প্রথম তিন ঘণ্টার গণনা শেষে প্রাথমিক প্রবণতায় দেখা যাচ্ছে, বিজেপি উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে রয়েছে এবং স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে এগোচ্ছে। মোট ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২১৬টিতে তৃতীয় দফার গণনা শেষ হওয়ার পর বিজেপি ১৪০টি আসনে এগিয়ে, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে ৭৩টি আসনে। বাকি কয়েকটি আসনে অন্যরা লড়াইয়ে আছে।
প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে মমতার লিড
শুরুর দিকে কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও তৃতীয় দফার গণনা শেষে ভবানীপুর কেন্দ্রে এগিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে তিনি ৮৯৮ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। টালিগঞ্জে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসও অল্প ব্যবধানে এগিয়ে আছেন, যেখানে তার লিড ৪৬০ ভোট।
তৃণমূলের কয়েকজন নেতা নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। বালিগঞ্জে সৌভনদেব চট্টোপাধ্যায় ৬,৯৫২ ভোটে এগিয়ে, চৌরঙ্গীতে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ২,৩৩৩ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। এছাড়া এন্টালিতে সন্দীপন সাহা ১২,৬৪৯ ভোটে এবং কসবার কেন্দ্রে জাভেদ আহমেদ খান ১৯,৬৯৪ ভোটে এগিয়ে আছেন। বেলেঘাটায় কুণাল ঘোষও সামান্য ব্যবধানে লিড ধরে রেখেছেন।

হেভিওয়েটদের অপ্রত্যাশিত ধাক্কা
তবে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূলের বেশ কিছু হেভিওয়েট নেতা ও মন্ত্রীর জন্য শুরুটা সুখকর হয়নি। শ্যামপুকুর কেন্দ্রে মন্ত্রী শশী পাঞ্জা বিজেপির প্রার্থী পূর্ণিমা চক্রবর্তীর কাছে ২৮৩ ভোটে পিছিয়ে রয়েছেন। গঘাটে তৃণমূলের প্রধান হুইপ নির্মল মাজি ১,৮৪৫ ভোটে পিছিয়ে পড়েছেন বিজেপির প্রসান্ত দিগরের কাছে।
সংখ্যালঘু মুখ হিসেবে পরিচিত মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী মন্তেশ্বরে ৩,৩৮৬ ভোটে পিছিয়ে রয়েছেন। দিনহাটায় উদয়ন গুহ ১,৬৪৭ ভোটে এবং রায়গঞ্জে স্বপ্না বর্মণ ৩,৩৬৩ ভোটে পিছিয়ে আছেন বিজেপি প্রার্থীদের কাছে। বিনপুর ও দুর্গাপুর পূর্বেও তৃণমূল প্রার্থীরা পিছিয়ে রয়েছেন।
বিজেপির শক্তিশালী অগ্রগতি

অন্যদিকে বিজেপির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা বিভিন্ন কেন্দ্রে ভালো ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। অগ্নিমিত্রা পল ৯,৫৮৯ ভোটে এগিয়ে, শিবপুরে রুদ্রনীল ঘোষও লিড ধরে রেখেছেন। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিজেপির একাধিক প্রার্থী এগিয়ে থাকার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
বেহালা পূর্বে সন্দীপ সরকার, বেহালা পশ্চিমে ইন্দ্রনীল খান এগিয়ে রয়েছেন। রাসবিহারীতে স্বপন দাশগুপ্ত এবং মানিকতলায় তাপস রায়ও এগিয়ে আছেন। জোড়াসাঁকোতেও বিজেপির প্রার্থী লিড ধরে রেখেছেন।
প্রবণতা বদলের সম্ভাবনা
এখনও পর্যন্ত এগুলো প্রাথমিক প্রবণতা। ভোটগণনা এগোতে থাকলে ব্যবধান দ্রুত বদলাতে পারে। তবে শুরুতেই বিজেপির এই অগ্রগতি রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















