ব্রিটেনে প্রো-প্যালেস্টাইন মিছিল ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইঙ্গিত দিয়েছেন, কিছু মিছিল পরিস্থিতি অনুযায়ী নিষিদ্ধ করা হতে পারে, বিশেষ করে যেখানে সহিংসতা উসকে দেওয়ার মতো স্লোগান দেওয়া হয়।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে তিনি দৃঢ়ভাবে আছেন। তবে এমন কিছু স্লোগান রয়েছে, যা সীমা অতিক্রম করে এবং সমাজে ভয় ও বিভাজন তৈরি করে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
উত্তেজনার পেছনে সাম্প্রতিক হামলা
এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক কিছু সহিংস ঘটনা। উত্তর লন্ডনের গোল্ডার্স গ্রিন এলাকায় ছুরিকাঘাতে দুই ব্যক্তি আহত হওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ওই এলাকা মূলত ইহুদি সম্প্রদায়ের বসবাসের জন্য পরিচিত। এই ঘটনার পর একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়েছে, যেখানে তাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।

এই ঘটনার পর স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রী ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে কিছু বাসিন্দা তার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, সরকার যথেষ্ট নিরাপত্তা দিতে পারছে না এবং চলমান মিছিলগুলো পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে।
মিছিল ও স্লোগান নিয়ে বিতর্ক
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার পর হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে ব্রিটেনের বিভিন্ন শহরে প্রো-প্যালেস্টাইন মিছিল শুরু হয়। এসব মিছিলে কিছু স্লোগান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে “ইন্তিফাদা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দাও” ধরনের আহ্বান।
ইন্তিফাদা বলতে ফিলিস্তিনিদের ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনকে বোঝানো হয়, যা অতীতে সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ছিল। তাই এই ধরনের স্লোগানকে অনেকেই উসকানিমূলক এবং বিপজ্জনক হিসেবে দেখছেন।
সরকারের সম্ভাব্য পদক্ষেপ
প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, মিছিলের ভাষা ও আচরণ আরও কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা চলছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কিছু ক্ষেত্রে মিছিল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার প্রয়োজনও হতে পারে।

গত বছরের ডিসেম্বরেই লন্ডন ও ম্যানচেস্টারে পুলিশ ঘোষণা দিয়েছিল, কেউ যদি “ইন্তিফাদা ছড়িয়ে দাও” ধরনের স্লোগান দেয়, তাহলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। এই অবস্থান এখন আরও জোরালো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা সতর্কতা বৃদ্ধি
সাম্প্রতিক হামলা ও বাড়তে থাকা উগ্রবাদী হুমকির কারণে ব্রিটেনের নিরাপত্তা সতর্কতা স্তর বাড়িয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, পরিস্থিতি নিয়ে সরকার কতটা উদ্বিগ্ন।
সব মিলিয়ে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও জননিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা এখন ব্রিটিশ সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ইস্যুতে আগামী দিনগুলোতে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে সরকার।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















