বছরের শুরুতেই নতুন গতি পেয়েছে আমেরিকার অর্থনীতি। প্রথম প্রান্তিকে বার্ষিক ভিত্তিতে প্রায় ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যার বড় অংশই এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ঘিরে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ থেকে। তবে একই সঙ্গে ভোক্তাদের ব্যয়ের গতি কিছুটা কমে যাওয়ায় সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় খানিকটা নিচে রয়ে গেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন অর্থনীতির চালিকা শক্তি
সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো যন্ত্রপাতি ও মেধাস্বত্বভিত্তিক খাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছে, যা সরাসরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত। এই বিনিয়োগই অর্থনীতিকে নতুন করে চাঙা করেছে। সামগ্রিক ব্যবসায়িক বিনিয়োগ প্রায় ১০ শতাংশের বেশি হারে বেড়েছে, যা প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবৃদ্ধির প্রায় অর্ধেকই এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংশ্লিষ্ট খাত থেকে।
তবে এই প্রবৃদ্ধির বিপরীতে আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে। বিশেষ করে কম্পিউটার ও প্রযুক্তি পণ্যের আমদানির কারণে বৈদেশিক বাণিজ্যে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে, যা সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিকে কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।

ভোক্তা ব্যয়ে ধীরগতি
অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত ভোক্তা ব্যয় এই সময়ে তুলনামূলক ধীর হয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে ভোক্তা ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১.৬ শতাংশ হারে, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় কম। সেবাখাতে ব্যয় কিছুটা বাড়লেও পণ্যে ব্যয় সামান্য কমেছে।
এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। ফলে অনেকেই খরচে সংযমী হয়ে উঠছেন।
মূল্যস্ফীতি ও সুদের চাপ
প্রথম প্রান্তিকে মূল্যস্ফীতির হারও বেড়ে প্রায় ৪.৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের সময়ের তুলনায় বেশি। এই পরিস্থিতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য সুদের হার কমানোর পথকে জটিল করে তুলেছে। বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ এখন মনে করছেন, চলতি বছর সুদের হার অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

সরকারি ব্যয় ও শ্রমবাজার
সরকারি ব্যয়ও এই সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা অর্থনীতিকে কিছুটা সহায়তা দিয়েছে। আগের প্রান্তিকে দীর্ঘ সময় সরকারি কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটার প্রভাব কাটিয়ে উঠে এবার ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানেও কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে, যদিও প্রবৃদ্ধি এখনও সীমিত।
অনিশ্চয়তার ছায়া
যদিও বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো বিক্রয় ও আয় দেখাচ্ছে, তবুও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিশেষ করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনা ভোক্তাদের আচরণে প্রভাব ফেলছে। অনেক কোম্পানি ইতোমধ্যেই সতর্ক সংকেত দিচ্ছে যে নিম্ন আয়ের মানুষদের মধ্যে ব্যয় কমে যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শক্তিতে আমেরিকার অর্থনীতি আবার গতি পেয়েছে। তবে জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















