০৩:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
হিরোশিমার ৮টা ১৫ মিনিট: যে মুহূর্তে থমকে গিয়েছিল মানবসভ্যতা, ৮০ বছর পরও যার স্মৃতি কাঁদায় পৃথিবীকে ১৫০ বছর পরও মঞ্চ কাঁপাচ্ছে ওয়াগনারের ‘রিং’ চক্র কাজ ফেলে রাখার অভ্যাসে বড় ক্ষতি, চাইলেই বদলানো সম্ভব ট্রাম্পের কাটছাঁটে এইডসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় ধাক্কা, তবু মিলছে আশার আলো প্রাণী নিয়ে গবেষণা বন্ধের দাবি, আমেরিকায় বিরল রাজনৈতিক ঐক্য চীনা হামলা ঠেকাতে তাইওয়ানের মহড়া, প্রথমবার ধীর করা হবে মোবাইল ইন্টারনেট চীনের হামলার আশঙ্কা, রানওয়ে ধ্বংস হলেও যুদ্ধবিমান ওড়ানোর প্রস্তুতি তাইওয়ানের অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি হারালে ডলার হারাতে পারে বৈশ্বিক মুদ্রার মর্যাদা: জেপি মরগানের প্রধান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে কলম-কাগজে ফিরছে জেন জি, অফিসে জনপ্রিয় হচ্ছে খাতা-স্টিকি নোট গাজা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান নেতানিয়াহুর, হামাস নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নয়

শরীরের মাপের ফাঁদ থেকে আত্মমর্যাদার পথে: এক তরুণীর লড়াইয়ের গল্প

শৈশব থেকেই অনেক মানুষকে শুনতে হয় নিজের শরীর নিয়ে নানা মন্তব্য। কারও কাছে ওজন বেশি, কারও কাছে কম। সমাজের তৈরি সৌন্দর্যের মানদণ্ডের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে গিয়ে অনেকে এমন এক মানসিক চাপে পড়েন, যা ধীরে ধীরে তাদের আত্মবিশ্বাস, স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এক তরুণীর জীবনকাহিনি সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে।

ছোটবেলা থেকেই শরীর নিয়ে অস্বস্তি

মাত্র ছয় বছর বয়সে প্রথমবার নিজের ওজন নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য শুনতে হয় তাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরকে বদলে ফেলার চাপও বাড়তে থাকে। আত্মীয়-স্বজন, পরিচিতজন কিংবা আশপাশের মানুষের কথায় তার মনে গেঁথে যায় একটি ধারণা—সফল, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য হতে হলে তাকে অবশ্যই আরও রোগা হতে হবে।

স্কুলজীবনে পড়াশোনায় ভালো করার পাশাপাশি নিজের শরীরকে নিয়ন্ত্রণ করাও যেন তার প্রধান লক্ষ্য হয়ে ওঠে। কিন্তু যতই চেষ্টা করতেন, নিজের শরীরকে তিনি কখনও গ্রহণ করতে পারছিলেন না।

সৌন্দর্যের মানদণ্ডের সঙ্গে যুদ্ধ

কৈশোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা নির্দিষ্ট ধরনের সৌন্দর্যের ধারণা তার ওপর আরও প্রভাব ফেলে। চারপাশে যাদের সবচেয়ে বেশি প্রশংসা করা হতো, তাদের শরীরের গঠন ছিল এক বিশেষ ছাঁচে বাঁধা। সেই আদর্শের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে তিনি কঠোর ডায়েট শুরু করেন।

প্রতিদিনের খাবার কমতে কমতে একসময় এমন অবস্থায় পৌঁছায় যে তিনি শুধু সীমিত কিছু খাবার খেতেন। নিয়মিত ব্যায়াম, ক্যালরি গণনা এবং ওজন কমানোর অবিরাম চেষ্টায় তার শরীর দুর্বল হয়ে পড়তে থাকে। চুল ঝরতে শুরু করে, শারীরিক শক্তি কমে যায়, তবুও তিনি থামেননি।

How to Accept Your Body: 5 Tips | Psych Central

বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছানো

ওজন কমার সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের মানুষের প্রশংসাও বাড়তে থাকে। কিন্তু সেই প্রশংসার আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক ভয়াবহ বাস্তবতা। তার শরীর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারাচ্ছিল।

চিকিৎসকেরা পরে জানান, তিনি খাদ্যাভ্যাসজনিত গুরুতর মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। বাইরে থেকে তাকে স্বাভাবিক দেখালেও শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাচ্ছিল না। রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যায়, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে।

একদিন হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে গেলে তিনি চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন। তখনই পরিস্থিতির গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সুস্থতার পথে দীর্ঘ যাত্রা

পরিবার ও চিকিৎসকদের সহায়তায় তিনি বিশেষ চিকিৎসা কর্মসূচিতে অংশ নেন। সেখানে তিনি এমন অনেক নারীর সঙ্গে পরিচিত হন, যারা একই ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে গেছেন।

সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়া ছিল দীর্ঘ ও কঠিন। নিয়মিত খাবার খাওয়া, ভয় দূর করা এবং নিজের শরীরকে নতুনভাবে গ্রহণ করার জন্য তাকে প্রতিদিন লড়াই করতে হয়েছে। অনেক সময় কান্না, উদ্বেগ ও আত্মসংশয়ের মধ্য দিয়েই এগোতে হয়েছে।

ধীরে ধীরে তিনি উপলব্ধি করেন, শরীরকে শাস্তি দিয়ে নয়, বরং যত্ন নিয়েই সুস্থ ও পরিপূর্ণ জীবন গড়া সম্ভব।

আত্মগ্রহণের নতুন শিক্ষা

সময়ের সঙ্গে তিনি নিজের হারানো স্বাস্থ্য ফিরে পান। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যগুলোও আসে একে একে। তখন তিনি বুঝতে পারেন, মানুষের মূল্য বা সৌন্দর্য কেবল শরীরের মাপে নির্ধারিত হয় না।

তার ভাষায়, নিখুঁত হওয়ার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সুস্থ থাকা, ভালোবাসা পাওয়া এবং নিজের সঙ্গে শান্তিতে বসবাস করতে পারা। শরীরকে বদলে ফেলার অবিরাম চেষ্টার চেয়ে তাকে গ্রহণ করাই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় মুক্তি এনে দিয়েছে।

শরীর নিয়ে সামাজিক চাপ, অবাস্তব সৌন্দর্যের মানদণ্ড এবং আত্মঅস্বীকৃতির বিরুদ্ধে এই অভিজ্ঞতা আজ অনেক মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক বার্তা হয়ে উঠেছে—নিজেকে ভালোবাসা ও গ্রহণ করাই সুস্থ জীবনের প্রথম ধাপ।

জনপ্রিয় সংবাদ

হিরোশিমার ৮টা ১৫ মিনিট: যে মুহূর্তে থমকে গিয়েছিল মানবসভ্যতা, ৮০ বছর পরও যার স্মৃতি কাঁদায় পৃথিবীকে

শরীরের মাপের ফাঁদ থেকে আত্মমর্যাদার পথে: এক তরুণীর লড়াইয়ের গল্প

০৩:০০:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

শৈশব থেকেই অনেক মানুষকে শুনতে হয় নিজের শরীর নিয়ে নানা মন্তব্য। কারও কাছে ওজন বেশি, কারও কাছে কম। সমাজের তৈরি সৌন্দর্যের মানদণ্ডের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে গিয়ে অনেকে এমন এক মানসিক চাপে পড়েন, যা ধীরে ধীরে তাদের আত্মবিশ্বাস, স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এক তরুণীর জীবনকাহিনি সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে।

ছোটবেলা থেকেই শরীর নিয়ে অস্বস্তি

মাত্র ছয় বছর বয়সে প্রথমবার নিজের ওজন নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য শুনতে হয় তাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরকে বদলে ফেলার চাপও বাড়তে থাকে। আত্মীয়-স্বজন, পরিচিতজন কিংবা আশপাশের মানুষের কথায় তার মনে গেঁথে যায় একটি ধারণা—সফল, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য হতে হলে তাকে অবশ্যই আরও রোগা হতে হবে।

স্কুলজীবনে পড়াশোনায় ভালো করার পাশাপাশি নিজের শরীরকে নিয়ন্ত্রণ করাও যেন তার প্রধান লক্ষ্য হয়ে ওঠে। কিন্তু যতই চেষ্টা করতেন, নিজের শরীরকে তিনি কখনও গ্রহণ করতে পারছিলেন না।

সৌন্দর্যের মানদণ্ডের সঙ্গে যুদ্ধ

কৈশোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা নির্দিষ্ট ধরনের সৌন্দর্যের ধারণা তার ওপর আরও প্রভাব ফেলে। চারপাশে যাদের সবচেয়ে বেশি প্রশংসা করা হতো, তাদের শরীরের গঠন ছিল এক বিশেষ ছাঁচে বাঁধা। সেই আদর্শের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে তিনি কঠোর ডায়েট শুরু করেন।

প্রতিদিনের খাবার কমতে কমতে একসময় এমন অবস্থায় পৌঁছায় যে তিনি শুধু সীমিত কিছু খাবার খেতেন। নিয়মিত ব্যায়াম, ক্যালরি গণনা এবং ওজন কমানোর অবিরাম চেষ্টায় তার শরীর দুর্বল হয়ে পড়তে থাকে। চুল ঝরতে শুরু করে, শারীরিক শক্তি কমে যায়, তবুও তিনি থামেননি।

How to Accept Your Body: 5 Tips | Psych Central

বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছানো

ওজন কমার সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের মানুষের প্রশংসাও বাড়তে থাকে। কিন্তু সেই প্রশংসার আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক ভয়াবহ বাস্তবতা। তার শরীর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারাচ্ছিল।

চিকিৎসকেরা পরে জানান, তিনি খাদ্যাভ্যাসজনিত গুরুতর মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। বাইরে থেকে তাকে স্বাভাবিক দেখালেও শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাচ্ছিল না। রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যায়, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে।

একদিন হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে গেলে তিনি চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন। তখনই পরিস্থিতির গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সুস্থতার পথে দীর্ঘ যাত্রা

পরিবার ও চিকিৎসকদের সহায়তায় তিনি বিশেষ চিকিৎসা কর্মসূচিতে অংশ নেন। সেখানে তিনি এমন অনেক নারীর সঙ্গে পরিচিত হন, যারা একই ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে গেছেন।

সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়া ছিল দীর্ঘ ও কঠিন। নিয়মিত খাবার খাওয়া, ভয় দূর করা এবং নিজের শরীরকে নতুনভাবে গ্রহণ করার জন্য তাকে প্রতিদিন লড়াই করতে হয়েছে। অনেক সময় কান্না, উদ্বেগ ও আত্মসংশয়ের মধ্য দিয়েই এগোতে হয়েছে।

ধীরে ধীরে তিনি উপলব্ধি করেন, শরীরকে শাস্তি দিয়ে নয়, বরং যত্ন নিয়েই সুস্থ ও পরিপূর্ণ জীবন গড়া সম্ভব।

আত্মগ্রহণের নতুন শিক্ষা

সময়ের সঙ্গে তিনি নিজের হারানো স্বাস্থ্য ফিরে পান। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যগুলোও আসে একে একে। তখন তিনি বুঝতে পারেন, মানুষের মূল্য বা সৌন্দর্য কেবল শরীরের মাপে নির্ধারিত হয় না।

তার ভাষায়, নিখুঁত হওয়ার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সুস্থ থাকা, ভালোবাসা পাওয়া এবং নিজের সঙ্গে শান্তিতে বসবাস করতে পারা। শরীরকে বদলে ফেলার অবিরাম চেষ্টার চেয়ে তাকে গ্রহণ করাই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় মুক্তি এনে দিয়েছে।

শরীর নিয়ে সামাজিক চাপ, অবাস্তব সৌন্দর্যের মানদণ্ড এবং আত্মঅস্বীকৃতির বিরুদ্ধে এই অভিজ্ঞতা আজ অনেক মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক বার্তা হয়ে উঠেছে—নিজেকে ভালোবাসা ও গ্রহণ করাই সুস্থ জীবনের প্রথম ধাপ।