২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ হতেই ব্যালন ডি’অর জয়ের লড়াইও নতুন মাত্রা পেয়েছে। ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত এই পুরস্কার আগামী অক্টোবরে দেওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে যাদের পারফরম্যান্স সবচেয়ে বেশি আলোচনায়, তাদের তালিকায় সবার ওপরে উঠে এসেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও মেসির রাজত্ব
অনেকেই ভেবেছিলেন, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপই ছিল মেসির শেষ মহাকাব্য। কিন্তু ৩৯ বছর বয়সেও তিনি প্রমাণ করছেন, বিশ্বমঞ্চে তার ক্ষুধা এখনও ফুরিয়ে যায়নি। গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল এবং জর্ডানের বিপক্ষে দুর্দান্ত ফ্রি-কিক—সব মিলিয়ে তিনি একের পর এক রেকর্ড গড়েছেন।
এই বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে ছয় গোল করে তিনি গোল্ডেন বুটের অন্যতম দাবিদার। নকআউট পর্বে কেপ ভার্দের বিপক্ষে জয় পেলে আর্জেন্টিনার সামনে তুলনামূলক অনুকূল পথও খুলে যেতে পারে। দলকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতাতে পারলে ব্যালন ডি’অরের পথও তার জন্য অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যাবে।
এমবাপ্পে ও ডেম্বেলের বড় চ্যালেঞ্জ
ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পেও দারুণ ছন্দে রয়েছেন। ২৭ বছর বয়সেই তিনি জাতীয় দলের হয়ে ১০০ ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা এখন ১৬, যা তাকে ইতিহাসের অন্যতম সফল গোলদাতাদের কাতারে নিয়ে গেছে।
অন্যদিকে উসমান ডেম্বেলে এবার বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল পেয়েই থেমে থাকেননি। ইরাকের বিপক্ষে গোল করার পর নরওয়ের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে তিনি আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন। টুর্নামেন্টে তার ফিনিশিং এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কার্যকরগুলোর একটি।
ব্রাজিলের ভরসা ভিনিসিয়ুস
ভিনিসিয়ুস জুনিয়র জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের সামর্থ্য নিয়ে যে প্রশ্ন ছিল, তা অনেকটাই দূর করেছেন। তিন ম্যাচে চার গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে তিনি ব্রাজিলকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে সাহায্য করেছেন। কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে তার পারফরম্যান্সে এসেছে বড় পরিবর্তন।
হ্যারি কেনের গোলের ধার
ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেনও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন। গ্রুপ পর্বে তিন গোল করে তিনি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে মৌসুমে তার গোলসংখ্যা ৭০-এ পৌঁছেছে।
আরও যারা আলোচনায়
ফ্রান্সের মাইকেল ওলিসে সৃজনশীল ফুটবলে মুগ্ধ করেছেন। স্পেনের ১৮ বছর বয়সী লামিন ইয়ামাল নিজের প্রথম বিশ্বকাপেই নজর কেড়েছেন দুর্দান্ত ড্রিবলিং ও গোল করার দক্ষতায়। নরওয়ের আর্লিং হালান্ড দুই ম্যাচেই চার গোল করে ভয়ংকর রূপ দেখিয়েছেন।
এ ছাড়া ইংল্যান্ডের ডেকলান রাইস এবং কলম্বিয়ার লুইস দিয়াজও নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে ব্যালন ডি’অরের আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছেন।
নকআউট পর্বেই আসল পরীক্ষা
গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ হলেও শেষ পর্যন্ত নকআউট পর্বই নির্ধারণ করবে কার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। দলকে কতদূর নিয়ে যেতে পারেন, বড় ম্যাচে কে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারেন—সেই হিসাবই আগামী কয়েক সপ্তাহে স্পষ্ট হবে। আপাতত সেই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন লিওনেল মেসি, তবে এমবাপ্পে, ডেম্বেলে, ভিনিসিয়ুস, কেন, হালান্ডসহ অন্য তারকারাও লড়াইয়ে সমানভাবে টিকে আছেন।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে এগিয়ে লিওনেল মেসি। এমবাপ্পে, ডেম্বেলে ও ভিনিসিয়ুসও রয়েছেন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 









