পুলিশ বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল এনেছে সরকার। এক আদেশে ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) পদমর্যাদার ১৬ জনসহ মোট ১৭ জন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনটি রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মঞ্জুর মোরশেদ চৌধুরী স্বাক্ষর করেন।
জনস্বার্থে অবসর, তাৎক্ষণিক কার্যকর
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের সরকারি চাকরি আইনের ৪৫ ধারার আওতায় জনস্বার্থে এসব কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়েছে। এ আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিয়ম অনুযায়ী সব ধরনের অবসর সুবিধা পাবেন।
যেসব শীর্ষ কর্মকর্তা অবসরে
অবসরে পাঠানোদের মধ্যে রয়েছেন সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের ডিআইজি মোফিজ উদ্দিন আহমেদ, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ, সিআইডির ডিআইজি মো. হাবিবুর রহমান, পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (টিআর) সালেহ মোহাম্মদ তানভীর এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক মো. হারুন-অর-রশিদ।
এছাড়া ঢাকার পুলিশ স্টাফ কলেজের ডিআইজি এস এম আখতারুজ্জামান, নোয়াখালী পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মো. হায়দার আলী খান, খুলনা পিটিসির কমান্ড্যান্ট মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের ডিআইজি মো. রুহুল আমিনও এই তালিকায় রয়েছেন।
রদবদলে আরও যাদের নাম
তালিকায় আরও রয়েছেন হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি মো. রফিকুল হাসান গনি, রিভার পুলিশের ডিআইজি মো. মিজানুর রহমান, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. মাজিদ আলী এবং পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি কাজী জিয়া উদ্দিন।
এছাড়া রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি মো. গোলাম রউফ খান, রংপুর পিটিসির কমান্ড্যান্ট শেখ মোহাম্মদ রেজাউল হায়দার এবং হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি রাখফার সুলতানা খানমও অবসরে পাঠানো হয়েছেন।
একই প্রজ্ঞাপনে রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি সমমর্যাদা) ফারহাত আহমেদকেও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
নেতৃত্ব পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত
এই পদক্ষেপকে পুলিশ নেতৃত্ব পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী তাদের সব সুবিধা পাবেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 
















