গ্রামীণ ব্যাংকের শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের বিভিন্ন দাবিতে আবারও আন্দোলনের পথে নামছেন। চিকিৎসাভাতা, উৎসব ভাতা প্রদান এবং অবসরের ১৫ বছর পর পেনশন পুনঃস্থাপনসহ একাধিক দাবিতে তারা ঢাকায় লাগাতার অবস্থান কর্মসূচী পালনের ঘোষণা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার ৫ মে সকাল ৯টায় রাজধানীর মিরপুর-২ এ গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এবারও তারা অবস্থান কর্মসূচীর মাধ্যমে নিজেদের দাবি তুলে ধরবেন।
দাবির পেছনের প্রেক্ষাপট
আন্দোলনরত অবসরপ্রাপ্তদের মূল অভিযোগ, তারা চাকরিজীবনে শতভাগ পেনশন সমর্পণ করলেও অবসরের পর পর্যাপ্ত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের দাবি, চিকিৎসা খরচ ও উৎসবের সময় আর্থিক সহায়তা না থাকায় অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাই অবিলম্বে চিকিৎসাভাতা ও উৎসব ভাতা চালুর পাশাপাশি অবসরের ১৫ বছর পার হওয়ার পর পুনরায় পেনশন চালুর দাবি জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে ২০০৪ ও ২০১৬ সালের প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়নের বিষয়টিও আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই প্রজ্ঞাপনগুলো কার্যকর করা হলে অবসরপ্রাপ্তদের আর্থিক নিরাপত্তা অনেকটাই নিশ্চিত হবে।

বড় সমাবেশের প্রস্তুতি
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রায় ১৫ হাজার অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী এই কর্মসূচীতে অংশ নেবেন। এতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ফলে এটি একটি বড় সমাবেশে রূপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচী পালন করা হবে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
মিডিয়ার প্রতি আহ্বান
আন্দোলনের আয়োজকরা কর্মসূচীর সংবাদ ও ছবি সংগ্রহের জন্য দেশের জাতীয় দৈনিক, অনলাইন ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক ও ফটো সাংবাদিকদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের আশা, গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।
এই কর্মসূচীকে ঘিরে অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটাতে এই আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্তদের অবস্থান কর্মসূচী ঘিরে আগামীকাল রাজধানীর মিরপুর এলাকায় উল্লেখযোগ্য জনসমাগম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















