আফ্রিকা ও ব্রাজিলের মাঝামাঝি প্রায় অবস্থান করা সেন্ট হেলেনা পৃথিবীর অন্যতম দুর্গম দ্বীপ। ২০১৭ সাল পর্যন্ত এখানে পৌঁছানোর একমাত্র উপায় ছিল কেপ টাউন থেকে পাঁচ দিনের জাহাজযাত্রা—যা বেশ কষ্টসাধ্য হওয়ায় কেবল সাহসী ভ্রমণকারীরাই সেখানে যেতেন।
বর্তমানে প্রায় ৪,০০০ মানুষের একটি ঘনিষ্ঠ সম্প্রদায় এই দ্বীপে বসবাস করে, যাদের স্থানীয়ভাবে ‘সেইন্টস’ বলা হয়। ধীরে ধীরে পর্যটকদের জন্য দ্বীপটি উন্মুক্ত হলেও এটি এখনও বেশি পরিচিত এর ইতিহাসের জন্য—বিশেষ করে রাজনৈতিক বন্দিদের নির্বাসনস্থল হিসেবে। সবচেয়ে বিখ্যাত বন্দি ছিলেন নেপোলিয়ন বোনাপার্ট, যিনি জীবনের শেষ বছরগুলো কাটিয়েছিলেন এই নির্জন দ্বীপে।
তবে যে দুর্গম ভূপ্রকৃতি একসময় এটিকে পালানো অসম্ভব কারাগারে পরিণত করেছিল, সেটিই এখন অভিযাত্রীদের জন্য প্রধান আকর্ষণ।
পোস্ট বক্স ট্রেইল: হাঁটার স্বর্গ

দ্বীপজুড়ে রয়েছে ২৫টি ‘পোস্ট বক্স ওয়াক’—যেখানে প্রতিটি পথের শেষে থাকে একটি ছোট বাক্স, ভেতরে দর্শনার্থীদের সাইনবুক ও বিশেষ সিল। এসব পথ আপনাকে নিয়ে যাবে ঘন বন থেকে খাড়া উপকূলীয় পাহাড়ে।
হার্ট-শেপড জলপ্রপাত (১.৫ কিমি): সহজ হাঁটার পথ, যা একটি ছায়াঘেরা উপত্যকা পেরিয়ে নিয়ে যায় হৃদয় আকৃতির পাথরের ওপর দিয়ে পড়া ৯০ মিটার উঁচু জলপ্রপাতের কাছে।
লট’স ওয়াইফ পন্ডস (৫ কিমি): দক্ষিণ উপকূলের কঠিন ট্রেইল, যেখানে রশি ধরে নামার পর দেখা মেলে স্বচ্ছ জোয়ারভাটার পুকুর, সাঁতারের জন্য আদর্শ।
দ্য বার্ন (১০.৫ কিমি): অভিজ্ঞদের জন্য চার ঘণ্টার যাত্রা, যেখানে আগ্নেয়গিরির বিশাল পাহাড় ও সমুদ্রের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখা যায়।
রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার আরও সুযোগ
হাঁটার পাশাপাশি রয়েছে অফ-রোড গাড়ি ভ্রমণ, ৬৯৯ ধাপের জ্যাকব’স ল্যাডার বেয়ে ওঠা, কিংবা পাহাড়ি সাইক্লিং। এছাড়া ২০২৭ সালে এখানে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্গম ম্যারাথন।

বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক দৃশ্য
দ্বীপটির আবহাওয়া ও দৃশ্য এক স্থান থেকে আরেক স্থানে দ্রুত বদলে যায়। রাজধানী জেমসটাউন থেকে স্যান্ডি বে পর্যন্ত যাত্রায় দেখা যায় শুষ্ক পাহাড়, রঙিন আগ্নেয় মাটি, উপ-ক্রান্তীয় জঙ্গল, সবুজ তৃণভূমি—এমনকি এমন শুষ্ক এলাকা, যা চাঁদের মতো মনে হয়।
ভ্রমণের তথ্য
সারা বছরই এখানে ভ্রমণ করা যায়, তাপমাত্রা সাধারণত ২০ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। দ্বীপটির সর্বোচ্চ উচ্চতা ৮২০ মিটার হলেও এখানকার খাড়া পাহাড় থেকে দারুণ দৃশ্য উপভোগ করা যায়।
২০১৭ সালে বিমানবন্দর চালু হওয়ার পর এখন জোহানেসবার্গ থেকে সাপ্তাহিক ফ্লাইট এবং কেপ টাউন থেকে মৌসুমি ফ্লাইট রয়েছে। যদিও যাত্রা এখনও দীর্ঘ, তবে দ্বীপে নামার সময় আকাশপথের দৃশ্য অত্যন্ত চমকপ্রদ।

Sarakhon Report 


















