২০২৫ অর্থবছর শেষে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ছয়টি ব্যাংক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে জুন ও জুলাই মাসজুড়ে এসব ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভা আয়োজনের সময়সূচিও নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোর ঘোষণায় দেখা যাচ্ছে, নগদ ও শেয়ার—দুই ধরনের লভ্যাংশের মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডারদের রিটার্ন দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ব্যবসা সম্প্রসারণে মূলধন শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সর্বোচ্চ সম্মিলিত লভ্যাংশে এগিয়ে পুবালী ব্যাংক
ঘোষিত লভ্যাংশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্মিলিত সুবিধা দিয়েছে পুবালী ব্যাংক। ব্যাংকটি ১৫ শতাংশ নগদ ও ১৫ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ প্রস্তাব করেছে। একই সঙ্গে আয়, সম্পদমূল্য ও নগদ প্রবাহ—সব সূচকেই উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে। ব্যাংকটির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে জুনের মাঝামাঝি সময়ে।

উত্তরা ব্যাংকের উচ্চ শেয়ার লভ্যাংশ
উত্তরা ব্যাংক নগদের তুলনায় শেয়ার লভ্যাংশে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। ব্যাংকটি ৫ শতাংশ নগদ এবং ২৫ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। গত বছরের তুলনায় ব্যাংকটির আয় ও সম্পদমূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। জুনের মাঝামাঝি সময়ে তাদের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
নগদ লভ্যাংশে শীর্ষে যমুনা ব্যাংক
সব ব্যাংকের মধ্যে সর্বোচ্চ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে যমুনা ব্যাংক। তারা ২৯ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যা শেয়ারপ্রতি উল্লেখযোগ্য রিটার্ন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আয় ও সম্পদমূল্যেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, যদিও নগদ প্রবাহে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। তাদের সাধারণ সভা জুলাইয়ের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হবে।
ব্যাংক এশিয়ার দ্বৈত পরিকল্পনা
ব্যাংক এশিয়া ৮.৫০ শতাংশ নগদ ও সমপরিমাণ শেয়ার লভ্যাংশ প্রস্তাব করেছে। পাশাপাশি অনুমোদিত মূলধন দ্বিগুণ করার একটি পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে ব্যাংকটি। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণে বড় ধরনের বিনিয়োগের প্রস্তুতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। জুনের শুরুতেই তাদের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
মূলধন শক্তিশালী করতে মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের উদ্যোগ
মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক শুধুমাত্র ১২ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে মূলধনভিত্তি আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ব্যাংকটির আয় ও সম্পদমূল্যও আগের বছরের তুলনায় উন্নত হয়েছে। জুনের শেষ দিকে তাদের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সাউথইস্ট ব্যাংকের সংযত লভ্যাংশ
সাউথইস্ট ব্যাংক তুলনামূলকভাবে কম লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। তারা ৩ শতাংশ নগদ ও ৭ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ প্রস্তাব করেছে। তবে আয় বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে, যা ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাদের সাধারণ সভা জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত হবে।
সামগ্রিক চিত্র ও বাজার প্রতিক্রিয়া
সব ব্যাংকই জানিয়েছে, শেয়ার লভ্যাংশের মাধ্যমে মূলধনভিত্তি শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসা সম্প্রসারণই তাদের প্রধান লক্ষ্য। অধিকাংশ ব্যাংকের রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে। ডিজিটাল মাধ্যমে সাধারণ সভা আয়োজনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। লভ্যাংশ ঘোষণার পরদিনই এসব ব্যাংকের শেয়ারের লেনদেনে কোনো মূল্যসীমা ছিল না, যা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















