মিশরের রাজধানী কায়রো থেকে মরুভূমিতে গড়ে ওঠা নতুন প্রশাসনিক রাজধানী পর্যন্ত আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চালু হয়েছে বিশাল মনোরেল প্রকল্প। তবে উচ্চ ভাড়ার কারণে প্রত্যাশিত যাত্রী পাচ্ছে না এই উচ্চাভিলাষী পরিবহন ব্যবস্থা।
চীনের পর বিশ্বের দীর্ঘতম মনোরেলের পথে কায়রো
মিশর এমন একটি মনোরেল লাইন তৈরি করছে, যা সম্পূর্ণ চালু হলে চীনের পর বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম একক রুটের মনোরেল হিসেবে পরিচিত হবে। প্রায় ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই উড়ালপথ কায়রোকে নতুন প্রশাসনিক রাজধানীর সঙ্গে যুক্ত করবে।
আফ্রিকার প্রথম মনোরেল হিসেবে পরিচিত এই প্রকল্পের ২২টি স্টেশনের মধ্যে প্রথম ধাপে ১৬টি স্টেশন চালু করা হয়েছে। মরুভূমির মধ্যে নির্মিত নতুন শহরকে কেন্দ্র করে মিশর সরকার এই প্রকল্পকে ভবিষ্যতের স্মার্ট নগর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখছে।
আকাশপথে নতুন শহরের দৃশ্য উপভোগ করছেন যাত্রীরা
মনোরেলে ভ্রমণকারীরা মাটি থেকে ১০ মিটারের বেশি উচ্চতায় চলাচল করার কারণে কায়রোর প্রচলিত রেল বা মেট্রোর তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন।
এক শিশুযাত্রী পরিবারের সঙ্গে ভ্রমণের সময় জানায়, এমন দৃশ্য সে আগে কখনো দেখেনি। প্রায় ৪৫ মিনিটের যাত্রাপথে যাত্রীরা বিলাসবহুল আবাসন, শপিং মল, মসজিদ ও মরুভূমির বিস্তৃত দৃশ্য দেখতে পাচ্ছেন।
নতুন রাজধানী প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বড় পরিকল্পনা
কায়রোর অতিরিক্ত জনসংখ্যা, যানজট ও পুরোনো অবকাঠামোর চাপ কমাতে ২০১৫ সালে নতুন প্রশাসনিক রাজধানী নির্মাণের ঘোষণা দেন মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি।
কায়রো মহানগর এলাকায় দুই কোটির বেশি মানুষ বসবাস করে। সরু রাস্তা, পুরোনো ভবন, শব্দদূষণ ও দীর্ঘ যানজট এখানকার প্রতিদিনের সমস্যা। নতুন রাজধানীকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শহর হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার সেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠান, তথ্যকেন্দ্র ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করছে।
বেশি ভাড়ায় কমছে সাধারণ মানুষের আগ্রহ
মনোরেলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এর ভাড়া। অনেক স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, নিয়মিত যাতায়াতের জন্য এই ভাড়া অনেক বেশি।
একদিকে মেট্রো ও সাধারণ রেল ব্যবস্থার টিকিটের তুলনায় মনোরেলের ভাড়া দুই থেকে চার গুণ বেশি, অন্যদিকে দেশটির মানুষের জীবনযাত্রার খরচও বেড়েছে। ফলে অনেক কর্মজীবী প্রতিদিন এই পরিবহন ব্যবহার করতে পারছেন না।
অর্থনৈতিক চাপেও থেমে নেই উন্নয়নের চেষ্টা
নতুন রাজধানী প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ করা যায়নি। শ্রম সংকট, নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির কারণে কাজ পিছিয়ে গেছে। একই সঙ্গে নতুন শহরে পর্যাপ্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান না আসায় মনোরেলের যাত্রী সংখ্যাও প্রত্যাশামতো বাড়ছে না।
মিশর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থনৈতিক চাপ, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও বৈদেশিক ঋণের বোঝার মুখোমুখি হয়েছে। এসব কারণে উন্নয়ন প্রকল্প চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নিয়েও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
ভবিষ্যতের পরিবহন নাকি ব্যয়বহুল স্বপ্ন?
মিশরের মনোরেল প্রকল্প আধুনিক নগর পরিবহনের নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে ভাড়া না এলে এই বিশাল অবকাঠামো প্রকল্প কতটা সফল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















