পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় জয়ের পর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা সামনে এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, বিজেপি কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে তাদের দলীয় কার্যালয় ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। তবে বিজেপির পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করা হয়েছে, অনেক জায়গায় তাদের কর্মীরাই আক্রান্ত হয়েছেন।
মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিজেপি নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের টার্গেট করছে। তাঁর ভাষায়, দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূলের লোকজনের ওপর নির্যাতন শুরু হয়েছে। তিনি দাবি করেন, একাধিক দলীয় কার্যালয় দখল করে নেওয়া হয়েছে।
সহিংসতা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৃণমূল ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করবে এবং আক্রান্ত নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলবে। মমতা বলেন, ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার সময় তারা পরিবর্তনের কথা বলেছিল, প্রতিশোধের নয়। সে সময় কোনো প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বও কর্মীদের সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। দিল্লিতে দলীয় কার্যালয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, নির্বাচনের সময় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি এবং এখন প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, পরিবর্তনের রাজনীতি হওয়া উচিত। তিনি কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, কে কাকে ভোট দিয়েছে, তা না দেখে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সেবা করাই এখন প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।
রাজ্যে নির্বাচনের সময় মোতায়েন করা কেন্দ্রীয় বাহিনীর ২ হাজার ৪০০ কোম্পানির মধ্যে প্রায় ৭০০ কোম্পানি নির্বাচনের পরও সহিংসতা ঠেকাতে রাখা হয়েছে। তবু সোমবার বিকেল থেকেই কলকাতা ও জেলার একাধিক এলাকায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া যায়।
তৃণমূলের অভিযোগ, টালিগঞ্জ, কসবা, বারুইপুর, কামারহাটি, মুর্শিদাবাদ, বরানগর, হাওড়া, বহরমপুর, ফলতা ও শিলিগুড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে। কোথাও কোথাও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং রাতারাতি কয়েকটি কার্যালয় গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। পাথর ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছে একাধিক জায়গায়।
দলটির রাজ্যসভা সদস্য সাগরিকা ঘোষ বীরভূমের নানুরে এক তৃণমূল কর্মী নিহত হওয়ার অভিযোগ তুলে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন। এছাড়া বেলেঘাটায় আরেক তৃণমূল কর্মীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, একদল ব্যক্তি তাঁকে মারধর করে হত্যা করেছে।
তৃণমূল প্রার্থী শ্রেয়া পান্ডে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে এক ব্লক সভাপতিকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা যায়। আলিপুরদুয়ার থেকেও একই ধরনের হামলার অভিযোগ এসেছে। উদয়নরায়ণপুরের তৃণমূল প্রার্থী সমীর পাঞ্জার ওপরও হামলার অভিযোগ করা হয়েছে। একটি ভিডিওতে তাঁকে ছেঁড়া পোশাকে লাঠিচার্জের মুখে দেখা যায়।
অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সমীক ভট্টাচার্য বলেন, যদি বিজেপির পতাকা ব্যবহার করে কেউ রাজনৈতিক সহিংসতায় জড়ায় বা তৃণমূল কার্যালয়ে হামলা চালায়, তবে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। তিনি আরও বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর পরিবারকে কেউ অপমান করলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক জিষ্ণু বসুও কর্মীদের সহিংসতা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতি রাজ্যকে আবারও “জঙ্গলরাজে” ফিরিয়ে নিতে পারে।
তবে বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার দাবি করেছেন, অনেক এলাকায় বিজেপি কর্মীরাই তৃণমূলের হামলার শিকার হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ঢাকতে বিজেপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















