০৫:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬
আমেরিকার নৌ-শক্তি ধীরে ধীরে দুর্বল হচ্ছে ট্রাম্পের ‘স্ট্রেইট অব ট্রাম্প’ পোস্টে নতুন বিতর্ক, হরমুজ প্রণালি ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা ধারের দায়ে কলম ধরেছিলেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, জন্ম নিল অমর ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’ ইরান যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে চীনের তাগিদ, হরমুজ খুলতে জরুরি চাপ প্রো-প্যালেস্টাইন মিছিল নিয়ে কড়া বার্তা: প্রয়োজন হলে নিষিদ্ধ করার ইঙ্গিত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের সামনে কঠিন দুই বছর: প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য, চাকরি ও খাদ্যনিরাপত্তায় বড় চাপ ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ১৬ মার্কিন ঘাটি ধ্বংস মাকালু জয় করে ইতিহাস: প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে পাঁচ ‘আট হাজারি’ শৃঙ্গ স্পর্শ বাবর আলীর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জোরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে আমেরিকার অর্থনীতি স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্যের অদৃশ্য দেয়াল: আবাসিক বিভাজনে পিছিয়ে পড়ছে প্রান্তিক মানুষ

স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্যের অদৃশ্য দেয়াল: আবাসিক বিভাজনে পিছিয়ে পড়ছে প্রান্তিক মানুষ

ভারতের বহু শহর ও গ্রামে বসবাসের জায়গা শুধু একটি ঠিকানা নয়, বরং এটি নির্ধারণ করে মানুষ কতটা সহজে স্বাস্থ্যসেবা পাবে। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যেসব এলাকায় দলিত ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ বেশি বাস করেন, সেসব এলাকায় মৌলিক সুবিধা যেমন স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, পানি, স্যানিটেশন ও বিদ্যুৎ—সবকিছুরই ঘাটতি বেশি। এর ফলে সেখানে বসবাসকারী মানুষের রোগের ঝুঁকি বাড়ে, চিকিৎসা পেতে দেরি হয় এবং স্বাস্থ্যগত ফলাফলও খারাপ হয়।

অদৃশ্য বিভাজনের বাস্তবতা

শহরের মধ্যেই এমন অনেক এলাকা আছে, যেখানে সামাজিক পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষ আলাদা হয়ে থাকে। এই বিভাজন চোখে দেখা যায় না, কিন্তু এর প্রভাব গভীর। গবেষণায় দেখা গেছে, শহুরে এলাকায় মুসলিম ও দলিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে বসবাসের বিচ্ছিন্নতার হার বেশ উচ্চ। এর অর্থ, পুরোপুরি সমানভাবে মিশে থাকতে হলে তাদের বড় অংশকে বাসস্থান বদলাতে হবে।

এই বিভাজনের কারণে অনেক সময় প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এমন এলাকায় বাস করে, যেখানে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোই কঠিন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো সাধারণত এমন জায়গায় স্থাপন করা হয় যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো, কিন্তু এসব জায়গা প্রায়ই প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে প্রান্তিক মানুষের জন্য সেই সেবায় প্রবেশ করাই কঠিন হয়ে পড়ে।

How residential segregation shapes public health access in India - The Hindu

চিকিৎসার পথে সামাজিক বাধা

গ্রামাঞ্চলে এই বৈষম্য আরও স্পষ্ট। অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্কুল বা শিশু সেবা কেন্দ্র মূল গ্রামের ভেতরে থাকে, কিন্তু দলিত বা প্রান্তিক বসতিগুলো থাকে আলাদা জায়গায়। ফলে তাদের সেখানে যেতে হয় সামাজিক বাধা পেরিয়ে। অনেক নারী বা পরিবার অপমানের ভয়ে সেই সেবা নিতে যেতে চান না।

কিছু এলাকায় আবার নির্দিষ্ট সময় ছাড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে পারে না—যা জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। এমন বাস্তবতায় অসুস্থতা থাকলেও অনেকেই চিকিৎসা নিতে দেরি করেন বা পুরোপুরি বাদ দেন।

শহরেও একই চিত্র

শুধু গ্রাম নয়, শহরের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও একই ধরনের সমস্যা দেখা যায়। এসব এলাকায় অবকাঠামো দুর্বল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র কম এবং সেগুলোও অনেক সময় জনবল সংকটে ভোগে। ফলে মানুষকে দূরের ভালো এলাকায় যেতে হয় চিকিৎসার জন্য, যা খরচ বাড়ায় এবং সময়ও নষ্ট করে।

এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের মধ্যেও অনেক সময় পূর্বধারণা কাজ করে, যা চিকিৎসার মানে প্রভাব ফেলে। এর ফলে প্রান্তিক মানুষ আরও পিছিয়ে পড়ে।

Residential Segregation and Unequal Access to Local Public Services in India:  Evidence from 1.5m Neighborhoods | Center For Global Development

নীতিগত ঘাটতি ও করণীয়

দীর্ঘদিন ধরে নানা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু থাকলেও আবাসিক বিভাজনকে স্বাস্থ্য বৈষম্যের একটি বড় কারণ হিসেবে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বেশিরভাগ নীতি ধরে নেয়, একটি এলাকা বা জেলার মধ্যে থাকা সব মানুষ সমানভাবে সেবা পাবে। বাস্তবে তা হয় না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনায় এই বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু অবকাঠামো তৈরি করলেই হবে না, বরং নিশ্চিত করতে হবে যে সব শ্রেণির মানুষ সেই সেবা গ্রহণ করতে পারছে।

সমাধানের পথে ভাবনা

এই বৈষম্য দূর করতে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা এমনভাবে বিতরণ করতে হবে, যাতে প্রান্তিক এলাকাগুলো সরাসরি সুবিধা পায়। এতে করে স্বাস্থ্যসেবার অদৃশ্য দেয়াল ভেঙে সমতা নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

আমেরিকার নৌ-শক্তি ধীরে ধীরে দুর্বল হচ্ছে

স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্যের অদৃশ্য দেয়াল: আবাসিক বিভাজনে পিছিয়ে পড়ছে প্রান্তিক মানুষ

০৩:২৮:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

ভারতের বহু শহর ও গ্রামে বসবাসের জায়গা শুধু একটি ঠিকানা নয়, বরং এটি নির্ধারণ করে মানুষ কতটা সহজে স্বাস্থ্যসেবা পাবে। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যেসব এলাকায় দলিত ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ বেশি বাস করেন, সেসব এলাকায় মৌলিক সুবিধা যেমন স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, পানি, স্যানিটেশন ও বিদ্যুৎ—সবকিছুরই ঘাটতি বেশি। এর ফলে সেখানে বসবাসকারী মানুষের রোগের ঝুঁকি বাড়ে, চিকিৎসা পেতে দেরি হয় এবং স্বাস্থ্যগত ফলাফলও খারাপ হয়।

অদৃশ্য বিভাজনের বাস্তবতা

শহরের মধ্যেই এমন অনেক এলাকা আছে, যেখানে সামাজিক পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষ আলাদা হয়ে থাকে। এই বিভাজন চোখে দেখা যায় না, কিন্তু এর প্রভাব গভীর। গবেষণায় দেখা গেছে, শহুরে এলাকায় মুসলিম ও দলিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে বসবাসের বিচ্ছিন্নতার হার বেশ উচ্চ। এর অর্থ, পুরোপুরি সমানভাবে মিশে থাকতে হলে তাদের বড় অংশকে বাসস্থান বদলাতে হবে।

এই বিভাজনের কারণে অনেক সময় প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এমন এলাকায় বাস করে, যেখানে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোই কঠিন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো সাধারণত এমন জায়গায় স্থাপন করা হয় যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো, কিন্তু এসব জায়গা প্রায়ই প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে প্রান্তিক মানুষের জন্য সেই সেবায় প্রবেশ করাই কঠিন হয়ে পড়ে।

How residential segregation shapes public health access in India - The Hindu

চিকিৎসার পথে সামাজিক বাধা

গ্রামাঞ্চলে এই বৈষম্য আরও স্পষ্ট। অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্কুল বা শিশু সেবা কেন্দ্র মূল গ্রামের ভেতরে থাকে, কিন্তু দলিত বা প্রান্তিক বসতিগুলো থাকে আলাদা জায়গায়। ফলে তাদের সেখানে যেতে হয় সামাজিক বাধা পেরিয়ে। অনেক নারী বা পরিবার অপমানের ভয়ে সেই সেবা নিতে যেতে চান না।

কিছু এলাকায় আবার নির্দিষ্ট সময় ছাড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে পারে না—যা জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। এমন বাস্তবতায় অসুস্থতা থাকলেও অনেকেই চিকিৎসা নিতে দেরি করেন বা পুরোপুরি বাদ দেন।

শহরেও একই চিত্র

শুধু গ্রাম নয়, শহরের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও একই ধরনের সমস্যা দেখা যায়। এসব এলাকায় অবকাঠামো দুর্বল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র কম এবং সেগুলোও অনেক সময় জনবল সংকটে ভোগে। ফলে মানুষকে দূরের ভালো এলাকায় যেতে হয় চিকিৎসার জন্য, যা খরচ বাড়ায় এবং সময়ও নষ্ট করে।

এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের মধ্যেও অনেক সময় পূর্বধারণা কাজ করে, যা চিকিৎসার মানে প্রভাব ফেলে। এর ফলে প্রান্তিক মানুষ আরও পিছিয়ে পড়ে।

Residential Segregation and Unequal Access to Local Public Services in India:  Evidence from 1.5m Neighborhoods | Center For Global Development

নীতিগত ঘাটতি ও করণীয়

দীর্ঘদিন ধরে নানা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু থাকলেও আবাসিক বিভাজনকে স্বাস্থ্য বৈষম্যের একটি বড় কারণ হিসেবে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বেশিরভাগ নীতি ধরে নেয়, একটি এলাকা বা জেলার মধ্যে থাকা সব মানুষ সমানভাবে সেবা পাবে। বাস্তবে তা হয় না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনায় এই বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু অবকাঠামো তৈরি করলেই হবে না, বরং নিশ্চিত করতে হবে যে সব শ্রেণির মানুষ সেই সেবা গ্রহণ করতে পারছে।

সমাধানের পথে ভাবনা

এই বৈষম্য দূর করতে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা এমনভাবে বিতরণ করতে হবে, যাতে প্রান্তিক এলাকাগুলো সরাসরি সুবিধা পায়। এতে করে স্বাস্থ্যসেবার অদৃশ্য দেয়াল ভেঙে সমতা নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে।