কক্সবাজারের টেকনাফে সীমান্তঘেঁষা নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে পিতা-পুত্রসহ সাত জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা অস্ত্রের মুখে জেলেদের আটক করে নিয়ে গেছে। সারাক্ষণ রিপোর্ট
নদীতে মাছ ধরার সময় হামলা
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার সকালে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপসংলগ্ন নাফ নদীতে। প্রতিদিনের মতো সেদিনও কয়েকটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে জেলেরা মাছ ধরতে নদীতে নামেন। হঠাৎ রাখাইন সীমান্তের দিক থেকে সশস্ত্র সদস্যরা এসে দুটি নৌকা ঘিরে ফেলে। এরপর জেলেদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
স্থানীয় জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো ঘটনাটি খুব দ্রুত ঘটে এবং জেলেরা কোনো প্রতিরোধের সুযোগই পাননি। এতে করে নদীতে থাকা অন্য জেলেদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

একই পরিবারের তিনজনসহ সাত জন
আটক হওয়া জেলেদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন রয়েছেন—একজন বাবা এবং তার দুই ছেলে। এছাড়া আরও কয়েকজন স্থানীয় জেলে এই ঘটনার শিকার হয়েছেন। তারা সবাই টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ও সাবরাং এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় পরিবারগুলোর মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। স্বজনরা তাদের দ্রুত নিরাপদে ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সীমান্তে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
নাফ নদী বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা। সাম্প্রতিক সময়ে এই এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মাঝেমধ্যেই জেলেদের ওপর হামলা, অপহরণ বা হয়রানির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, সীমান্তে টহল ও নজরদারি জোরদার না হলে এমন ঘটনা আরও বাড়তে পারে। এতে করে জীবিকার তাগিদে নদীতে নামা জেলেদের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে।

প্রশাসনের নজরদারি
টেকনাফ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন এবং বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে জেলেদের উদ্ধারের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে, সীমান্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নাফ নদীতে জেলে অপহরণের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়, যা সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















