০৯:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, দিনে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ৪৭, ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধার অভিযান বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট কাটাতে লাগবে অন্তত ২ বছর: অর্থমন্ত্রী বংশালে হেলমেটের গুদামে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট সুদ কমার মূল্য দিচ্ছেন সঞ্চয়কারীরা মালদ্বীপের সামুদ্রিক গবেষণা: সমুদ্রের মালিকানা যখন জ্ঞানের মালিকানায় রূপ নেয় বাজারকে অমান্য করে অর্থনীতি চালানো যায় না অব্যবহৃত জলাশয় বেকার তরুণদের ব্যবহারে দেওয়ার উদ্যোগ, মৎস্য খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনা নওগাঁয় লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত শিল্প-সেচ, কমছে চালকলের উৎপাদন ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৭০, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ৮০৫ রোগী

নওগাঁয় লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত শিল্প-সেচ, কমছে চালকলের উৎপাদন

নওগাঁয় বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতির কারণে তীব্র লোডশেডিংয়ে ব্যাহত হচ্ছে শিল্পকারখানার উৎপাদন ও কৃষিকাজ। জেলা শহরের বাইরে অনেক এলাকায় প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে চালকলসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি কমছে ব্যবসায়ীদের লাভের পরিমাণ।

নওগাঁ দেশের অন্যতম প্রধান ধান উৎপাদনকারী জেলা। এখানে সাত শতাধিক চালকল রয়েছে। এর পাশাপাশি খাদ্য ও খাদ্যপণ্য, কৃষিযন্ত্র, প্লাস্টিক এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ছোট-বড় বহু কারখানা রয়েছে। বিদ্যুতের ঘাটতিতে এসব প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ক্রমেই ব্যাহত হচ্ছে।

চালকলে উৎপাদন কমেছে ৩০ শতাংশ

নওগাঁ পৌরসভার সুলতানপুরের ঘোষ অটোমেটিক রাইস মিলে বুধবার দুপুর থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। মিলটির মালিক দ্বিজেন ঘোষ জানান, ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ থেকে ছয়বার লোডশেডিং হয়েছে এবং প্রতিবার প্রায় এক ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল।

বিদ্যুৎ না থাকায় ডিজেল দিয়ে যন্ত্রপাতি চালাতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পণ্যের চাহিদা থাকলেও ডিজেলের বাড়তি খরচ সামলাতে মিল বন্ধ রাখতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে কারখানা চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

নওগাঁ বিসিক শিল্পনগরীর নাসিম ব্রাদার্স অটোমেটিক রাইস মিলেও প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। প্রতিবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট থাকছে এক থেকে দেড় ঘণ্টা। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম জানান, এতে উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। জেনারেটর দিয়ে নিয়মিত উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হলেও ডিজেলের বাড়তি দামের কারণে তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

ব্যবসা-বাণিজ্যেও বাড়ছে চাপ

শুধু শিল্পকারখানা নয়, নওগাঁ শহরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও লোডশেডিংয়ের কারণে সমস্যায় পড়েছে। কাজীর মোড় এলাকার একটি হোটেল ও রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপক জানান, আগস্টের শুরু থেকে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভ্রাটও বেড়েছে। সকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ব্যবসা চালানোর সময় অন্তত পাঁচ থেকে ছয়বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে।

গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও কঠিন। স্থানীয়দের ভাষ্য, কোনো কোনো এলাকায় দিনে মাত্র ১৮ থেকে ১৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ধামইরহাটের ব্যবসায়ীরাও জেনারেটরের ওপর নির্ভর করছেন। আগে বিদ্যুৎ না থাকলে স্থানীয় জেনারেটর থেকে বিদ্যুৎ নিতে একজন ব্যবসায়ীকে মাসে ৫০০ টাকা দিতে হতো। এখন প্রতিদিন ছয় থেকে সাত ঘণ্টা লোডশেডিং হওয়ায় জেনারেটর মালিক সব সময় সরবরাহ দিতে পারছেন না এবং মাসিক খরচ ১ হাজার টাকা দাবি করছেন।

আমানের সেচেও সংকট

চলতি আমন মৌসুমে লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে কৃষিতেও। নিয়ামতপুরের গোবিন্দপুর গ্রামের বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের গভীর নলকূপে প্রতিদিন ছয় থেকে সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না বলে জানিয়েছেন অপারেটর ফিরোজ হোসেন।

বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় আমন ধানের জমিতে এখন সেচের প্রয়োজন বেশি। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে যে জমিতে স্বাভাবিক সময়ে দুই ঘণ্টায় সেচ দেওয়া সম্ভব, সেখানে তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় লাগছে। এভাবে চলতে থাকলে ধানের চারা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম

নওগাঁয় নেসকো, নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। জেলার সম্মিলিত বিদ্যুৎ চাহিদা পিক ও অফ-পিক সময়ে গড়ে প্রায় ৯৫ মেগাওয়াট। তবে বর্তমানে চাহিদার তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে।

নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মহাব্যবস্থাপক মাহবুব জিয়া জানান, তাদের এলাকায় দৈনিক প্রায় ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হলেও সরবরাহ হচ্ছে চাহিদার তুলনায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কম। এই ঘাটতি মানুষের স্বাভাবিক জীবন ও কর্মযজ্ঞের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও প্রভাব ফেলছে।

সরকারও স্বীকার করেছে চাহিদা-সরবরাহের ঘাটতি

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ব্যবধানের কথা স্বীকার করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আনিন্দ্য ইসলাম আমিত। মঙ্গলবার ঢাকায় এক সেমিনারে তিনি বলেন, সংকট মোকাবিলায় সরকার সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান নেই উল্লেখ করে তিনি নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে ভোগান্তির জন্য ভোক্তাদের কাছে সরকার ও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দুঃখও প্রকাশ করেন তিনি। দেশে প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও বিশেষ করে গ্যাসের মতো জ্বালানির ঘাটতির কারণে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

মেটা বর্ণনা: নওগাঁয় তীব্র লোডশেডিংয়ে চালকল ও শিল্পকারখানার উৎপাদন কমেছে, ডিজেল ব্যয় বেড়েছে। আমন ধানের সেচেও দেখা দিয়েছে বড় সংকট।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, দিনে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং

নওগাঁয় লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত শিল্প-সেচ, কমছে চালকলের উৎপাদন

০৮:৩৯:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

নওগাঁয় বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতির কারণে তীব্র লোডশেডিংয়ে ব্যাহত হচ্ছে শিল্পকারখানার উৎপাদন ও কৃষিকাজ। জেলা শহরের বাইরে অনেক এলাকায় প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে চালকলসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি কমছে ব্যবসায়ীদের লাভের পরিমাণ।

নওগাঁ দেশের অন্যতম প্রধান ধান উৎপাদনকারী জেলা। এখানে সাত শতাধিক চালকল রয়েছে। এর পাশাপাশি খাদ্য ও খাদ্যপণ্য, কৃষিযন্ত্র, প্লাস্টিক এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ছোট-বড় বহু কারখানা রয়েছে। বিদ্যুতের ঘাটতিতে এসব প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ক্রমেই ব্যাহত হচ্ছে।

চালকলে উৎপাদন কমেছে ৩০ শতাংশ

নওগাঁ পৌরসভার সুলতানপুরের ঘোষ অটোমেটিক রাইস মিলে বুধবার দুপুর থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। মিলটির মালিক দ্বিজেন ঘোষ জানান, ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ থেকে ছয়বার লোডশেডিং হয়েছে এবং প্রতিবার প্রায় এক ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল।

বিদ্যুৎ না থাকায় ডিজেল দিয়ে যন্ত্রপাতি চালাতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পণ্যের চাহিদা থাকলেও ডিজেলের বাড়তি খরচ সামলাতে মিল বন্ধ রাখতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে কারখানা চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

নওগাঁ বিসিক শিল্পনগরীর নাসিম ব্রাদার্স অটোমেটিক রাইস মিলেও প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। প্রতিবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট থাকছে এক থেকে দেড় ঘণ্টা। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম জানান, এতে উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। জেনারেটর দিয়ে নিয়মিত উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হলেও ডিজেলের বাড়তি দামের কারণে তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

ব্যবসা-বাণিজ্যেও বাড়ছে চাপ

শুধু শিল্পকারখানা নয়, নওগাঁ শহরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও লোডশেডিংয়ের কারণে সমস্যায় পড়েছে। কাজীর মোড় এলাকার একটি হোটেল ও রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপক জানান, আগস্টের শুরু থেকে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভ্রাটও বেড়েছে। সকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ব্যবসা চালানোর সময় অন্তত পাঁচ থেকে ছয়বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে।

গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও কঠিন। স্থানীয়দের ভাষ্য, কোনো কোনো এলাকায় দিনে মাত্র ১৮ থেকে ১৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ধামইরহাটের ব্যবসায়ীরাও জেনারেটরের ওপর নির্ভর করছেন। আগে বিদ্যুৎ না থাকলে স্থানীয় জেনারেটর থেকে বিদ্যুৎ নিতে একজন ব্যবসায়ীকে মাসে ৫০০ টাকা দিতে হতো। এখন প্রতিদিন ছয় থেকে সাত ঘণ্টা লোডশেডিং হওয়ায় জেনারেটর মালিক সব সময় সরবরাহ দিতে পারছেন না এবং মাসিক খরচ ১ হাজার টাকা দাবি করছেন।

আমানের সেচেও সংকট

চলতি আমন মৌসুমে লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে কৃষিতেও। নিয়ামতপুরের গোবিন্দপুর গ্রামের বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের গভীর নলকূপে প্রতিদিন ছয় থেকে সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না বলে জানিয়েছেন অপারেটর ফিরোজ হোসেন।

বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় আমন ধানের জমিতে এখন সেচের প্রয়োজন বেশি। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে যে জমিতে স্বাভাবিক সময়ে দুই ঘণ্টায় সেচ দেওয়া সম্ভব, সেখানে তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় লাগছে। এভাবে চলতে থাকলে ধানের চারা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম

নওগাঁয় নেসকো, নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। জেলার সম্মিলিত বিদ্যুৎ চাহিদা পিক ও অফ-পিক সময়ে গড়ে প্রায় ৯৫ মেগাওয়াট। তবে বর্তমানে চাহিদার তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে।

নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মহাব্যবস্থাপক মাহবুব জিয়া জানান, তাদের এলাকায় দৈনিক প্রায় ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হলেও সরবরাহ হচ্ছে চাহিদার তুলনায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কম। এই ঘাটতি মানুষের স্বাভাবিক জীবন ও কর্মযজ্ঞের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও প্রভাব ফেলছে।

সরকারও স্বীকার করেছে চাহিদা-সরবরাহের ঘাটতি

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ব্যবধানের কথা স্বীকার করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আনিন্দ্য ইসলাম আমিত। মঙ্গলবার ঢাকায় এক সেমিনারে তিনি বলেন, সংকট মোকাবিলায় সরকার সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান নেই উল্লেখ করে তিনি নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে ভোগান্তির জন্য ভোক্তাদের কাছে সরকার ও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দুঃখও প্রকাশ করেন তিনি। দেশে প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও বিশেষ করে গ্যাসের মতো জ্বালানির ঘাটতির কারণে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

মেটা বর্ণনা: নওগাঁয় তীব্র লোডশেডিংয়ে চালকল ও শিল্পকারখানার উৎপাদন কমেছে, ডিজেল ব্যয় বেড়েছে। আমন ধানের সেচেও দেখা দিয়েছে বড় সংকট।