এক সময় প্রযুক্তিতে বিশ্বের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল জাপানের রাজধানী টোকিও। কিন্তু স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট যুগে সিলিকন ভ্যালির উত্থানে সেই এগিয়ে থাকা হারিয়ে যায়। এখন নতুন লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে শহরটি—এআইকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে স্টার্টআপবান্ধব শহর হয়ে ওঠা।
স্টার্টআপে জোর দিচ্ছে প্রশাসন
২০১৬ সাল থেকে টোকিওর গভর্নর ইউরিকো কোইকে শহরের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে উদ্যোক্তাদের ওপর জোর দিচ্ছেন। তাঁর মতে, জাপানের তরুণরা ডিজিটালভাবে দক্ষ এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি রাখে। তাই প্রশাসন সরাসরি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কাজ করে স্টার্টআপের বাধা দূর করতে চায়। বর্তমানে বিশ্ব স্টার্টআপ র্যাংকিংয়ে টোকিও ১১তম স্থানে রয়েছে এবং শহরটিতে আটটি ইউনিকর্ন কোম্পানি গড়ে উঠেছে।
শহরের শক্তি: স্থিতিশীলতা ও অবকাঠামো
টোকিওর সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে এর নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো। সময়মতো ট্রেন, নিরাপদ সড়ক এবং কার্যকর শহরব্যবস্থা প্রযুক্তি খাতের কর্মীদের আকর্ষণ করে। এমনকি বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি গবেষকদের কেউ কেউ এই শহরে এসে কাজ শুরু করেছেন।
এআই যুগে নতুন সুযোগ
এআই বিপ্লবের সময়টাও টোকিওর জন্য বড় সুযোগ হয়ে উঠছে। আগের প্রযুক্তি যুগ যেখানে ভোক্তাভিত্তিক ইন্টারনেটকে এগিয়ে দিয়েছে, সেখানে নতুন যুগে গুরুত্ব পাচ্ছে রোবোটিক্স, শিল্প-নির্ভুলতা এবং “ফিজিক্যাল এআই”—যেখানে জাপান ইতিমধ্যেই শক্তিশালী। একই সঙ্গে অ্যামাজন, মাইক্রোসফট ও গুগলের মতো প্রতিষ্ঠান জাপানে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে।
এআই নিয়ে দ্বৈত বাস্তবতা
জাপানে এআই নিয়ে এক ধরনের দ্বৈততা দেখা যায়। একদিকে মানুষ এআইকে ভয় পায় না, কারণ জনসংখ্যা হ্রাস ও শ্রম সংকটে এটি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠছে। অন্যদিকে, প্রযুক্তিটির ব্যবহার এখনও তুলনামূলক ধীরগতির।
উৎপাদনশীলতা ও ভাষা বাধা কাটাতে এআই
এআই জাপানের দীর্ঘদিনের উৎপাদনশীলতার সমস্যার সমাধান করতে পারে। একই সঙ্গে ভাষাগত সীমাবদ্ধতা—বিশেষ করে ইংরেজিতে দক্ষতার ঘাটতি—বিদেশি উদ্যোক্তা ও স্থানীয় কোম্পানির আন্তর্জাতিক বিস্তারে বাধা তৈরি করে। এআই এই বাধা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

চ্যালেঞ্জ: আমলাতন্ত্র ও বিনিয়োগ
তবে টোকিওর সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। জাপান এখনও আমলাতন্ত্র ও জটিল নিয়মের জন্য পরিচিত। এছাড়া এআই খাতে বিনিয়োগেও দেশটি পিছিয়ে। তবে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য জাপান এখন তুলনামূলক নিরাপদ গন্তব্য হয়ে উঠছে।
বাস্তব সমস্যার সমাধানে এআই
টোকিও প্রশাসন ইতিমধ্যে নিকাশী ব্যবস্থা, পুরনো অবকাঠামো এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় এআই ব্যবহার শুরু করেছে। এখানে এআইকে কেবল প্রদর্শনের প্রযুক্তি হিসেবে নয়, বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগানো একটি বাস্তবসম্মত সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্বের জন্য নতুন মডেল
সিলিকন ভ্যালি যেখানে এআইকে লাভজনক করেছে, সেখানে টোকিওর লক্ষ্য এটিকে মানুষের জন্য কার্যকর করে তোলা। বাস্তব সমস্যার সমাধানভিত্তিক একটি স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম তৈরি করতে পারলে টোকিও নতুন এক উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















