০৪:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
আল কাদসিয়ার ধাক্কায় থামল আল নাসরের জয়ের ধারা, শিরোপা দৌড়ে অনিশ্চয়তা রোনালদোর দুঃসাহসিক অভিযাত্রীদের জন্য এক দ্বীপ: সেন্ট হেলেনা আবিষ্কার পাঁচ রাজ্যের ভোটে নাটকীয় পালাবদল: বাংলায় বিজেপির ঝড়, তামিলনাড়ুতে বিজয়ের চমক, কেরালায় কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তন টোকিওর লক্ষ্য: এআইকে কাজে লাগিয়ে স্টার্টআপ শক্তিতে বিশ্বনেতা হওয়ার দৌড় ১০০ কেন্দ্রে ভোট গণনা বন্ধের অভিযোগ, কর্মীদের কেন্দ্রে থাকার আহ্বান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসছে মূল্যস্ফীতির নতুন ঢেউ গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্তদের অবস্থান কর্মসূচী: পেনশন পুনঃস্থাপনসহ ভাতার দাবিতে ঢাকায় সমাবেশ রাশিয়ার যুদ্ধে আফ্রিকার তরুণদের টান: চাকরির প্রলোভন, বাস্তবে মৃত্যু আর প্রতারণা তেল দামে সামান্য পতন, শেয়ারবাজারে উত্থানের ইঙ্গিত—ইরান-যুক্তরাষ্ট্র অনিশ্চয়তায় নজর বিনিয়োগকারীদের ছয় বড় শিল্পগোষ্ঠীর ঋণঝুঁকিতে ব্যাংক খাত, বাংলাদেশ ব্যাংকের গোপন প্রতিবেদনে বড় সতর্কবার্তা

জিন না কেটে রোগ সারানোর নতুন দিগন্ত: এপিজেনোম সম্পাদনায় চিকিৎসাবিজ্ঞানে আশার আলো

জিন সম্পাদনার ঝুঁকি এড়িয়ে আরও নিখুঁত ও নিরাপদ পদ্ধতির খোঁজে বিজ্ঞানীরা এখন নজর দিচ্ছেন এক নতুন পথে—এপিজেনোম সম্পাদনা। এতে ডিএনএ কাটা বা পরিবর্তন না করেই জিনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের চিকিৎসাবিজ্ঞানে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জিন সম্পাদনা বনাম এপিজেনোম সম্পাদনা

জিন সম্পাদনার মূল ধারণা হলো ডিএনএ’র ভেতরের রাসায়নিক অক্ষর বদলে জিনকে চালু বা বন্ধ করা। তবে এতে ডিএনএ কেটে ফেলার প্রয়োজন হয়, যা ভুল জায়গায় কাটলে বিপজ্জনক হতে পারে—যেমন ক্যান্সার প্রতিরোধী জিন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। এই ঝুঁকি থেকেই এসেছে এপিজেনোম সম্পাদনার ধারণা, যেখানে ডিএনএ না কেটে তার উপর থাকা রাসায়নিক চিহ্নগুলো পরিবর্তন করা হয়। এর ফলে জিনের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ না করে সূক্ষ্মভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

CRISPR/Cas9 Edits the Epigenome

কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি

এপিজেনোম সম্পাদনায় ডিএনএ কাটার যন্ত্রাংশকে নিষ্ক্রিয় করে তার জায়গায় বিশেষ এনজাইম ব্যবহার করা হয়, যা ডিএনএ বা হিস্টোন প্রোটিনে ছোট রাসায়নিক গ্রুপ যোগ বা বাদ দেয়। এই পরিবর্তনের ফলে জিন কতটা সক্রিয় থাকবে, তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। ফলে কোষের ভেতরে জিনের আচরণকে সূক্ষ্মভাবে সামঞ্জস্য করা যায়।

রোগ চিকিৎসায় সম্ভাবনা

এই প্রযুক্তি ইতোমধ্যেই কিছু জটিল রোগের ক্ষেত্রে আশার আলো দেখাচ্ছে। হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পিসিএসকে৯ নামের একটি জিনের কার্যক্রম কমানোর চেষ্টা চলছে। এর ফলে রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমানো সম্ভব হতে পারে। একইভাবে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের জিন নিষ্ক্রিয় করে স্থায়ীভাবে রোগ সারানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

পেশী ক্ষয়জনিত রোগ, বিরল জিনগত রোগ, এমনকি কিছু ক্যান্সারেও এই পদ্ধতির প্রয়োগ নিয়ে গবেষণা চলছে। গবেষকদের ধারণা, একবারের চিকিৎসায় দীর্ঘমেয়াদি ফল পাওয়া গেলে এটি প্রচলিত ওষুধের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দিতে পারে।

One shot to lower cholesterol for life? Scientists unlock a groundbreaking  gene therapy

বার্ধক্য প্রতিরোধেও সম্ভাবনা

শুধু রোগ নিরাময় নয়, এপিজেনোম সম্পাদনা ভবিষ্যতে বার্ধক্য বিলম্বিত করতেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা। কোষের বয়সজনিত পরিবর্তনের সঙ্গে এপিজেনোমের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোষকে আরও তরুণ অবস্থায় ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চ্যালেঞ্জ ও প্রতিযোগিতা

তবে সবকিছু এত সহজ নয়। এই প্রযুক্তি এখনও গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে এবং এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। একই সঙ্গে জিন সম্পাদনা ও অন্যান্য পদ্ধতির সঙ্গে এর প্রতিযোগিতাও চলছে। বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত জটিলতা এবং দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন—সব মিলিয়ে এই ক্ষেত্রের অগ্রগতি ধীর হলেও সম্ভাবনাময়।

ভবিষ্যতের চিকিৎসায় নতুন অধ্যায়

সব বাধা সত্ত্বেও এপিজেনোম সম্পাদনাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিরাপদ, সূক্ষ্ম ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান দেওয়ার ক্ষমতা থাকলে এটি আগামী দশকগুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

আল কাদসিয়ার ধাক্কায় থামল আল নাসরের জয়ের ধারা, শিরোপা দৌড়ে অনিশ্চয়তা রোনালদোর

জিন না কেটে রোগ সারানোর নতুন দিগন্ত: এপিজেনোম সম্পাদনায় চিকিৎসাবিজ্ঞানে আশার আলো

০২:৩১:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

জিন সম্পাদনার ঝুঁকি এড়িয়ে আরও নিখুঁত ও নিরাপদ পদ্ধতির খোঁজে বিজ্ঞানীরা এখন নজর দিচ্ছেন এক নতুন পথে—এপিজেনোম সম্পাদনা। এতে ডিএনএ কাটা বা পরিবর্তন না করেই জিনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের চিকিৎসাবিজ্ঞানে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জিন সম্পাদনা বনাম এপিজেনোম সম্পাদনা

জিন সম্পাদনার মূল ধারণা হলো ডিএনএ’র ভেতরের রাসায়নিক অক্ষর বদলে জিনকে চালু বা বন্ধ করা। তবে এতে ডিএনএ কেটে ফেলার প্রয়োজন হয়, যা ভুল জায়গায় কাটলে বিপজ্জনক হতে পারে—যেমন ক্যান্সার প্রতিরোধী জিন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। এই ঝুঁকি থেকেই এসেছে এপিজেনোম সম্পাদনার ধারণা, যেখানে ডিএনএ না কেটে তার উপর থাকা রাসায়নিক চিহ্নগুলো পরিবর্তন করা হয়। এর ফলে জিনের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ না করে সূক্ষ্মভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

CRISPR/Cas9 Edits the Epigenome

কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি

এপিজেনোম সম্পাদনায় ডিএনএ কাটার যন্ত্রাংশকে নিষ্ক্রিয় করে তার জায়গায় বিশেষ এনজাইম ব্যবহার করা হয়, যা ডিএনএ বা হিস্টোন প্রোটিনে ছোট রাসায়নিক গ্রুপ যোগ বা বাদ দেয়। এই পরিবর্তনের ফলে জিন কতটা সক্রিয় থাকবে, তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। ফলে কোষের ভেতরে জিনের আচরণকে সূক্ষ্মভাবে সামঞ্জস্য করা যায়।

রোগ চিকিৎসায় সম্ভাবনা

এই প্রযুক্তি ইতোমধ্যেই কিছু জটিল রোগের ক্ষেত্রে আশার আলো দেখাচ্ছে। হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পিসিএসকে৯ নামের একটি জিনের কার্যক্রম কমানোর চেষ্টা চলছে। এর ফলে রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমানো সম্ভব হতে পারে। একইভাবে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের জিন নিষ্ক্রিয় করে স্থায়ীভাবে রোগ সারানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

পেশী ক্ষয়জনিত রোগ, বিরল জিনগত রোগ, এমনকি কিছু ক্যান্সারেও এই পদ্ধতির প্রয়োগ নিয়ে গবেষণা চলছে। গবেষকদের ধারণা, একবারের চিকিৎসায় দীর্ঘমেয়াদি ফল পাওয়া গেলে এটি প্রচলিত ওষুধের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দিতে পারে।

One shot to lower cholesterol for life? Scientists unlock a groundbreaking  gene therapy

বার্ধক্য প্রতিরোধেও সম্ভাবনা

শুধু রোগ নিরাময় নয়, এপিজেনোম সম্পাদনা ভবিষ্যতে বার্ধক্য বিলম্বিত করতেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা। কোষের বয়সজনিত পরিবর্তনের সঙ্গে এপিজেনোমের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোষকে আরও তরুণ অবস্থায় ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চ্যালেঞ্জ ও প্রতিযোগিতা

তবে সবকিছু এত সহজ নয়। এই প্রযুক্তি এখনও গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে এবং এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। একই সঙ্গে জিন সম্পাদনা ও অন্যান্য পদ্ধতির সঙ্গে এর প্রতিযোগিতাও চলছে। বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত জটিলতা এবং দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন—সব মিলিয়ে এই ক্ষেত্রের অগ্রগতি ধীর হলেও সম্ভাবনাময়।

ভবিষ্যতের চিকিৎসায় নতুন অধ্যায়

সব বাধা সত্ত্বেও এপিজেনোম সম্পাদনাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিরাপদ, সূক্ষ্ম ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান দেওয়ার ক্ষমতা থাকলে এটি আগামী দশকগুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।