০১:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
প্রদেশ নয়, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণই পাকিস্তানের প্রকৃত সংস্কার টাইটানিকের শতাধিক নিদর্শন নিলাম বন্ধ করলেন মার্কিন বিচারক আমদানি নীতিতে বড় পরিবর্তন, এলসি ছাড়াই সীমাহীন মূল্যের চুক্তিতে পণ্য আমদানির সুযোগ মহেশখালীর সাগরে নিউজিল্যান্ডের পরিবারের নৌকাডুবি, নিখোঁজ কিশোর চীনের জে-১০ সিই কিনছে বাংলাদেশ ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ৯০৭; মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৮ বুধবার বাংলাদেশে পালিত হবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী, দেশজুড়ে নানা আয়োজন ঢাকা-যশোর রুটে আবার ইউএস-বাংলার ফ্লাইট, ৯ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিদিন দুই ট্রিপ মেঘনা ব্যাংকের ৪০০ কোটি টাকার সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড অনুমোদন, মূলধন শক্তিশালী হবে প্রিন্স হ্যারি–মেগানের নতুন ব্রিটেনযাত্রা, পেছনে পড়ে থাকবে আর্চির প্রিয় ‘মুরগির বাড়ি’

নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় মাত্র ৩% সাজা, ৭০% মামলায় খালাস—গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের মামলাগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক বাস্তবতা। গবেষণা বলছে, এসব মামলায় সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ, আর প্রায় ৭০ শতাংশ মামলায় অভিযুক্তরা খালাস পাচ্ছেন।

রাজধানীর মহাখালীতে আয়োজিত এক পরামর্শসভায় এই গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। গবেষণাটি পরিচালনা করে ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনগত সুরক্ষা কর্মসূচি।

বিচার ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধতা
অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভগুলোর মধ্যে বিচার বিভাগ সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত। জাতীয় বাজেটে বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ তুলনামূলকভাবে কম, যা বিচারক নিয়োগ, অবকাঠামো ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা তৈরি করছে। তিনি জানান, মামলার সংখ্যা কমানোর উদ্যোগ থাকলেও বাস্তবে মামলার জট বাড়ছে, যার পেছনে দীর্ঘসূত্রতা ও কাঠামোগত দুর্বলতা দায়ী।

গবেষণায় উঠে আসা বাস্তবতা
গবেষণাটি দেশের ৩২টি জেলার ৪,০৪০টি নিষ্পত্তিকৃত মামলার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়েছে। এতে দেখা যায়, আইনে ১৮০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির কথা থাকলেও বাস্তবে গড়ে সময় লাগে প্রায় ১,৩৭০ দিন বা প্রায় ৩.৭ বছর। প্রতিটি মামলায় গড়ে ২২ বার শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

এছাড়া ১৩ শতাংশ মামলায় আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে মামলা চলা, সাক্ষীর অনুপস্থিতি, তদন্তে বিলম্ব এবং প্রমাণের দুর্বলতা বিচার বিলম্বের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

সামাজিক বাস্তবতা ও প্রতিবন্ধকতা
বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মাজুরুল মহসেন বলেন, অনেকেই মনে করেন কম সাজার হার মানেই মামলা মিথ্যা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। অনেক ভুক্তভোগী সামাজিক চাপ, মানসিক ভয় এবং কলঙ্কের কারণে আদালত পর্যন্ত আসতেই পারেন না। ফলে অনেক মামলা শুরু হওয়ার আগেই থেমে যায় বা দুর্বল হয়ে পড়ে।

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, বিচার ব্যবস্থা কার্যকর না হলে মানুষের আস্থা কমে যায়। শুধু বাজেট বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না; প্রয়োজন জবাবদিহিতা, সুশাসন এবং সমন্বিত উদ্যোগ। তিনি ‘এক সরকার’ ধারণার ওপর জোর দিয়ে বলেন, পুলিশ, চিকিৎসক এবং আইন মন্ত্রণালয়কে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা
গবেষণায় বেশ কিছু সুপারিশও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মামলার নির্ধারিত সময়সীমা কঠোরভাবে অনুসরণ, অপ্রয়োজনীয় মুলতবি কমানো, ফরেনসিক ও মেডিক্যাল রিপোর্ট দ্রুত নিশ্চিত করা, তদন্ত কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সাক্ষী সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

এছাড়া ভুক্তভোগী-বান্ধব বিচার ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং অধিক চাপযুক্ত জেলাগুলোতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।

আইন থাকলেও বাস্তবায়ন প্রশ্নে
নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইন ২০০০ দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রণীত হলেও বাস্তবায়নে এখনও বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সাম্প্রতিক সংশোধনে সময়সীমা কমিয়ে ৯০ দিন করা হলেও কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা ছাড়া বাস্তব পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিচার ব্যবস্থায় আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে কেবল আইন নয়, তার কার্যকর প্রয়োগই সবচেয়ে জরুরি।

নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার সাজার হার

নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ, গবেষণায় উঠে এসেছে বিচার ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রদেশ নয়, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণই পাকিস্তানের প্রকৃত সংস্কার

নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় মাত্র ৩% সাজা, ৭০% মামলায় খালাস—গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র

০৬:৩২:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের মামলাগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক বাস্তবতা। গবেষণা বলছে, এসব মামলায় সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ, আর প্রায় ৭০ শতাংশ মামলায় অভিযুক্তরা খালাস পাচ্ছেন।

রাজধানীর মহাখালীতে আয়োজিত এক পরামর্শসভায় এই গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। গবেষণাটি পরিচালনা করে ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনগত সুরক্ষা কর্মসূচি।

বিচার ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধতা
অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভগুলোর মধ্যে বিচার বিভাগ সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত। জাতীয় বাজেটে বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ তুলনামূলকভাবে কম, যা বিচারক নিয়োগ, অবকাঠামো ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা তৈরি করছে। তিনি জানান, মামলার সংখ্যা কমানোর উদ্যোগ থাকলেও বাস্তবে মামলার জট বাড়ছে, যার পেছনে দীর্ঘসূত্রতা ও কাঠামোগত দুর্বলতা দায়ী।

গবেষণায় উঠে আসা বাস্তবতা
গবেষণাটি দেশের ৩২টি জেলার ৪,০৪০টি নিষ্পত্তিকৃত মামলার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়েছে। এতে দেখা যায়, আইনে ১৮০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির কথা থাকলেও বাস্তবে গড়ে সময় লাগে প্রায় ১,৩৭০ দিন বা প্রায় ৩.৭ বছর। প্রতিটি মামলায় গড়ে ২২ বার শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

এছাড়া ১৩ শতাংশ মামলায় আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে মামলা চলা, সাক্ষীর অনুপস্থিতি, তদন্তে বিলম্ব এবং প্রমাণের দুর্বলতা বিচার বিলম্বের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

সামাজিক বাস্তবতা ও প্রতিবন্ধকতা
বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মাজুরুল মহসেন বলেন, অনেকেই মনে করেন কম সাজার হার মানেই মামলা মিথ্যা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। অনেক ভুক্তভোগী সামাজিক চাপ, মানসিক ভয় এবং কলঙ্কের কারণে আদালত পর্যন্ত আসতেই পারেন না। ফলে অনেক মামলা শুরু হওয়ার আগেই থেমে যায় বা দুর্বল হয়ে পড়ে।

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, বিচার ব্যবস্থা কার্যকর না হলে মানুষের আস্থা কমে যায়। শুধু বাজেট বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না; প্রয়োজন জবাবদিহিতা, সুশাসন এবং সমন্বিত উদ্যোগ। তিনি ‘এক সরকার’ ধারণার ওপর জোর দিয়ে বলেন, পুলিশ, চিকিৎসক এবং আইন মন্ত্রণালয়কে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা
গবেষণায় বেশ কিছু সুপারিশও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মামলার নির্ধারিত সময়সীমা কঠোরভাবে অনুসরণ, অপ্রয়োজনীয় মুলতবি কমানো, ফরেনসিক ও মেডিক্যাল রিপোর্ট দ্রুত নিশ্চিত করা, তদন্ত কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সাক্ষী সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

এছাড়া ভুক্তভোগী-বান্ধব বিচার ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং অধিক চাপযুক্ত জেলাগুলোতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।

আইন থাকলেও বাস্তবায়ন প্রশ্নে
নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইন ২০০০ দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রণীত হলেও বাস্তবায়নে এখনও বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সাম্প্রতিক সংশোধনে সময়সীমা কমিয়ে ৯০ দিন করা হলেও কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা ছাড়া বাস্তব পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিচার ব্যবস্থায় আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে কেবল আইন নয়, তার কার্যকর প্রয়োগই সবচেয়ে জরুরি।

নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার সাজার হার

নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ, গবেষণায় উঠে এসেছে বিচার ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা