কর্মজীবী নারীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ও মাতৃত্বকালীন ভাতার ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি বিধিনিষেধ কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সরকারের প্রতি রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
সোমবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আশিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আদালত একই সঙ্গে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ৪৬(১) ও ৪৬(২) ধারা এবং বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস (বিএসআর)-এর ১৯৭(১) ও ১৯৭(১এ) বিধান, যেগুলো মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে, কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না।
রুলের বিবাদী করা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, মহিলা ও শিশুবিষয়ক সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব এবং স্বাস্থ্য সচিবকে। তাদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রিটের পটভূমি
গত ১৫ জুন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান রিট আবেদনটি দায়ের করেন। আবেদনে শ্রম আইনের মাতৃত্বকালীন সুবিধা-সংক্রান্ত ৪৬ ধারা এবং বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের ১৯৭ নম্বর বিধির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের ১৯৭ নম্বর বিধি অনুযায়ী একজন নারী তার পুরো চাকরি জীবনে সর্বোচ্চ দুইবার বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি পেতে পারেন।
অন্যদিকে, শ্রম আইনের ৪৬(১) ধারা অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠানে ছয় মাসের কম সময় কর্মরত নারী কর্মীরা মাতৃত্বকালীন ছুটির সুবিধা পান না। এছাড়া ৪৬(২) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো নারী কর্মীর দুই বা ততোধিক জীবিত সন্তান থাকলে, ছয় মাস চাকরির শর্ত পূরণ করলেও তিনি মাতৃত্বকালীন সুবিধার অধিকারী হবেন না।
বৈষম্যের অভিযোগ
আইনজীবী ইশরাত হাসানের দাবি, সন্তানের সংখ্যা বা চাকরির মেয়াদকে ভিত্তি করে মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা বৈষম্যমূলক, অযৌক্তিক এবং সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
তিনি আদালতে যুক্তি দেন, সন্তান প্রথম, দ্বিতীয় বা পরবর্তী যাই হোক না কেন, গর্ভধারণ, সন্তান প্রসব, চিকিৎসা, সুস্থ হয়ে ওঠা এবং নবজাতকের পরিচর্যার প্রয়োজনীয়তা একই থাকে। ফলে এসব বিবেচনায় মাতৃত্বকালীন সুবিধা সীমিত করার যৌক্তিকতা নেই।
আদালতে শুনানিতে রিটকারীর পক্ষে আইনজীবী ইশরাত হাসান উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নুর মুহাম্মদ আজমী এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মহিউদ্দিন মো. হানিফ।
সমান মাতৃত্ব সুরক্ষার নীতিমালা চাইলেন আদালত
আদেশের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে আইনজীবী ইশরাত হাসান জানান, হাইকোর্ট আরও জানতে চেয়েছেন, সরকারি ও বেসরকারি খাতে কর্মরত নারীদের জন্য সমান মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা ও সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারের ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না।
এছাড়া দেশের সব কর্মজীবী নারীর জন্য সমান মাতৃত্বকালীন সুবিধা নিশ্চিত করতে একটি অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা চেয়েছেন আদালত।
মাতৃত্বকালীন ছুটি ও ভাতায় বিদ্যমান সীমাবদ্ধতার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের এই রুল কর্মজীবী নারীদের অধিকারসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আইনি প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে। এখন সরকারের জবাবের পর এ বিষয়ে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে নজর থাকবে।
মাতৃত্বকালীন ছুটি ও ভাতায় বৈষম্যের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রুল; চার সপ্তাহের মধ্যে সরকারের জবাব চেয়েছেন আদালত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 









