তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের দুই প্রধান শক্তির আধিপত্যে এবার বড় ধাক্কা দিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয়। তাঁর দল তামিলাগা ভেত্রি কাজগম (টিভিকে) প্রথমবারের মতো নির্বাচনী লড়াইয়েই চমক দেখিয়ে এগিয়ে রয়েছে বহু আসনে। নির্বাচনী ফলের প্রবণতা বলছে, ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৫টিতে এগিয়ে থেকে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের দীর্ঘদিনের দ্বৈত প্রভাব ভাঙার পথে রয়েছে এই নতুন দল।
ভোটারদের মন জিততে কী ছিল ইশতেহারে
বিজয়ের দলের ৯৫ পাতার ইশতেহার মূলত কল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতিতে ভরপুর। বিশেষ করে নারী, কৃষক ও তরুণদের লক্ষ্য করে একাধিক আর্থিক সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
নারীদের জন্য মাসে ২,৫০০ টাকা ভাতা, বছরে ছয়টি বিনামূল্যের গ্যাস সিলিন্ডার, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আলাদা দপ্তর ও বিশেষ আদালতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিয়ের সময় স্বর্ণমুদ্রা ও শাড়ি, নবজাতকের জন্য স্বর্ণের আংটি দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। স্কুলপড়ুয়া মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পরিবারকে বছরে ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তরুণদের জন্য চাকরি ও প্রশিক্ষণ
বেকার যুবকদের জন্য মাসিক ভাতা, দক্ষতা প্রশিক্ষণে অংশ নিলে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা এবং সরকারি চাকরিতে নিয়োগের স্বচ্ছ সময়সীমা নির্ধারণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
গ্র্যাজুয়েটদের জন্য মাসে ৪,০০০ টাকা এবং ডিপ্লোমাধারীদের জন্য ২,৫০০ টাকা বেকার ভাতা ঘোষণার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
গ্রাম পর্যায়ে পাঁচ লাখ যুবককে ‘সিএম পিপল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েট’ হিসেবে নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে, যেখানে মাসিক বেতন ধরা হয়েছে ১৮,০০০ টাকা।
কৃষকদের জন্য ঋণ মওকুফ ও ন্যায্য দাম
কৃষকদের জন্য ইশতেহারে বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাঁচ একর পর্যন্ত জমির মালিকদের সমবায় ঋণ পুরোপুরি মওকুফ এবং তার বেশি জমির ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ মওকুফের কথা বলা হয়েছে।
ধানের জন্য প্রতি কুইন্টালে ৩,৫০০ টাকা এবং আখের জন্য ৪,৫০০ টাকা ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। পাশাপাশি প্রান্তিক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকদের জন্য বিশেষ কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে।

শিল্প ও কর্মসংস্থানে প্রণোদনা
স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়াতে কোম্পানিগুলোর জন্য বিশেষ প্রণোদনার ঘোষণা করা হয়েছে। যারা ৭৫ শতাংশ স্থানীয় কর্মী নিয়োগ করবে, তাদের জিএসটি ও বিদ্যুৎ খরচে ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া প্রতিটি পরিবারকে ‘সিটিজেন প্রিভিলেজ কার্ড’ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যার মাধ্যমে সরকারি সুবিধা সহজে পাওয়া যাবে।
প্রশাসন ও সেবায় স্বচ্ছতা
বিজয় তাঁর ইশতেহারকে সততা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে তৈরি বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, রাজনীতিতে নীতি, সম্পদ ও মানুষের সুখ—এই তিনটি মূল মূল্যবোধকে সামনে রেখে পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সরকারি সেবা দ্রুত নিশ্চিত করতে ‘রাইট টু সার্ভিস’ আইন চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনগণের আবেদন সরাসরি বিধানসভায় উপস্থাপনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
নতুন শক্তির উত্থান
দীর্ঘদিন ধরে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে যে দ্বৈত আধিপত্য ছিল, সেখানে বিজয়ের এই অগ্রগতি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে। তাঁর কল্যাণমুখী ইশতেহার যে ভোটারদের কাছে প্রভাব ফেলেছে, ফলাফলের প্রবণতাই তার বড় প্রমাণ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















