০৭:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬
নীরব মানুষের গভীর গল্পে ফিরে এলেন এলিজাবেথ স্ট্রাউট রিচার্ড গ্যাডের নতুন সিরিজ ‘হাফ ম্যান’: অন্ধকার, সম্পর্ক আর মানসিক দ্বন্দ্বের নির্মম গল্প শিল্প, অহংকার আর মানবিকতার মেলবন্ধন: বছরের অন্যতম সেরা ছবি ‘দ্য ক্রিস্টোফার্স’ কিশোরীর শক্তি, ভেতর থেকে বিদ্রোহ আর ‘দ্য টেস্টামেন্টস’: এক লেখকের চোখে ক্ষমতা ও প্রতিরোধের গল্প স্প্যানিশ পপের বিশ্বজয়: রোসালিয়া থেকে ব্যাড বানি—কীভাবে বদলে গেল গানের মানচিত্র তিন দিন পর আরিয়াল খাঁ নদীতে মিলল নিখোঁজ জেলের মরদেহ পাঁচবারের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা মোসলেম উদ্দিন আর নেই, আজ জানাজা শেষে দাফন নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় মাত্র ৩% সাজা, ৭০% মামলায় খালাস—গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র এশিয়ার জেন জি প্রজম্ম কি ভবিষ্যত গড়ার আগেই হারিয়ে যাবে? একসঙ্গে বেশি সময় কাটানোই কি দাম্পত্যের জন্য বিপদ? নীরবে ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে ‘অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা’

ডনরো নীতির ছায়ায় কিউবা: অনিশ্চয়তায় দিন গুনছে দ্বীপবাসী

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ঘোষিত ‘ডনরো নীতি’ ঘিরে তীব্র উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে কিউবা। লাতিন আমেরিকার এই দ্বীপ রাষ্ট্রের মানুষ এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে অপেক্ষা করছে—পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে জল্পনা-উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে।

নতুন নীতির পটভূমি
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পরই ট্রাম্প ‘ডনরো নীতি’ সামনে আনেন। এটি মূলত মার্কিন প্রভাব বলয়কে আরও শক্তিশালী করার একটি ধারণা, যার শিকড় ইতিহাসের পুরোনো মনরো নীতিতে। তবে নতুন নাম ও ভাষায় এটিকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে জানায়, পশ্চিম গোলার্ধ তাদের প্রভাবাধীন অঞ্চল, আর কিউবাকে নিয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করা হয়।

জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত কিউবা
মাদুরো সরকারের পতনের পর কিউবার জন্য বড় ধাক্কা আসে জ্বালানি সরবরাহে। দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলার ওপর নির্ভরশীল কিউবা হঠাৎ করেই সেই সহায়তা হারায়। পাশাপাশি অন্যান্য দেশ থেকেও জ্বালানি প্রবাহ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পুরো দেশজুড়ে তীব্র সংকট দেখা দেয়।

বিদ্যুৎ ঘাটতি, কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং স্বাস্থ্যসেবায় বিপর্যয়—সব মিলিয়ে দৈনন্দিন জীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এমনকি প্রতিরোধযোগ্য রোগেও মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে, যা সংকটের গভীরতাকে আরও স্পষ্ট করে।

দৈনন্দিন জীবনে সংকটের ছাপ
দেশজুড়ে এই সংকট সাধারণ মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। জ্বালানির অভাবে বর্জ্য অপসারণ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, শ্রমজীবী মানুষ কাজের অভাবে বিপাকে পড়ছে, আর খাদ্যের ঘাটতিতে ভুগছে সাধারণ পরিবারগুলো। কোথাও কোথাও এখনো ঘোড়ার মতো পুরোনো পরিবহন ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

Saint Kitts and Nevis joins the international clamor for the removal of the  US blockade of Cuba | CUBADIPLOMATICA

তবুও এই কঠিন বাস্তবতার মাঝেও কিউবার সমাজে পুরোনো বিপ্লবী চেতনার প্রতীকগুলো এখনো দৃশ্যমান। ফিদেল কাস্ত্রো বা চে গুয়েভারার মতো নেতাদের স্মৃতি মানুষের মধ্যে এক ধরনের আত্মপরিচয় ও গর্ব তৈরি করে রেখেছে, যদিও ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্বিধা ও বিতর্ক
কিউবার ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে বিশ্লেষকদের মধ্যে। কেউ বলছেন, নতুন এই নীতি এখনো অস্পষ্ট এবং বিস্তারিত পরিকল্পনা ছাড়া ঘোষণা করা হয়েছে। আবার কেউ মনে করেন, কিউবার সরকার দীর্ঘমেয়াদে প্রতিরোধের পথেই হাঁটতে চায়।

অন্যদিকে, কিছু বিশ্লেষক ধারণা করছেন, এই অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পরিবর্তনের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, কিউবার সবচেয়ে বড় প্রয়োজন বাইরের হস্তক্ষেপ নয়, বরং নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ও কাঠামো শক্তিশালী করে পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি করা।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে? আর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতেই অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছে কিউবার মানুষ।

কিউবাকে ঘিরে নতুন এই বাস্তবতা শুধু একটি দেশের সংকট নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতি ও ক্ষমতার ভারসাম্যের নতুন ইঙ্গিতও বহন করছে।

কিউবার সংকট ও ডনরো নীতির প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন

জনপ্রিয় সংবাদ

নীরব মানুষের গভীর গল্পে ফিরে এলেন এলিজাবেথ স্ট্রাউট

ডনরো নীতির ছায়ায় কিউবা: অনিশ্চয়তায় দিন গুনছে দ্বীপবাসী

০৫:৩০:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ঘোষিত ‘ডনরো নীতি’ ঘিরে তীব্র উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে কিউবা। লাতিন আমেরিকার এই দ্বীপ রাষ্ট্রের মানুষ এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে অপেক্ষা করছে—পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে জল্পনা-উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে।

নতুন নীতির পটভূমি
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পরই ট্রাম্প ‘ডনরো নীতি’ সামনে আনেন। এটি মূলত মার্কিন প্রভাব বলয়কে আরও শক্তিশালী করার একটি ধারণা, যার শিকড় ইতিহাসের পুরোনো মনরো নীতিতে। তবে নতুন নাম ও ভাষায় এটিকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে জানায়, পশ্চিম গোলার্ধ তাদের প্রভাবাধীন অঞ্চল, আর কিউবাকে নিয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করা হয়।

জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত কিউবা
মাদুরো সরকারের পতনের পর কিউবার জন্য বড় ধাক্কা আসে জ্বালানি সরবরাহে। দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলার ওপর নির্ভরশীল কিউবা হঠাৎ করেই সেই সহায়তা হারায়। পাশাপাশি অন্যান্য দেশ থেকেও জ্বালানি প্রবাহ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পুরো দেশজুড়ে তীব্র সংকট দেখা দেয়।

বিদ্যুৎ ঘাটতি, কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং স্বাস্থ্যসেবায় বিপর্যয়—সব মিলিয়ে দৈনন্দিন জীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এমনকি প্রতিরোধযোগ্য রোগেও মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে, যা সংকটের গভীরতাকে আরও স্পষ্ট করে।

দৈনন্দিন জীবনে সংকটের ছাপ
দেশজুড়ে এই সংকট সাধারণ মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। জ্বালানির অভাবে বর্জ্য অপসারণ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, শ্রমজীবী মানুষ কাজের অভাবে বিপাকে পড়ছে, আর খাদ্যের ঘাটতিতে ভুগছে সাধারণ পরিবারগুলো। কোথাও কোথাও এখনো ঘোড়ার মতো পুরোনো পরিবহন ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

Saint Kitts and Nevis joins the international clamor for the removal of the  US blockade of Cuba | CUBADIPLOMATICA

তবুও এই কঠিন বাস্তবতার মাঝেও কিউবার সমাজে পুরোনো বিপ্লবী চেতনার প্রতীকগুলো এখনো দৃশ্যমান। ফিদেল কাস্ত্রো বা চে গুয়েভারার মতো নেতাদের স্মৃতি মানুষের মধ্যে এক ধরনের আত্মপরিচয় ও গর্ব তৈরি করে রেখেছে, যদিও ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্বিধা ও বিতর্ক
কিউবার ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে বিশ্লেষকদের মধ্যে। কেউ বলছেন, নতুন এই নীতি এখনো অস্পষ্ট এবং বিস্তারিত পরিকল্পনা ছাড়া ঘোষণা করা হয়েছে। আবার কেউ মনে করেন, কিউবার সরকার দীর্ঘমেয়াদে প্রতিরোধের পথেই হাঁটতে চায়।

অন্যদিকে, কিছু বিশ্লেষক ধারণা করছেন, এই অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পরিবর্তনের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, কিউবার সবচেয়ে বড় প্রয়োজন বাইরের হস্তক্ষেপ নয়, বরং নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ও কাঠামো শক্তিশালী করে পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি করা।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে? আর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতেই অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছে কিউবার মানুষ।

কিউবাকে ঘিরে নতুন এই বাস্তবতা শুধু একটি দেশের সংকট নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতি ও ক্ষমতার ভারসাম্যের নতুন ইঙ্গিতও বহন করছে।

কিউবার সংকট ও ডনরো নীতির প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন