ভারতের আসাম বিধানসভায় এবার আনুষ্ঠানিক বিরোধীদলীয় নেতা না-ও থাকতে পারে। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের বড় জয়ের পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিধানসভার মোট ১২৬টি আসনের মধ্যে বিজেপি ও তাদের দুই আঞ্চলিক মিত্র দল মিলিয়ে পেয়েছে ১০২টি আসন। অন্যদিকে বিরোধী জোটের ঝুলিতে গেছে মাত্র ২১টি আসন।
সবচেয়ে বড় বিরোধী দল হিসেবে কংগ্রেস পেয়েছে ১৯টি আসন। তাদের মিত্র দল রাইজর দল জিতেছে দুটি আসনে। তবে অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এআইইউডিএফ) এবং তৃণমূল কংগ্রেসও যথাক্রমে দুটি ও একটি আসন পেলেও তারা কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের অংশ নয়।

বিরোধীদলীয় নেতা নিয়ে বিতর্ক
নির্বাচনের আগেই আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বিরোধীদলীয় নেতা পদ নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছিলেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি দাবি করেন, কোনো দলকে বিরোধীদলীয় নেতা পেতে হলে নিজেদের প্রতীকে অন্তত ২৪টি আসনে জয়ী হতে হবে।
তবে বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বিরোধী দলের একজন সদস্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে সেই দলের আসন সংখ্যা হতে হবে বিধানসভার মোট সদস্যসংখ্যার অন্তত এক-ষষ্ঠাংশ। ১২৬ সদস্যের আসাম বিধানসভায় সেই হিসাবে প্রয়োজন হয় ন্যূনতম ২১টি আসন।
এই হিসাব অনুযায়ী বিরোধী জোটের মোট আসনসংখ্যা ২১ হলেও কংগ্রেস এককভাবে সেই সংখ্যা স্পর্শ করতে পারেনি। ফলে বিরোধীদলীয় নেতা পদ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিজেপি জোটের বড় জয়
এবারের নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) আসামে নজিরবিহীন জয় পেয়েছে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, বিধানসভার নিয়ম খুবই স্পষ্ট এবং সেই নিয়ম মেনেই বিরোধীদলীয় নেতা নির্ধারণ হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দলের দুর্বল উপস্থিতি আসামের বিধানসভায় সরকারের ওপর কার্যকর চাপ তৈরির ক্ষেত্রে নতুন প্রশ্ন তুলতে পারে। একই সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বিরোধীদলীয় নেতা না থাকলে সংসদীয় প্রক্রিয়াতেও কিছু বাস্তব জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিধানসভার বিধি এবং স্পিকারের ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















