টানা দুই বছর লভ্যাংশ ঘোষণা না করায় দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত তিনটি ব্যাংককে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। এতে করে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর প্রতি আস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কোন তিন ব্যাংক নামল ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে
এই সিদ্ধান্তের ফলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি এবং এসবিএসি ব্যাংক পিএলসি তাদের আগের অবস্থান হারিয়েছে। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক ‘এ’ ক্যাটাগরি থেকে এবং অন্য দুই ব্যাংক ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে সরাসরি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে এসেছে। সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক নির্দেশনার আওতায় এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

লভ্যাংশ না দেওয়ার প্রভাব
২০২৫ সালের জন্য তিনটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদই কোনো লভ্যাংশ না দেওয়ার সুপারিশ করেছে। টানা দুই বছর লভ্যাংশ না দেওয়াকে বিনিয়োগকারীদের জন্য নেতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হয়। এর ফলে শেয়ারগুলোর প্রতি আগ্রহ কমে যায় এবং বাজারে তাদের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে।
ঋণ সুবিধায় নিষেধাজ্ঞা
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে এই তিন ব্যাংকের সিকিউরিটিজের বিপরীতে কোনো ঋণ সুবিধা দেওয়া যাবে না। স্টক ব্রোকার ও মার্চেন্ট ব্যাংকারদের এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে এই শেয়ারগুলোতে বিনিয়োগ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
আর্থিক সূচকে মিশ্র চিত্র
ইসলামী ব্যাংক ২০২৫ সালে শেয়ারপ্রতি আয়, সম্পদ মূল্য ও নগদ প্রবাহে কিছু উন্নতি দেখালেও লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছে।
স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ক্ষেত্রে আয় সামান্য কমেছে, তবে নগদ প্রবাহ বেড়েছে।

অন্যদিকে এসবিএসি ব্যাংকের আয় প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে এসেছে, যা ব্যাংকটির দুর্বল আর্থিক অবস্থার ইঙ্গিত দেয়।
লেনদেনে পরিবর্তন
এই তিন ব্যাংকের শেয়ারের লেনদেনে মূল্যসীমা তুলে নেওয়া হলেও নির্ধারিত ফ্লোর প্রাইস বহাল রয়েছে। ফলে দামের ওঠানামা কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকলেও বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
‘জেড’ ক্যাটাগরির অর্থ কী
শেয়ারবাজারে ‘জেড’ ক্যাটাগরি সাধারণত সেইসব কোম্পানিকে বোঝায়, যারা নির্ধারিত সময়ে বার্ষিক সাধারণ সভা করতে ব্যর্থ হয়েছে, লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি, দীর্ঘ সময় কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে অথবা আর্থিক ক্ষতি মূলধন ছাড়িয়ে গেছে। এই ক্যাটাগরিতে পড়া কোম্পানিগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এই প্রেক্ষাপটে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সতর্ক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ভালোভাবে বিশ্লেষণ করা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















