পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা চলাকালে কলকাতা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় জনমতের চিত্রে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এক ধরনের মিশ্র রাজনৈতিক আবহ। সামগ্রিক প্রবণতায় একটি দলের এগিয়ে থাকা দেখা গেলেও স্থানীয় পর্যায়ে ভোটারদের মতামতে রয়েছে ভিন্নতা ও অনিশ্চয়তার ছাপ।
গণনার অগ্রগতিতে দুপুরের দিকে স্পষ্টভাবে এগিয়ে ছিল বিজেপি। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা, যা ছাড়িয়ে বিজেপি ১৯১টিরও বেশি আসনে এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে ছিল ৯৬টির কম আসনে। এই প্রবণতা রাজ্যজুড়ে একটি বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিলেও বাস্তব পরিস্থিতি পুরোপুরি একরকম নয়।
সংখ্যার খেলায় এগিয়ে বিজেপি

গণনার শুরু থেকে দুপুর পর্যন্ত পাওয়া প্রবণতায় বিজেপির শক্ত অবস্থান পরিষ্কার হয়ে ওঠে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা অতিক্রম করার মতো অবস্থানে থাকায় দলটি সরকার গঠনের পথে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে বলে ধারণা তৈরি হয়। তবে এবারের নির্বাচনে এক্সিট পোলগুলো কোনো স্পষ্ট ফলের পূর্বাভাস দিতে পারেনি, যা পুরো পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
অতীতের ফলাফলের সঙ্গে তুলনা
২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ২১৫টি আসন পেয়ে ক্ষমতায় ছিল, আর বিজেপি ৭৭টি আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে আসে। সেই প্রেক্ষাপটে এবারের প্রবণতা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।
এলাকাভেদে ভিন্ন জনমত

যদিও রাজ্যজুড়ে বিজেপির এগিয়ে থাকার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তবে বিভিন্ন এলাকায় মানুষের মতামত একেবারেই একরকম নয়। কলকাতা পোর্ট এলাকার এক বাসিন্দা মনে করেন, রাজ্যজুড়ে বিজেপি জিততে পারে, কিন্তু তার এলাকায় তৃণমূল প্রার্থী এগিয়ে থাকবেন।
ডায়মন্ড হারবার এলাকার এক তরুণী জানান, তৃণমূল স্থানীয়ভাবে কিছু উন্নয়ন করলেও সামগ্রিক নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় তারা পিছিয়ে পড়েছে বলে তার ধারণা। অন্যদিকে উলুবেরিয়া পূর্বের এক বাসিন্দা তার এলাকায় তৃণমূলের সম্ভাবনাকে কিছুটা এগিয়ে দেখছেন, বিশেষ করে ভোটার গঠনের দিকটি বিবেচনায় নিয়ে।
আবার উত্তর ডুমডুমে আরেক বাসিন্দা তৃণমূলের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন এবং দলের প্রার্থীর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এই ভিন্ন ভিন্ন মতামত থেকেই বোঝা যায়, রাজ্যব্যাপী প্রবণতা একদিকে থাকলেও স্থানীয় বাস্তবতা অনেকটাই আলাদা।
মিশ্র আবহেই অপেক্ষা চূড়ান্ত ফলের
সব মিলিয়ে, গণনার দিনের প্রবণতা একদিকে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, আবার অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে ভিন্ন বাস্তবতা। ফলে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক চিত্র পুরোপুরি নির্দিষ্ট হয়ে ওঠেনি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















