১০:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, দিনে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ৪৭, ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধার অভিযান বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট কাটাতে লাগবে অন্তত ২ বছর: অর্থমন্ত্রী বংশালে হেলমেটের গুদামে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট সুদ কমার মূল্য দিচ্ছেন সঞ্চয়কারীরা মালদ্বীপের সামুদ্রিক গবেষণা: সমুদ্রের মালিকানা যখন জ্ঞানের মালিকানায় রূপ নেয় বাজারকে অমান্য করে অর্থনীতি চালানো যায় না অব্যবহৃত জলাশয় বেকার তরুণদের ব্যবহারে দেওয়ার উদ্যোগ, মৎস্য খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনা নওগাঁয় লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত শিল্প-সেচ, কমছে চালকলের উৎপাদন ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৭০, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ৮০৫ রোগী

কক্সবাজারে হাম ছড়িয়ে উদ্বেগ: শিশুদের ঝুঁকি বাড়ছে, টিকাদান জোরদারের তাগিদ

দেশজুড়ে হঠাৎ করে হাম রোগের প্রকোপ বাড়তে থাকায় কক্সবাজারে চিকিৎসা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির ও আশপাশের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ দ্রুত বাড়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি চলমান টিকাদান কার্যক্রমেও সহায়তা করা হচ্ছে।

কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে ইতোমধ্যে শতাধিক সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগীর সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে বলেও জানা গেছে। একই সময়ে আশপাশের স্থানীয় জনগোষ্ঠীতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে।

সংক্রমণ দ্রুত বাড়ার কারণ

বাংলাদেশে হঠাৎ শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ - কেন, কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে -  BBC News বাংলা

চলতি বছরের শুরু থেকেই সারা দেশে হাম রোগের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। মার্চ থেকে এই বৃদ্ধি আরও তীব্র হয়ে এপ্রিল মাসে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে কক্সবাজার অঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি হওয়ায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।

শরণার্থী শিবিরগুলোর বাসস্থান অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা থাকায় রোগের জটিলতা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এতে করে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়ার মতো গুরুতর জটিলতা দেখা দিচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে।

চিকিৎসা ও আইসোলেশন ব্যবস্থা

এপ্রিল মাসেই কক্সবাজারের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কয়েকশ হাম রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, যা আগের তিন মাসের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি নতুন আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে, যা দ্রুতই পূর্ণ হয়ে গেছে। রোগীর চাপ সামলাতে সেখানে শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতালগুলোর তথ্য বলছে, অনেক রোগীকে নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে জটিলতার হার বেশি হওয়ায় চিকিৎসকদের ওপর চাপ বাড়ছে।

বাংলাদেশে হঠাৎ শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ - কেন, কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে -  BBC News বাংলা

টিকাদানের ঘাটতি বড় উদ্বেগ

হাম রোগের বিস্তারের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে টিকাদানের ঘাটতি। আক্রান্তদের বড় একটি অংশ টিকা নেয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। শুধু শরণার্থী শিবির নয়, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যেও টিকাদানের হার উদ্বেগজনকভাবে কম।

এই পরিস্থিতিতে দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে শরণার্থী শিবিরগুলোতে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যাতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

হাম রোগের ঝুঁকি ও প্রতিরোধ

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এটি প্রধানত শিশুদের আক্রান্ত করে এবং নিউমোনিয়া, অপুষ্টি এমনকি মৃত্যুর মতো জটিলতা তৈরি করতে পারে।

তবে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব নিরাপদ ও কার্যকর টিকার মাধ্যমে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তত ৯৫ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনতে পারলে এই রোগের বিস্তার ঠেকানো সম্ভব। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সেই লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তাই শুধু জরুরি ভিত্তিতে গণটিকাদান নয়, দীর্ঘমেয়াদে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। না হলে ভবিষ্যতেও এমন প্রাদুর্ভাব বারবার ফিরে আসার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

সিলেটে হামের টিকার দ্বিতীয় ডোজ থেকে বঞ্চিত হাজারো শিশু

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, দিনে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং

কক্সবাজারে হাম ছড়িয়ে উদ্বেগ: শিশুদের ঝুঁকি বাড়ছে, টিকাদান জোরদারের তাগিদ

০১:০০:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

দেশজুড়ে হঠাৎ করে হাম রোগের প্রকোপ বাড়তে থাকায় কক্সবাজারে চিকিৎসা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির ও আশপাশের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ দ্রুত বাড়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি চলমান টিকাদান কার্যক্রমেও সহায়তা করা হচ্ছে।

কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে ইতোমধ্যে শতাধিক সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগীর সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে বলেও জানা গেছে। একই সময়ে আশপাশের স্থানীয় জনগোষ্ঠীতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে।

সংক্রমণ দ্রুত বাড়ার কারণ

বাংলাদেশে হঠাৎ শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ - কেন, কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে -  BBC News বাংলা

চলতি বছরের শুরু থেকেই সারা দেশে হাম রোগের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। মার্চ থেকে এই বৃদ্ধি আরও তীব্র হয়ে এপ্রিল মাসে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে কক্সবাজার অঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি হওয়ায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।

শরণার্থী শিবিরগুলোর বাসস্থান অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা থাকায় রোগের জটিলতা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এতে করে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়ার মতো গুরুতর জটিলতা দেখা দিচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে।

চিকিৎসা ও আইসোলেশন ব্যবস্থা

এপ্রিল মাসেই কক্সবাজারের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কয়েকশ হাম রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, যা আগের তিন মাসের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি নতুন আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে, যা দ্রুতই পূর্ণ হয়ে গেছে। রোগীর চাপ সামলাতে সেখানে শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতালগুলোর তথ্য বলছে, অনেক রোগীকে নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে জটিলতার হার বেশি হওয়ায় চিকিৎসকদের ওপর চাপ বাড়ছে।

বাংলাদেশে হঠাৎ শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ - কেন, কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে -  BBC News বাংলা

টিকাদানের ঘাটতি বড় উদ্বেগ

হাম রোগের বিস্তারের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে টিকাদানের ঘাটতি। আক্রান্তদের বড় একটি অংশ টিকা নেয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। শুধু শরণার্থী শিবির নয়, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যেও টিকাদানের হার উদ্বেগজনকভাবে কম।

এই পরিস্থিতিতে দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে শরণার্থী শিবিরগুলোতে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যাতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

হাম রোগের ঝুঁকি ও প্রতিরোধ

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এটি প্রধানত শিশুদের আক্রান্ত করে এবং নিউমোনিয়া, অপুষ্টি এমনকি মৃত্যুর মতো জটিলতা তৈরি করতে পারে।

তবে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব নিরাপদ ও কার্যকর টিকার মাধ্যমে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তত ৯৫ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনতে পারলে এই রোগের বিস্তার ঠেকানো সম্ভব। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সেই লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তাই শুধু জরুরি ভিত্তিতে গণটিকাদান নয়, দীর্ঘমেয়াদে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। না হলে ভবিষ্যতেও এমন প্রাদুর্ভাব বারবার ফিরে আসার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

সিলেটে হামের টিকার দ্বিতীয় ডোজ থেকে বঞ্চিত হাজারো শিশু