নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে অবস্থিত চশমা ও অপটিক্যাল ফ্রেম উৎপাদনকারী একটি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান হঠাৎ করেই অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে মালিকপক্ষ। এই সিদ্ধান্তে সরাসরি প্রভাব পড়েছে ৪ হাজার ৩৬১ জন শ্রমিক ও কর্মকর্তার ওপর। বিষয়টি ঘিরে শ্রমিকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ। সারাক্ষণ রিপোর্ট
বৈশ্বিক সংকটের ধাক্কা
কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের তীব্র ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্ডার কমে যাওয়ায় উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

‘লে-অফ’ ঘোষণা
কারখানার এক লিখিত নোটিশে জানানো হয়েছে, বর্তমান অবস্থায় নিয়মিত উৎপাদন সম্ভব না হওয়ায় ‘লে-অফ’ ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শ্রমিকদের কাজে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই। তবে এই বন্ধ স্থায়ী নয় বলে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে।
শ্রমিকদের পাওনা ও বোনাস
কারখানা বন্ধ থাকলেও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা আইন অনুযায়ী পরিশোধ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের বোনাস নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের নিজ নিজ হিসাবে পাঠানো হবে।
পুনরায় চালুর সম্ভাবনা

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং কাঁচামাল সরবরাহ ও অর্ডার বাড়লে আবারও কারখানাটি চালু করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও বলছে, এটি স্থায়ী বন্ধ নয়, বরং সাময়িক একটি পদক্ষেপ।
বিদেশি কর্মীর উপস্থিতি
কারখানাটিতে দেশি শ্রমিকদের পাশাপাশি বিদেশি কর্মীরাও কাজ করতেন। বিশেষ করে কারিগরি ও প্রশাসনিক কাজে প্রায় একশ’ চীনা নাগরিক নিয়োজিত ছিলেন, যা এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক সংযোগের বিষয়টিকে তুলে ধরে।
এই হঠাৎ বন্ধের সিদ্ধান্ত শুধু শ্রমিকদের জীবন-জীবিকায় প্রভাব ফেলছে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















