০২:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
ওডিশায় খ্রিস্টানদের ওপর হামলা বাড়ছে, উদ্বেগ মানবাধিকারকর্মীদের ইয়েন সংকটে সতর্ক টোকিও, ‘ফোন অন রাখুন’ বার্তা মুদ্রা ব্যবসায়ীদের দুবাই মেরিনায় নির্মাণাধীন ভবনে আগুন, হতাহতের খবর নেই বিজেপির সমর্থন নয়, শর্ত দিয়ে বিজয়ের টিভিকেকে পাশে দাঁড়াতে চায় কংগ্রেস কেরলে মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে কংগ্রেসে জল্পনা, দৌড়ে সাথীসন-ভেনুগোপাল-চেন্নিথলা আসাম বিধানসভায় বিরোধীদলীয় নেতা নাও থাকতে পারে বিজয়ের ১৫ বছরের মাঠ প্রস্তুতি, তারপরই টিভিকে’র রাজনৈতিক উত্থান বিজেপির জয়ের পর পশ্চিমবঙ্গে সহিংসতা, তৃণমূল কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ রাহুলের অভিযোগ, ‘বাংলা-আসামে জনগণের রায় চুরি করেছে বিজেপি’ মমতার নতুন লক্ষ্য ইন্ডিয়া জোট, পরাজয়ের পরই বিরোধী ঐক্য জোরদারের বার্তা

মমতার নতুন লক্ষ্য ইন্ডিয়া জোট, পরাজয়ের পরই বিরোধী ঐক্য জোরদারের বার্তা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের একদিন পরই বিরোধী জোট ইন্ডিয়াকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, জোটের একাধিক শীর্ষ নেতা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং এখন তার মূল লক্ষ্য বিরোধী ঐক্যকে আরও মজবুত করা।

মমতা বলেন, ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের কাছ থেকে তিনি সমর্থন ও সংহতির বার্তা পেয়েছেন। কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এবং আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব তাকে ফোন করেছেন বলে জানান তিনি।

বিরোধী ঐক্যের বার্তা

Mamata Banerjee's INDIA split may be aimed at securing Trinamool's future  in West Bengal - Frontline

সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ইন্ডিয়া জোটের সব নেতাকে ধন্যবাদ। সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অখিলেশ, হেমন্ত সোরেন, তেজস্বীরা ফোন করেছেন। অখিলেশ আগামীকাল আমার সঙ্গে দেখা করতে আসবেন। এখন আমার লক্ষ্য পরিষ্কার। আমি স্বাধীনভাবে কাজ করব এবং ইন্ডিয়া জোটকে আরও শক্তিশালী করব।”

তার এই মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ নির্বাচনী পরাজয়ের পরও তিনি জাতীয় পর্যায়ে বিরোধী রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি জাতীয় বিরোধী রাজনীতিতে নিজের অবস্থান ধরে রাখার বার্তাও দিয়েছেন।

নির্বাচনী প্রচারে পাশে ছিল জোটসঙ্গীরা

সম্প্রতি শেষ হওয়া পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন ইন্ডিয়া জোটের একাধিক নেতা। আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব, আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন নির্বাচনী প্রচারে তৃণমূলের পাশে দাঁড়ান।

নির্বাচনী ফল ঘোষণার পর বিরোধী জোটের নেতাদের এই যোগাযোগকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে পরাজয়ের পরও জোটের নেতাদের প্রকাশ্য সমর্থন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

Mamata vows to strengthen INDIA bloc after Bengal election setback

বিধানসভায় ফিরবেন না মমতা

সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করা হয় তিনি আবার রাজ্য বিধানসভায় ফিরবেন কি না। জবাবে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি বিধানসভায় যাচ্ছেন না।

তিনি বলেন, “আমি সেখানে যাচ্ছি না। চেয়ার নিয়ে আমার কোনো ভাবনা নেই। আমি শুধু মানুষের কথা ভাবি।”

এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক পদ বা ক্ষমতার চেয়ে জনসমর্থন ও রাজনৈতিক লড়াইকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে ভবিষ্যতে তার রাজনৈতিক কৌশল কী হবে, তা নিয়ে এখন থেকেই আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের সামনে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী জোটের অংশ হিসেবেই তিনি সক্রিয় থাকতে চান।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ওডিশায় খ্রিস্টানদের ওপর হামলা বাড়ছে, উদ্বেগ মানবাধিকারকর্মীদের

মমতার নতুন লক্ষ্য ইন্ডিয়া জোট, পরাজয়ের পরই বিরোধী ঐক্য জোরদারের বার্তা

০১:২০:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের একদিন পরই বিরোধী জোট ইন্ডিয়াকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, জোটের একাধিক শীর্ষ নেতা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং এখন তার মূল লক্ষ্য বিরোধী ঐক্যকে আরও মজবুত করা।

মমতা বলেন, ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের কাছ থেকে তিনি সমর্থন ও সংহতির বার্তা পেয়েছেন। কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এবং আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব তাকে ফোন করেছেন বলে জানান তিনি।

বিরোধী ঐক্যের বার্তা

Mamata Banerjee's INDIA split may be aimed at securing Trinamool's future  in West Bengal - Frontline

সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ইন্ডিয়া জোটের সব নেতাকে ধন্যবাদ। সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অখিলেশ, হেমন্ত সোরেন, তেজস্বীরা ফোন করেছেন। অখিলেশ আগামীকাল আমার সঙ্গে দেখা করতে আসবেন। এখন আমার লক্ষ্য পরিষ্কার। আমি স্বাধীনভাবে কাজ করব এবং ইন্ডিয়া জোটকে আরও শক্তিশালী করব।”

তার এই মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ নির্বাচনী পরাজয়ের পরও তিনি জাতীয় পর্যায়ে বিরোধী রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি জাতীয় বিরোধী রাজনীতিতে নিজের অবস্থান ধরে রাখার বার্তাও দিয়েছেন।

নির্বাচনী প্রচারে পাশে ছিল জোটসঙ্গীরা

সম্প্রতি শেষ হওয়া পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন ইন্ডিয়া জোটের একাধিক নেতা। আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব, আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন নির্বাচনী প্রচারে তৃণমূলের পাশে দাঁড়ান।

নির্বাচনী ফল ঘোষণার পর বিরোধী জোটের নেতাদের এই যোগাযোগকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে পরাজয়ের পরও জোটের নেতাদের প্রকাশ্য সমর্থন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

Mamata vows to strengthen INDIA bloc after Bengal election setback

বিধানসভায় ফিরবেন না মমতা

সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করা হয় তিনি আবার রাজ্য বিধানসভায় ফিরবেন কি না। জবাবে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি বিধানসভায় যাচ্ছেন না।

তিনি বলেন, “আমি সেখানে যাচ্ছি না। চেয়ার নিয়ে আমার কোনো ভাবনা নেই। আমি শুধু মানুষের কথা ভাবি।”

এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক পদ বা ক্ষমতার চেয়ে জনসমর্থন ও রাজনৈতিক লড়াইকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে ভবিষ্যতে তার রাজনৈতিক কৌশল কী হবে, তা নিয়ে এখন থেকেই আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের সামনে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী জোটের অংশ হিসেবেই তিনি সক্রিয় থাকতে চান।