০২:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
ওডিশায় খ্রিস্টানদের ওপর হামলা বাড়ছে, উদ্বেগ মানবাধিকারকর্মীদের ইয়েন সংকটে সতর্ক টোকিও, ‘ফোন অন রাখুন’ বার্তা মুদ্রা ব্যবসায়ীদের দুবাই মেরিনায় নির্মাণাধীন ভবনে আগুন, হতাহতের খবর নেই বিজেপির সমর্থন নয়, শর্ত দিয়ে বিজয়ের টিভিকেকে পাশে দাঁড়াতে চায় কংগ্রেস কেরলে মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে কংগ্রেসে জল্পনা, দৌড়ে সাথীসন-ভেনুগোপাল-চেন্নিথলা আসাম বিধানসভায় বিরোধীদলীয় নেতা নাও থাকতে পারে বিজয়ের ১৫ বছরের মাঠ প্রস্তুতি, তারপরই টিভিকে’র রাজনৈতিক উত্থান বিজেপির জয়ের পর পশ্চিমবঙ্গে সহিংসতা, তৃণমূল কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ রাহুলের অভিযোগ, ‘বাংলা-আসামে জনগণের রায় চুরি করেছে বিজেপি’ মমতার নতুন লক্ষ্য ইন্ডিয়া জোট, পরাজয়ের পরই বিরোধী ঐক্য জোরদারের বার্তা

ক্যারিয়ারে বিরতি শুধু নারীদের নয়, সবার জন্য—সমতার নতুন বার্তা

ক্যারিয়ারে বিরতি বা পথবদলকে অনেকদিন ধরেই নারীদের বিষয় হিসেবে দেখা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনের চাহিদা মেটাতে জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে প্রায় সবাইকেই পেশাগত ছন্দ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়। তাই এই বিষয়টিকে শুধুমাত্র নারীদের সঙ্গে যুক্ত করে দেখলে তা বরং পুরোনো ধারণাকেই আরও শক্তিশালী করে।

ক্যারিয়ার মানে শুধু নিরবচ্ছিন্ন এগিয়ে চলা নয়

বর্তমান সময়ে সফলতার সংজ্ঞা বদলাচ্ছে। আগে যেখানে নিরবচ্ছিন্ন ক্যারিয়ার অগ্রগতিকে সফলতার একমাত্র মানদণ্ড ধরা হতো, এখন সেখানে পরিবার, ব্যক্তিগত সময় ও মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বও সমানভাবে বিবেচিত হচ্ছে। অনেকেই জীবনের বিভিন্ন সময়ে পরিবারকে অগ্রাধিকার দিতে চান, যা একেবারেই স্বাভাবিক।

তবে এই বাস্তবতাকে যদি শুধুই নারীদের জন্য প্রযোজ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়, তাহলে তা সমাজে প্রচলিত একটি ধারণাকে আরও জোরদার করে—যে যত্ন ও পরিচর্যার দায়িত্ব মূলত নারীর।

Breaking gender barriers women face career obstacles inequality  discrimination, striving to overcome limitations concept, strong  businesswoman try with full effort to break red tape to growing in work  39038532 Vector Art at

সমতার পথে বড় বাধা

নারীদের ক্যারিয়ারে বিরতি নেওয়ার বিষয়টিকে উৎসাহিত করা হলেও, পুরুষদের ক্ষেত্রে একই বিষয়টি খুব একটা গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে একটি অসম পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেখানে পুরুষরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যায়, আর নারীরা পরিবার সামলাতে পিছিয়ে পড়ে।

এই পরিস্থিতি বদলাতে হলে পুরুষদেরও সমানভাবে পরিবার ও সন্তানের যত্নে যুক্ত হওয়ার সুযোগ এবং সামাজিক স্বীকৃতি দিতে হবে। শুধু নীতিমালায় পরিবর্তন আনলেই হবে না, কর্মক্ষেত্র ও সমাজের মানসিকতাও বদলাতে হবে।

নীতিমালার অগ্রগতি, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন

বিভিন্ন দেশে পিতৃত্বকালীন ছুটি বা যৌথ পিতামাতার ছুটির মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে বাবারাও সন্তানের যত্নে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারেন। কিন্তু বাস্তবে এসব সুযোগের ব্যবহার এখনো সীমিত। এর পেছনে বড় কারণ হলো কর্মক্ষেত্রের চাপ এবং সামাজিক প্রত্যাশা।

অনেক পুরুষই মনে করেন, পরিবারকে সময় দিলে তাদের পেশাগত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ফলে তারা পিছিয়ে আসতে চান না, যদিও তারা চাইলে পারতেন।

শিশুর বিকাশে বাবার ভূমিকা

The Role and Importance of a Father

গবেষণায় দেখা গেছে, সন্তানের জীবনে বাবার সক্রিয় উপস্থিতি তার মানসিক ও সামাজিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই শুধু সমতার দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, সন্তানের ভবিষ্যতের জন্যও বাবাদের অংশগ্রহণ জরুরি।

এই বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে যদি পরিবার ও কর্মজীবনের মধ্যে ভারসাম্য আনা যায়, তাহলে তা সমাজের জন্য আরও ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।

সমান অংশগ্রহণই ভবিষ্যতের পথ

ক্যারিয়ারে বিরতি বা পথবদলকে স্বাভাবিক করতে হলে সেটি নারী-পুরুষ সবার জন্য সমানভাবে গ্রহণযোগ্য করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে কেউ পরিবারকে অগ্রাধিকার দিলে তাকে নেতিবাচকভাবে দেখা হবে না।

সফলতার নতুন সংজ্ঞা হতে হবে এমন—যেখানে নারী ও পুরুষ উভয়েই কাজ ও পরিবারে সমানভাবে অংশ নিতে পারে। তবেই একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও টেকসই সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ওডিশায় খ্রিস্টানদের ওপর হামলা বাড়ছে, উদ্বেগ মানবাধিকারকর্মীদের

ক্যারিয়ারে বিরতি শুধু নারীদের নয়, সবার জন্য—সমতার নতুন বার্তা

০৩:২৪:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

ক্যারিয়ারে বিরতি বা পথবদলকে অনেকদিন ধরেই নারীদের বিষয় হিসেবে দেখা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনের চাহিদা মেটাতে জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে প্রায় সবাইকেই পেশাগত ছন্দ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়। তাই এই বিষয়টিকে শুধুমাত্র নারীদের সঙ্গে যুক্ত করে দেখলে তা বরং পুরোনো ধারণাকেই আরও শক্তিশালী করে।

ক্যারিয়ার মানে শুধু নিরবচ্ছিন্ন এগিয়ে চলা নয়

বর্তমান সময়ে সফলতার সংজ্ঞা বদলাচ্ছে। আগে যেখানে নিরবচ্ছিন্ন ক্যারিয়ার অগ্রগতিকে সফলতার একমাত্র মানদণ্ড ধরা হতো, এখন সেখানে পরিবার, ব্যক্তিগত সময় ও মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বও সমানভাবে বিবেচিত হচ্ছে। অনেকেই জীবনের বিভিন্ন সময়ে পরিবারকে অগ্রাধিকার দিতে চান, যা একেবারেই স্বাভাবিক।

তবে এই বাস্তবতাকে যদি শুধুই নারীদের জন্য প্রযোজ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়, তাহলে তা সমাজে প্রচলিত একটি ধারণাকে আরও জোরদার করে—যে যত্ন ও পরিচর্যার দায়িত্ব মূলত নারীর।

Breaking gender barriers women face career obstacles inequality  discrimination, striving to overcome limitations concept, strong  businesswoman try with full effort to break red tape to growing in work  39038532 Vector Art at

সমতার পথে বড় বাধা

নারীদের ক্যারিয়ারে বিরতি নেওয়ার বিষয়টিকে উৎসাহিত করা হলেও, পুরুষদের ক্ষেত্রে একই বিষয়টি খুব একটা গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে একটি অসম পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেখানে পুরুষরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যায়, আর নারীরা পরিবার সামলাতে পিছিয়ে পড়ে।

এই পরিস্থিতি বদলাতে হলে পুরুষদেরও সমানভাবে পরিবার ও সন্তানের যত্নে যুক্ত হওয়ার সুযোগ এবং সামাজিক স্বীকৃতি দিতে হবে। শুধু নীতিমালায় পরিবর্তন আনলেই হবে না, কর্মক্ষেত্র ও সমাজের মানসিকতাও বদলাতে হবে।

নীতিমালার অগ্রগতি, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন

বিভিন্ন দেশে পিতৃত্বকালীন ছুটি বা যৌথ পিতামাতার ছুটির মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে বাবারাও সন্তানের যত্নে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারেন। কিন্তু বাস্তবে এসব সুযোগের ব্যবহার এখনো সীমিত। এর পেছনে বড় কারণ হলো কর্মক্ষেত্রের চাপ এবং সামাজিক প্রত্যাশা।

অনেক পুরুষই মনে করেন, পরিবারকে সময় দিলে তাদের পেশাগত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ফলে তারা পিছিয়ে আসতে চান না, যদিও তারা চাইলে পারতেন।

শিশুর বিকাশে বাবার ভূমিকা

The Role and Importance of a Father

গবেষণায় দেখা গেছে, সন্তানের জীবনে বাবার সক্রিয় উপস্থিতি তার মানসিক ও সামাজিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই শুধু সমতার দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, সন্তানের ভবিষ্যতের জন্যও বাবাদের অংশগ্রহণ জরুরি।

এই বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে যদি পরিবার ও কর্মজীবনের মধ্যে ভারসাম্য আনা যায়, তাহলে তা সমাজের জন্য আরও ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।

সমান অংশগ্রহণই ভবিষ্যতের পথ

ক্যারিয়ারে বিরতি বা পথবদলকে স্বাভাবিক করতে হলে সেটি নারী-পুরুষ সবার জন্য সমানভাবে গ্রহণযোগ্য করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে কেউ পরিবারকে অগ্রাধিকার দিলে তাকে নেতিবাচকভাবে দেখা হবে না।

সফলতার নতুন সংজ্ঞা হতে হবে এমন—যেখানে নারী ও পুরুষ উভয়েই কাজ ও পরিবারে সমানভাবে অংশ নিতে পারে। তবেই একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও টেকসই সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।