চট্টগ্রামে একীভূত হওয়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের আমানত ফেরত ও ‘হেয়ার কাট’ বাতিলের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভে নেমেছেন গ্রাহকরা। সোমবার সকালেও নগরের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় একাধিক শাখায় তালা ঝুলিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ আমানতকারীরা, ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিতে উত্তেজনা
সোমবার (৪ মে) সকালে গ্রাহকরা আগ্রাবাদ বাদমতলী মোড়ে জড়ো হয়ে প্রথমে এক্সিম ব্যাংকের শেখ মুজিব রোড শাখায় তালা ঝুলিয়ে দেন। এরপর পর্যায়ক্রমে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংকের শাখাগুলোতেও একই কর্মসূচি পালন করেন তারা। এর আগে রোববার খাতুনগঞ্জ এলাকায় একইভাবে পাঁচটি শাখায় তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছিলেন আমানতকারীরা।
দীর্ঘদিনেও টাকা না পাওয়ার অভিযোগ

বিক্ষোভকারীরা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে তারা তাদের জমানো অর্থ ফেরতের জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু নানা অজুহাত ও টালবাহানার কারণে তারা টাকা তুলতে পারছেন না। বিশেষ করে নতুন করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’-এর অধীনে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ তাদের।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশনের চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক মো. আজম উদ্দীন বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানানো হলেও কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। উল্টো আমানতের একটি অংশ কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা গ্রাহকদের জন্য অগ্রহণযোগ্য।
‘হেয়ার কাট’ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি, আমানতের ওপর আরোপিত ‘হেয়ার কাট’ বা অর্থের একটি অংশ কর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে এবং পূর্ণ অর্থ দ্রুত ফেরত দিতে হবে। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে সাধারণ আমানতকারীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন।
দেশজুড়ে কর্মসূচির প্রস্তুতি

বিক্ষোভকারীরা জানান, এটি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অংশ। চট্টগ্রাম থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও ছড়িয়ে দেওয়া হবে। আজ সন্ধ্যায় পরবর্তী দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তারা।
একীভূতকরণেও কাটেনি সংকট
তারল্য সংকট ও আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থতার কারণে সম্প্রতি এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়। তবে এই একীভূতকরণের পরও আমানতকারীদের সমস্যার সমাধান হয়নি। বরং চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অসন্তোষ আরও বাড়ছে।
আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, লেনদেন স্বাভাবিক না হওয়া এবং আমানতের টাকা পুরোপুরি ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত তারা ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















