১১:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
তেলের ধাক্কা শুধু যুদ্ধের নয়, নীতিহীনতারও মূল্য রঘু রাইয়ের ক্যামেরা ছিল শুধু ছবি তোলার যন্ত্র নয়, এক ধরনের জীবনদর্শন ট্রাম্পের কঠোর আশ্রয়নীতি কি স্থায়ী রূপ নিচ্ছে? যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সন্ত্রাসবিরোধী কৌশল ঘিরে বিতর্ক, সমালোচনায় রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ নিউইয়র্কে আবাসন নির্মাণে বড় বাধা কমছে, বদলে যেতে পারে শহরের ভবিষ্যৎ ট্রাম্পের প্রতিশোধ রাজনীতি নিয়ে চাপে রিপাবলিকানরা ট্রাম্প-শি বৈঠকে বাণিজ্যের হাসি, আড়ালে তাইওয়ান-ইউক্রেন-ইরান উত্তেজনা ব্রিটিশ রাজনীতির নেতৃত্ব সংকট: জনপ্রিয়তার লড়াই নয়, বাস্তবতার পরীক্ষা লন্ডনে টমি রবিনসন ঘিরে উত্তেজনা, ফিলিস্তিনপন্থী পাল্টা বিক্ষোভে কড়া নিরাপত্তা জাকার্তার ‘সামতামা ভিলেজ’: বর্জ্য আলাদা করেই কমছে ল্যান্ডফিলে চাপ

ইয়েন সংকটে সতর্ক টোকিও, ‘ফোন অন রাখুন’ বার্তা মুদ্রা ব্যবসায়ীদের

ডলারের বিপরীতে জাপানি ইয়েনের দর নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় মুদ্রাবাজারে বাড়ছে সতর্কতা। জাপান সরকার সরাসরি বাজারে হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়ায় ব্যবসায়ীদের সবসময় প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। এমনকি ছুটির সময়ও মোবাইল ফোন সচল রাখার পরামর্শ দিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাটায়ামা।

জাপানের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য জাপান টাইমসের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত দুই মাস ধরে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের বিনিময় হার ১৫৮ থেকে ১৫৯-এর মধ্যে আটকে আছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই স্থিতি স্বাভাবিক বাজার পরিস্থিতির কারণে নয়, বরং জাপান সরকারের সক্রিয় অবস্থানের ফল।

ছুটির মধ্যেও সতর্ক থাকার নির্দেশ

গোল্ডেন উইক ছুটির আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী কাটায়ামা মুদ্রা ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, বাইরে থাকুন বা বিশ্রামে থাকুন—সবসময় স্মার্টফোন সঙ্গে রাখুন। তার এই মন্তব্যকে অনেকেই সম্ভাব্য বাজার হস্তক্ষেপের আগাম সংকেত হিসেবে দেখছেন।

Keep your smartphone close': Japan puts yen market on alert for golden week  action

বিশ্লেষণে বলা হয়, ২০২৪ সালেও একই ধরনের ছুটির সময় জাপান সরকার একাধিকবার ইয়েন শক্তিশালী করতে বাজারে হস্তক্ষেপ করেছিল। এরপর জুলাই মাসেও ইয়েন কেনার পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

ইয়েনের জন্য ‘সুইট স্পট’

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির প্রশাসন ইয়েনকে অতিরিক্ত শক্তিশালী করতে চায় না। সরকারের এক জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সম্প্রতি জানিয়েছেন, ডলারের বিপরীতে ১৫০ ইয়েনের আশপাশকে তারা অর্থনীতির জন্য উপযোগী অবস্থান হিসেবে দেখেন। এতে দেশীয় কোম্পানিগুলো বিনিয়োগে উৎসাহ পায়।

তবে বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, জাপান সরকার ১৬০ ইয়েনের সীমাকে এক ধরনের ‘লাল দাগ’ হিসেবে বিবেচনা করছে। অর্থাৎ এই সীমা অতিক্রম করলে সরকার আরও বড় হস্তক্ষেপে যেতে পারে।

শুধু সুদহার বাড়িয়ে কাজ হয়নি

Yen Reels on Geopolitical Turmoil. Forecast as of 07.04.2026 | LiteFinance

অনেক সমালোচক মনে করেন, বাজারে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে সরকার শুধু অর্থ অপচয় করছে। তাদের মতে, ইয়েন শক্তিশালী করতে সুদের হার আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ব্যাংক অব জাপান ২০২৪ সাল থেকে চারবার সুদের হার বাড়ালেও ইয়েনের দুর্বলতা কমেনি। বরং নেতিবাচক সুদের যুগের তুলনায় এখন ইয়েন আরও দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের ইঙ্গিত

একসময় জাপান সরাসরি বাজারে হস্তক্ষেপ করলে যুক্তরাষ্ট্রের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা থাকত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

ডলারের বাজারে ইয়েনের বড় প্রভাব

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ডলার-ইয়েন বিনিময় হার নিয়ে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করলে বাজারে ইয়েনের দর হঠাৎ বেড়ে যায়। পরে জানা যায়, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টও এশিয়ার মুদ্রাগুলোকে আরও শক্তিশালী দেখতে চান বলে বিভিন্ন ইঙ্গিত দিয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার মুদ্রা ওনের দুর্বলতা নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।

তেলবাজারেও হস্তক্ষেপ ভাবনা

শুধু মুদ্রাবাজার নয়, জাপান এখন জ্বালানি বাজারেও হস্তক্ষেপের চিন্তা করছে। দেশটির শীর্ষ মুদ্রা কর্মকর্তা আতসুশি মিমুরা জানিয়েছেন, অপরিশোধিত তেলের ফিউচার বাজারে অতিরিক্ত জল্পনা-কল্পনা ইয়েনের ওপর চাপ তৈরি করছে। তাই সরকার প্রয়োজন হলে সেখানে পদক্ষেপ নিতেও প্রস্তুত।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই নীতি দীর্ঘ সময় ধরে চালিয়ে যেতে হলে জাপানের যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন প্রয়োজন হবে। কারণ এককভাবে বাজারে হস্তক্ষেপ করার সক্ষমতা সীমাহীন নয়। তবে আপাতত জাপানের বার্তা পরিষ্কার—ইয়েন নিয়ে লেনদেন করলে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে।

Japan Has Two More Windows for Yen Intervention by IMF Rules

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তেলের ধাক্কা শুধু যুদ্ধের নয়, নীতিহীনতারও মূল্য

ইয়েন সংকটে সতর্ক টোকিও, ‘ফোন অন রাখুন’ বার্তা মুদ্রা ব্যবসায়ীদের

০২:৩৪:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

ডলারের বিপরীতে জাপানি ইয়েনের দর নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় মুদ্রাবাজারে বাড়ছে সতর্কতা। জাপান সরকার সরাসরি বাজারে হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়ায় ব্যবসায়ীদের সবসময় প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। এমনকি ছুটির সময়ও মোবাইল ফোন সচল রাখার পরামর্শ দিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাটায়ামা।

জাপানের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য জাপান টাইমসের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত দুই মাস ধরে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের বিনিময় হার ১৫৮ থেকে ১৫৯-এর মধ্যে আটকে আছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই স্থিতি স্বাভাবিক বাজার পরিস্থিতির কারণে নয়, বরং জাপান সরকারের সক্রিয় অবস্থানের ফল।

ছুটির মধ্যেও সতর্ক থাকার নির্দেশ

গোল্ডেন উইক ছুটির আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী কাটায়ামা মুদ্রা ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, বাইরে থাকুন বা বিশ্রামে থাকুন—সবসময় স্মার্টফোন সঙ্গে রাখুন। তার এই মন্তব্যকে অনেকেই সম্ভাব্য বাজার হস্তক্ষেপের আগাম সংকেত হিসেবে দেখছেন।

Keep your smartphone close': Japan puts yen market on alert for golden week  action

বিশ্লেষণে বলা হয়, ২০২৪ সালেও একই ধরনের ছুটির সময় জাপান সরকার একাধিকবার ইয়েন শক্তিশালী করতে বাজারে হস্তক্ষেপ করেছিল। এরপর জুলাই মাসেও ইয়েন কেনার পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

ইয়েনের জন্য ‘সুইট স্পট’

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির প্রশাসন ইয়েনকে অতিরিক্ত শক্তিশালী করতে চায় না। সরকারের এক জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সম্প্রতি জানিয়েছেন, ডলারের বিপরীতে ১৫০ ইয়েনের আশপাশকে তারা অর্থনীতির জন্য উপযোগী অবস্থান হিসেবে দেখেন। এতে দেশীয় কোম্পানিগুলো বিনিয়োগে উৎসাহ পায়।

তবে বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, জাপান সরকার ১৬০ ইয়েনের সীমাকে এক ধরনের ‘লাল দাগ’ হিসেবে বিবেচনা করছে। অর্থাৎ এই সীমা অতিক্রম করলে সরকার আরও বড় হস্তক্ষেপে যেতে পারে।

শুধু সুদহার বাড়িয়ে কাজ হয়নি

Yen Reels on Geopolitical Turmoil. Forecast as of 07.04.2026 | LiteFinance

অনেক সমালোচক মনে করেন, বাজারে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে সরকার শুধু অর্থ অপচয় করছে। তাদের মতে, ইয়েন শক্তিশালী করতে সুদের হার আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ব্যাংক অব জাপান ২০২৪ সাল থেকে চারবার সুদের হার বাড়ালেও ইয়েনের দুর্বলতা কমেনি। বরং নেতিবাচক সুদের যুগের তুলনায় এখন ইয়েন আরও দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের ইঙ্গিত

একসময় জাপান সরাসরি বাজারে হস্তক্ষেপ করলে যুক্তরাষ্ট্রের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা থাকত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

ডলারের বাজারে ইয়েনের বড় প্রভাব

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ডলার-ইয়েন বিনিময় হার নিয়ে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করলে বাজারে ইয়েনের দর হঠাৎ বেড়ে যায়। পরে জানা যায়, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টও এশিয়ার মুদ্রাগুলোকে আরও শক্তিশালী দেখতে চান বলে বিভিন্ন ইঙ্গিত দিয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার মুদ্রা ওনের দুর্বলতা নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।

তেলবাজারেও হস্তক্ষেপ ভাবনা

শুধু মুদ্রাবাজার নয়, জাপান এখন জ্বালানি বাজারেও হস্তক্ষেপের চিন্তা করছে। দেশটির শীর্ষ মুদ্রা কর্মকর্তা আতসুশি মিমুরা জানিয়েছেন, অপরিশোধিত তেলের ফিউচার বাজারে অতিরিক্ত জল্পনা-কল্পনা ইয়েনের ওপর চাপ তৈরি করছে। তাই সরকার প্রয়োজন হলে সেখানে পদক্ষেপ নিতেও প্রস্তুত।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই নীতি দীর্ঘ সময় ধরে চালিয়ে যেতে হলে জাপানের যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন প্রয়োজন হবে। কারণ এককভাবে বাজারে হস্তক্ষেপ করার সক্ষমতা সীমাহীন নয়। তবে আপাতত জাপানের বার্তা পরিষ্কার—ইয়েন নিয়ে লেনদেন করলে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে।

Japan Has Two More Windows for Yen Intervention by IMF Rules