যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম ধাপের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরকে স্বাগত জানিয়েছে চীন। বেইজিং বলছে, এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং যুদ্ধবিরতির পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
বৃহস্পতিবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম ধাপের সমঝোতা স্বাক্ষর উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি যুদ্ধবিরতির গতি ধরে রাখতে সহায়ক হবে। চীন এ উদ্যোগকে স্বাগত জানায় এবং আশা করে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ চুক্তির চেতনাকে সম্মান করবে এবং নিজেদের অঙ্গীকার আন্তরিকভাবে বাস্তবায়ন করবে।
আলোচনাই সমস্যার সমাধান
লিন জিয়ান জোর দিয়ে বলেন, শক্তি প্রয়োগ কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। সমতার ভিত্তিতে আলোচনাই সংকট নিরসনের সঠিক পথ। তাঁর ভাষায়, দ্বিতীয় ধাপের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যেন বাস্তববাদী ও যুক্তিসংগত মনোভাব নিয়ে অংশ নেয় এবং পরস্পরের অবস্থানকে বিবেচনায় রেখে ইতিবাচক ফল অর্জনের জন্য কাজ করে।
চীনের কূটনৈতিক তৎপরতা
চীনা মুখপাত্র জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাত শুরুর পর থেকেই বেইজিং সংঘাত বন্ধ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য চার দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক দেশগুলোকে পারস্পরিক সুসম্পর্ক, উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি যৌথ ভবিষ্যৎ নির্মাণের আহ্বান জানিয়েছেন।
লিনের তথ্য অনুযায়ী, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই গত সময়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ৩০টিরও বেশি ফোনালাপ ও বৈঠক করেছেন। এসব যোগাযোগের মাধ্যমে সংঘাত নিরসন এবং সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
চীন-পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগ
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, উপসাগরীয় অঞ্চল ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে পাঁচ দফা একটি উদ্যোগও ঘোষণা করেছে।
বেইজিংয়ের দাবি, এসব প্রচেষ্টা আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ।
দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পক্ষে বেইজিং
লিন জিয়ান বলেন, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের চার দফা প্রস্তাবের চেতনাকে সামনে রেখে চীন ভবিষ্যতেও মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সদ্য স্বাক্ষরিত প্রথম ধাপের সমঝোতা স্মারককে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে কূটনৈতিক অগ্রগতির আশা তৈরি হয়েছে। চীনও মনে করছে, আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনা থেকে আরও ইতিবাচক ফল আসতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারককে স্বাগত জানিয়ে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে চীন; দ্বিতীয় ধাপের আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির আশা বেইজিংয়ের।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















