প্রভাবশালী রক ব্যান্ড এলসেভেনের দীর্ঘদিনের বেইজ গিটারবাদক জেনিফার ফিঞ্চ আর নেই। মস্তিষ্কের ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ৫৯ বছর বয়সে তিনি মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে সংগীত অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ভক্ত, সহশিল্পী এবং ঘনিষ্ঠজনেরা তাঁর অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন।
দীর্ঘ লড়াইয়ের অবসান
চলতি মাসের শুরুতে জেনিফার ফিঞ্চ জানিয়েছিলেন, তিনি আক্রমণাত্মক ধরনের মস্তিষ্কের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন এবং চিকিৎসা নিচ্ছেন। প্রথমদিকে চিকিৎসকেরা আশা করেছিলেন, বিকিরণ চিকিৎসাতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে। তবে পরে জটিলতা বাড়ায় তাঁকে একাধিক অস্ত্রোপচার করাতে হয়। এর ফলে তাঁর শারীরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পরিচর্যার প্রয়োজন হয়।
সফর থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত
অসুস্থতার কারণে ব্যান্ডের নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফরে অংশ নিতে পারেননি জেনিফার ফিঞ্চ। তবে তিনি চেয়েছিলেন, তাঁর অনুপস্থিতিতেও ব্যান্ড যেন নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠান চালিয়ে যায়। ব্যান্ডের সদস্যরাও তাঁর সেই ইচ্ছাকে সম্মান জানান।
![]()
রক সংগীতে অনন্য অবদান
উনিশশো পঁচাশি সালে গঠিত এলসেভেন ব্যান্ডে জেনিফার ফিঞ্চ যোগ দেন উনিশশো সাতাশি সালে। তাঁর প্রাণবন্ত পরিবেশনা খুব দ্রুতই ব্যান্ডটির পরিচিতি আরও বাড়িয়ে তোলে। উনিশশো আটাশি সালে প্রকাশিত প্রথম অ্যালবাম থেকে শুরু করে নব্বইয়ের দশকে ব্যান্ডটির সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন তিনি। পরে উনিশশো ছিয়ানব্বই সালে ব্যান্ড ছাড়লেও দুই হাজার পনেরো সালে আবারও দলে ফিরে আসেন এবং পরবর্তী অ্যালবামেও অংশ নেন।
বহুমুখী সৃজনশীল জীবন
শুধু এলসেভেনেই নয়, আরও কয়েকটি সংগীত দলে কাজ করেছেন জেনিফার ফিঞ্চ। পাশাপাশি তিনি নিজস্ব সংগীত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন এবং আলোকচিত্রী হিসেবেও সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে পরিচিতি অর্জন করেন। তাঁর অসমাপ্ত কিছু সৃজনশীল প্রকল্প সংরক্ষণ ও সম্পন্ন করার উদ্যোগও চলছিল বলে জানা গেছে।
জেনিফার ফিঞ্চের মৃত্যু রক সংগীতের জন্য একটি বড় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাঁর সংগীত, মঞ্চ উপস্থিতি এবং সৃষ্টিশীল কাজ আগামী প্রজন্মের শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করবে বলেই মনে করছেন অনেকে।
জেনিফার ফিঞ্চের মৃত্যুতে রক সংগীত অঙ্গনে শোক, মস্তিষ্কের ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে ৫৯ বছর বয়সে প্রয়াত কিংবদন্তি শিল্পী।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















