত্র ইরানের হুশিয়ারি, হরমুজ প্রণালীতে কোন বিদেশী বাহিনী এলেই হামলা চালানো হবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে উৎপাদনে ধস, এপ্রিলেই সংকোচনে শিল্পখাত আল কাদসিয়ার ধাক্কায় থামল আল নাসরের জয়ের ধারা, শিরোপা দৌড়ে অনিশ্চয়তা রোনালদোর দুঃসাহসিক অভিযাত্রীদের জন্য এক দ্বীপ: সেন্ট হেলেনা আবিষ্কার পাঁচ রাজ্যের ভোটে নাটকীয় পালাবদল: বাংলায় বিজেপির ঝড়, তামিলনাড়ুতে বিজয়ের চমক, কেরালায় কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তন টোকিওর লক্ষ্য: এআইকে কাজে লাগিয়ে স্টার্টআপ শক্তিতে বিশ্বনেতা হওয়ার দৌড় ১০০ কেন্দ্রে ভোট গণনা বন্ধের অভিযোগ, কর্মীদের কেন্দ্রে থাকার আহ্বান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসছে মূল্যস্ফীতির নতুন ঢেউ গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্তদের অবস্থান কর্মসূচী: পেনশন পুনঃস্থাপনসহ ভাতার দাবিতে ঢাকায় সমাবেশ

তেল দামে সামান্য পতন, শেয়ারবাজারে উত্থানের ইঙ্গিত—ইরান-যুক্তরাষ্ট্র অনিশ্চয়তায় নজর বিনিয়োগকারীদের

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই বৈশ্বিক বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। রবিবার তেলের দামে সামান্য পতন হলেও শেয়ারবাজারে ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে, যা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক আশাবাদের প্রতিফলন।

সমঝোতা নিয়ে সন্দেহ, তবু আলোচনার ইঙ্গিত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব তিনি পর্যালোচনা করছেন। তবে সেটি গ্রহণযোগ্য হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি সন্দিহান। একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী থেকে সংঘাতের বাইরে থাকা জাহাজগুলো সরিয়ে নিতে উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। সোমবার সকাল থেকেই এ প্রচেষ্টা শুরু হতে পারে বলে তিনি সামাজিক মাধ্যমে উল্লেখ করেন, যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা জানানো হয়নি।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে উদ্বেগ

Oil settles down over 4% on US-Iran de-escalation, easing supply worries |  Reuters

ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। সাধারণত বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে এই পথে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

তেলের দামে সামান্য পতন

রবিবার রাতে বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১ শতাংশেরও কম কমে প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০৭ ডলারে নেমে আসে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দামও ১ শতাংশের কম হ্রাস পেয়ে প্রায় ১০১ ডলারে লেনদেন হয়। তবে এই পতন খুব সীমিত হওয়ায় বাজারে চাপ পুরোপুরি কমেনি।

শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের ফিউচারস সামান্য ঊর্ধ্বমুখী ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত শুক্রবার সূচকটি টানা পঞ্চম সপ্তাহের মতো উত্থান ধরে রাখে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Why are oil prices swinging wildly today? Iran-US talks and supply risks  rattle markets

জ্বালানির খরচে চাপ বাড়ছে

তেলের দামে সামান্য পতন হলেও খুচরা জ্বালানি দামে তার প্রভাব এখনও পড়েনি। যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের গড় দাম বেড়ে প্রায় ৪.৪৫ ডলার প্রতি গ্যালনে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। ডিজেলের দাম আরও দ্রুত বেড়ে ৫.৬৪ ডলারে পৌঁছেছে, যা একই সময়ে ৫০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দামের পরিবর্তন সাধারণত কয়েকদিন পরে খুচরা জ্বালানির দামে প্রতিফলিত হয়। ফলে সাম্প্রতিক দামের ওঠানামার প্রভাব বাজারে পুরোপুরি দেখতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

বিশ্ববাজারে সতর্ক দৃষ্টি

সব মিলিয়ে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এবং হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হয়ে উঠেছে। বিনিয়োগকারীরা পরিস্থিতির প্রতিটি পরিবর্তনের দিকে নজর রাখছেন, কারণ সামান্য অস্থিরতাও জ্বালানি ও আর্থিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

কলকাতাজুড়ে মিশ্র জনমত, গণনার দিনে এগিয়ে বিজেপি—তবু এলাকায় এলাকায় ভিন্ন চিত্র

তেল দামে সামান্য পতন, শেয়ারবাজারে উত্থানের ইঙ্গিত—ইরান-যুক্তরাষ্ট্র অনিশ্চয়তায় নজর বিনিয়োগকারীদের

০৩:২৪:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই বৈশ্বিক বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। রবিবার তেলের দামে সামান্য পতন হলেও শেয়ারবাজারে ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে, যা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক আশাবাদের প্রতিফলন।

সমঝোতা নিয়ে সন্দেহ, তবু আলোচনার ইঙ্গিত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব তিনি পর্যালোচনা করছেন। তবে সেটি গ্রহণযোগ্য হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি সন্দিহান। একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী থেকে সংঘাতের বাইরে থাকা জাহাজগুলো সরিয়ে নিতে উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। সোমবার সকাল থেকেই এ প্রচেষ্টা শুরু হতে পারে বলে তিনি সামাজিক মাধ্যমে উল্লেখ করেন, যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা জানানো হয়নি।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে উদ্বেগ

Oil settles down over 4% on US-Iran de-escalation, easing supply worries |  Reuters

ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। সাধারণত বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে এই পথে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

তেলের দামে সামান্য পতন

রবিবার রাতে বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১ শতাংশেরও কম কমে প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০৭ ডলারে নেমে আসে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দামও ১ শতাংশের কম হ্রাস পেয়ে প্রায় ১০১ ডলারে লেনদেন হয়। তবে এই পতন খুব সীমিত হওয়ায় বাজারে চাপ পুরোপুরি কমেনি।

শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের ফিউচারস সামান্য ঊর্ধ্বমুখী ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত শুক্রবার সূচকটি টানা পঞ্চম সপ্তাহের মতো উত্থান ধরে রাখে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Why are oil prices swinging wildly today? Iran-US talks and supply risks  rattle markets

জ্বালানির খরচে চাপ বাড়ছে

তেলের দামে সামান্য পতন হলেও খুচরা জ্বালানি দামে তার প্রভাব এখনও পড়েনি। যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের গড় দাম বেড়ে প্রায় ৪.৪৫ ডলার প্রতি গ্যালনে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। ডিজেলের দাম আরও দ্রুত বেড়ে ৫.৬৪ ডলারে পৌঁছেছে, যা একই সময়ে ৫০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দামের পরিবর্তন সাধারণত কয়েকদিন পরে খুচরা জ্বালানির দামে প্রতিফলিত হয়। ফলে সাম্প্রতিক দামের ওঠানামার প্রভাব বাজারে পুরোপুরি দেখতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

বিশ্ববাজারে সতর্ক দৃষ্টি

সব মিলিয়ে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এবং হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হয়ে উঠেছে। বিনিয়োগকারীরা পরিস্থিতির প্রতিটি পরিবর্তনের দিকে নজর রাখছেন, কারণ সামান্য অস্থিরতাও জ্বালানি ও আর্থিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।