পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের একদিন পরই বিরোধী জোট ইন্ডিয়াকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, জোটের একাধিক শীর্ষ নেতা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং এখন তার মূল লক্ষ্য বিরোধী ঐক্যকে আরও মজবুত করা।
মমতা বলেন, ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের কাছ থেকে তিনি সমর্থন ও সংহতির বার্তা পেয়েছেন। কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এবং আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব তাকে ফোন করেছেন বলে জানান তিনি।
বিরোধী ঐক্যের বার্তা

সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ইন্ডিয়া জোটের সব নেতাকে ধন্যবাদ। সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অখিলেশ, হেমন্ত সোরেন, তেজস্বীরা ফোন করেছেন। অখিলেশ আগামীকাল আমার সঙ্গে দেখা করতে আসবেন। এখন আমার লক্ষ্য পরিষ্কার। আমি স্বাধীনভাবে কাজ করব এবং ইন্ডিয়া জোটকে আরও শক্তিশালী করব।”
তার এই মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ নির্বাচনী পরাজয়ের পরও তিনি জাতীয় পর্যায়ে বিরোধী রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি জাতীয় বিরোধী রাজনীতিতে নিজের অবস্থান ধরে রাখার বার্তাও দিয়েছেন।
নির্বাচনী প্রচারে পাশে ছিল জোটসঙ্গীরা
সম্প্রতি শেষ হওয়া পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন ইন্ডিয়া জোটের একাধিক নেতা। আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব, আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন নির্বাচনী প্রচারে তৃণমূলের পাশে দাঁড়ান।
নির্বাচনী ফল ঘোষণার পর বিরোধী জোটের নেতাদের এই যোগাযোগকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে পরাজয়ের পরও জোটের নেতাদের প্রকাশ্য সমর্থন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

বিধানসভায় ফিরবেন না মমতা
সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করা হয় তিনি আবার রাজ্য বিধানসভায় ফিরবেন কি না। জবাবে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি বিধানসভায় যাচ্ছেন না।
তিনি বলেন, “আমি সেখানে যাচ্ছি না। চেয়ার নিয়ে আমার কোনো ভাবনা নেই। আমি শুধু মানুষের কথা ভাবি।”
এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক পদ বা ক্ষমতার চেয়ে জনসমর্থন ও রাজনৈতিক লড়াইকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে ভবিষ্যতে তার রাজনৈতিক কৌশল কী হবে, তা নিয়ে এখন থেকেই আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের সামনে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী জোটের অংশ হিসেবেই তিনি সক্রিয় থাকতে চান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















