ভারতের ওডিশা রাজ্যে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, বৈষম্য ও সামাজিক বয়কটের ঘটনা বাড়ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মানবাধিকারকর্মী ও বুদ্ধিজীবীদের একটি ফোরাম। ‘পিপলস ট্রাইব্যুনাল’ নামে পরিচিত এই সংগঠনের সদস্যরা রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর এমন দাবি করেছেন।
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সদস্যরা জানান, ওডিশার বিভিন্ন জেলায় ঘুরে প্রায় ৩০০ নারী-পুরুষের সঙ্গে কথা বলেছেন তারা। এসব সাক্ষ্য ও অভিজ্ঞতা তাদের কাছে অত্যন্ত ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক বলে মনে হয়েছে।
সংগঠনটির সদস্যদের মধ্যে ছিলেন জন ডায়াল, আকার প্যাটেল, বিদ্যা ডিঙ্কার ও হর্ষ মান্দার। তারা অভিযোগ করেন, রাজ্যে খ্রিস্টান, বিশেষ করে আদিবাসী ও দলিত খ্রিস্টানদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সরকার কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে না।
খ্রিস্টান উপাসনালয়ে হামলার অভিযোগ

পিপলস ট্রাইব্যুনাল ওডিশার মুখ্যসচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে উল্লেখ করেছে, খ্রিস্টানদের উপাসনালয়, ছোট গির্জা ও ঘরোয়া প্রার্থনাকেন্দ্রে হামলার ঘটনা ঘটছে। এছাড়া পাদ্রি ও ধর্মযাজকদের লক্ষ্য করে আক্রমণ, প্রার্থনা সভা বন্ধ করে দেওয়া এবং ধর্মান্তরের অভিযোগ এনে হয়রানির ঘটনাও বেড়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রে ধর্মযাজকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে থানায় আটকে রাখা হচ্ছে কিংবা কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। সংগঠনটির দাবি, এসব ঘটনার পেছনে শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি এবং তাদের আদর্শিক সহযোগী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের ঘনিষ্ঠ কিছু সংগঠনের ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক বয়কট
মানবাধিকারকর্মীরা জানান, ওডিশার প্রায় সব জেলাতেই খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বয়কটের অভিযোগ তারা শুনেছেন। অনেক ক্ষেত্রে খ্রিস্টান পরিবারগুলোকে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

এছাড়া যারা খ্রিস্টান পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বা কোনো ধরনের সহায়তা করছেন, তাদের বিরুদ্ধেও জরিমানা আরোপের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ট্রাইব্যুনালের মতে, এই পরিস্থিতি রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে।
সহিংসতার মাত্রা বাড়ছে
সংগঠনটির দাবি, কিছু জেলায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সেখানে শারীরিক হামলা, যৌন সহিংসতা এবং জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টার মতো ঘটনাও ঘটেছে। যদিও শেষ মুহূর্তে কিছু ঘটনা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পিপলস ট্রাইব্যুনাল বলছে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে আক্রান্ত পরিবারগুলোর সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















