১২:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
তেলের ধাক্কা শুধু যুদ্ধের নয়, নীতিহীনতারও মূল্য রঘু রাইয়ের ক্যামেরা ছিল শুধু ছবি তোলার যন্ত্র নয়, এক ধরনের জীবনদর্শন ট্রাম্পের কঠোর আশ্রয়নীতি কি স্থায়ী রূপ নিচ্ছে? যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সন্ত্রাসবিরোধী কৌশল ঘিরে বিতর্ক, সমালোচনায় রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ নিউইয়র্কে আবাসন নির্মাণে বড় বাধা কমছে, বদলে যেতে পারে শহরের ভবিষ্যৎ ট্রাম্পের প্রতিশোধ রাজনীতি নিয়ে চাপে রিপাবলিকানরা ট্রাম্প-শি বৈঠকে বাণিজ্যের হাসি, আড়ালে তাইওয়ান-ইউক্রেন-ইরান উত্তেজনা ব্রিটিশ রাজনীতির নেতৃত্ব সংকট: জনপ্রিয়তার লড়াই নয়, বাস্তবতার পরীক্ষা লন্ডনে টমি রবিনসন ঘিরে উত্তেজনা, ফিলিস্তিনপন্থী পাল্টা বিক্ষোভে কড়া নিরাপত্তা জাকার্তার ‘সামতামা ভিলেজ’: বর্জ্য আলাদা করেই কমছে ল্যান্ডফিলে চাপ

বিজেপির জয়ের পর পশ্চিমবঙ্গে সহিংসতা, তৃণমূল কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় জয়ের পর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা সামনে এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, বিজেপি কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে তাদের দলীয় কার্যালয় ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। তবে বিজেপির পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করা হয়েছে, অনেক জায়গায় তাদের কর্মীরাই আক্রান্ত হয়েছেন।

মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিজেপি নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের টার্গেট করছে। তাঁর ভাষায়, দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূলের লোকজনের ওপর নির্যাতন শুরু হয়েছে। তিনি দাবি করেন, একাধিক দলীয় কার্যালয় দখল করে নেওয়া হয়েছে।

সহিংসতা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৃণমূল ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করবে এবং আক্রান্ত নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলবে। মমতা বলেন, ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার সময় তারা পরিবর্তনের কথা বলেছিল, প্রতিশোধের নয়। সে সময় কোনো প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

Mamata Banerjee: 'শৃঙ্খলা না মানলে নেওয়া হবে কড়া ব্যবস্থা' - পরিষদীয়  বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা মমতার

বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বও কর্মীদের সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। দিল্লিতে দলীয় কার্যালয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, নির্বাচনের সময় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি এবং এখন প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, পরিবর্তনের রাজনীতি হওয়া উচিত। তিনি কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, কে কাকে ভোট দিয়েছে, তা না দেখে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সেবা করাই এখন প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।

রাজ্যে নির্বাচনের সময় মোতায়েন করা কেন্দ্রীয় বাহিনীর ২ হাজার ৪০০ কোম্পানির মধ্যে প্রায় ৭০০ কোম্পানি নির্বাচনের পরও সহিংসতা ঠেকাতে রাখা হয়েছে। তবু সোমবার বিকেল থেকেই কলকাতা ও জেলার একাধিক এলাকায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া যায়।

তৃণমূলের অভিযোগ, টালিগঞ্জ, কসবা, বারুইপুর, কামারহাটি, মুর্শিদাবাদ, বরানগর, হাওড়া, বহরমপুর, ফলতা ও শিলিগুড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে। কোথাও কোথাও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং রাতারাতি কয়েকটি কার্যালয় গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। পাথর ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছে একাধিক জায়গায়।

দলটির রাজ্যসভা সদস্য সাগরিকা ঘোষ বীরভূমের নানুরে এক তৃণমূল কর্মী নিহত হওয়ার অভিযোগ তুলে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন। এছাড়া বেলেঘাটায় আরেক তৃণমূল কর্মীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, একদল ব্যক্তি তাঁকে মারধর করে হত্যা করেছে।

Zero tolerance approach toward post-poll violence in Bengal: CEC Gyanesh  Kumar directs security officials

তৃণমূল প্রার্থী শ্রেয়া পান্ডে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে এক ব্লক সভাপতিকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা যায়। আলিপুরদুয়ার থেকেও একই ধরনের হামলার অভিযোগ এসেছে। উদয়নরায়ণপুরের তৃণমূল প্রার্থী সমীর পাঞ্জার ওপরও হামলার অভিযোগ করা হয়েছে। একটি ভিডিওতে তাঁকে ছেঁড়া পোশাকে লাঠিচার্জের মুখে দেখা যায়।

অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সমীক ভট্টাচার্য বলেন, যদি বিজেপির পতাকা ব্যবহার করে কেউ রাজনৈতিক সহিংসতায় জড়ায় বা তৃণমূল কার্যালয়ে হামলা চালায়, তবে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। তিনি আরও বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর পরিবারকে কেউ অপমান করলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক জিষ্ণু বসুও কর্মীদের সহিংসতা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতি রাজ্যকে আবারও “জঙ্গলরাজে” ফিরিয়ে নিতে পারে।

তবে বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার দাবি করেছেন, অনেক এলাকায় বিজেপি কর্মীরাই তৃণমূলের হামলার শিকার হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ঢাকতে বিজেপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তেলের ধাক্কা শুধু যুদ্ধের নয়, নীতিহীনতারও মূল্য

বিজেপির জয়ের পর পশ্চিমবঙ্গে সহিংসতা, তৃণমূল কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ

০২:০৩:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় জয়ের পর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা সামনে এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, বিজেপি কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে তাদের দলীয় কার্যালয় ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। তবে বিজেপির পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করা হয়েছে, অনেক জায়গায় তাদের কর্মীরাই আক্রান্ত হয়েছেন।

মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিজেপি নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের টার্গেট করছে। তাঁর ভাষায়, দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূলের লোকজনের ওপর নির্যাতন শুরু হয়েছে। তিনি দাবি করেন, একাধিক দলীয় কার্যালয় দখল করে নেওয়া হয়েছে।

সহিংসতা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৃণমূল ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করবে এবং আক্রান্ত নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলবে। মমতা বলেন, ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার সময় তারা পরিবর্তনের কথা বলেছিল, প্রতিশোধের নয়। সে সময় কোনো প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

Mamata Banerjee: 'শৃঙ্খলা না মানলে নেওয়া হবে কড়া ব্যবস্থা' - পরিষদীয়  বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা মমতার

বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বও কর্মীদের সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। দিল্লিতে দলীয় কার্যালয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, নির্বাচনের সময় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি এবং এখন প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, পরিবর্তনের রাজনীতি হওয়া উচিত। তিনি কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, কে কাকে ভোট দিয়েছে, তা না দেখে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সেবা করাই এখন প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।

রাজ্যে নির্বাচনের সময় মোতায়েন করা কেন্দ্রীয় বাহিনীর ২ হাজার ৪০০ কোম্পানির মধ্যে প্রায় ৭০০ কোম্পানি নির্বাচনের পরও সহিংসতা ঠেকাতে রাখা হয়েছে। তবু সোমবার বিকেল থেকেই কলকাতা ও জেলার একাধিক এলাকায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া যায়।

তৃণমূলের অভিযোগ, টালিগঞ্জ, কসবা, বারুইপুর, কামারহাটি, মুর্শিদাবাদ, বরানগর, হাওড়া, বহরমপুর, ফলতা ও শিলিগুড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে। কোথাও কোথাও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং রাতারাতি কয়েকটি কার্যালয় গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। পাথর ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছে একাধিক জায়গায়।

দলটির রাজ্যসভা সদস্য সাগরিকা ঘোষ বীরভূমের নানুরে এক তৃণমূল কর্মী নিহত হওয়ার অভিযোগ তুলে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন। এছাড়া বেলেঘাটায় আরেক তৃণমূল কর্মীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, একদল ব্যক্তি তাঁকে মারধর করে হত্যা করেছে।

Zero tolerance approach toward post-poll violence in Bengal: CEC Gyanesh  Kumar directs security officials

তৃণমূল প্রার্থী শ্রেয়া পান্ডে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে এক ব্লক সভাপতিকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা যায়। আলিপুরদুয়ার থেকেও একই ধরনের হামলার অভিযোগ এসেছে। উদয়নরায়ণপুরের তৃণমূল প্রার্থী সমীর পাঞ্জার ওপরও হামলার অভিযোগ করা হয়েছে। একটি ভিডিওতে তাঁকে ছেঁড়া পোশাকে লাঠিচার্জের মুখে দেখা যায়।

অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সমীক ভট্টাচার্য বলেন, যদি বিজেপির পতাকা ব্যবহার করে কেউ রাজনৈতিক সহিংসতায় জড়ায় বা তৃণমূল কার্যালয়ে হামলা চালায়, তবে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। তিনি আরও বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর পরিবারকে কেউ অপমান করলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক জিষ্ণু বসুও কর্মীদের সহিংসতা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতি রাজ্যকে আবারও “জঙ্গলরাজে” ফিরিয়ে নিতে পারে।

তবে বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার দাবি করেছেন, অনেক এলাকায় বিজেপি কর্মীরাই তৃণমূলের হামলার শিকার হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ঢাকতে বিজেপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।