কেরলে কংগ্রেসের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে দলটির ভেতরে তীব্র আলোচনা ও জল্পনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার দিনভর এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে কংগ্রেসের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ চলতে দেখা যায়। একই সময়ে নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বও সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, নেতা রাহুল গান্ধী এবং এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক কে.সি. ভেনুগোপাল বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন। দিল্লি যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে ভেনুগোপাল জানান, মুখ্যমন্ত্রী পদে কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত খুব শিগগিরই জানা যাবে।
তিন নেতাকে ঘিরে আলোচনা
কেরলের রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে তিনটি নাম— কে.সি. ভেনুগোপাল, বিরোধীদলীয় নেতা ভি.ডি. সাথীসন এবং জ্যেষ্ঠ নেতা রমেশ চেন্নিথলা। কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা এ.কে. অ্যান্টনি প্রকাশ্যে বলেন, এই তিনজনই মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য যথেষ্ট যোগ্য ও দক্ষ।

তিনি বলেন, কেরলের জন্য এমন একজন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়োজন, যিনি জনপ্রিয়তার রাজনীতি না করে রাজ্যের আর্থিক সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবেন। তবে তিন নেতার মধ্যে কাউকে আলাদা করে সমর্থন দিতে চাননি তিনি।
আইইউএমএলের ভূমিকা নিয়ে হিসাব
দলীয় অন্দরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হচ্ছে মিত্রদল ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ বা আইইউএমএলের ভূমিকা নিয়ে। কংগ্রেসের ভেতরে ধারণা তৈরি হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনে এই জোটসঙ্গী গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
একজন দলীয় নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত বিধায়কদের মধ্যে কার সমর্থন বেশি, তা নিয়েও হিসাব চলছে। পাশাপাশি দলীয় নেতৃত্ব এমন সিদ্ধান্ত নিতে চায়, যাতে নতুন করে উপনির্বাচনের প্রয়োজন না পড়ে এবং ভোটারদের কাছে দল বিচ্ছিন্ন বা বিভ্রান্ত মনে না হয়।
কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের বৈঠক

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক মুকুল ওয়াসনিক এবং কোষাধ্যক্ষ অজয় মাকেনকে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা কংগ্রেস লেজিসলেটিভ পার্টির নেতা নির্বাচনের আগে নবনির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এদিকে কেরলের বিভিন্ন এলাকায় মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীদের সমর্থনে নতুন নতুন ফ্লেক্স ও পোস্টার দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই এসব পোস্টার নাম প্রকাশ না করেই টানানো হচ্ছে। এতে দলীয় ভেতরের প্রতিযোগিতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
দলের ভেতরে বিভক্তির ইঙ্গিত
কেরল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সাবেক সভাপতি মুল্লাপল্লি রামচন্দ্রন বলেছেন, কংগ্রেসের ভেতরে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন প্রশ্নে স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিপুল জনসমর্থন পাওয়ার পর এখন কংগ্রেসের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নেতৃত্ব নির্ধারণে ঐক্য বজায় রাখা। কারণ মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েন জোটের ভেতরে নতুন সংকটও তৈরি করতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















